ডিম্বকোষ, যকৃৎ, পাকস্থলী, প্যানক্রিয়াস, খাদ্যনালী, মলাশয় ও স্তনের ক্যানসারের টিউমার নাকি ভবিষ্যতে শুধুমাত্র একটি রক্তপরীক্ষা থেকেই ধরা পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন৷ আরো বড় কথা হলো, এই রক্তপরীক্ষায় যখন ক্যানসার ধরা পড়বে, তখনও তা ছড়ায়নি বা বিশেষ বড় হয়নি, অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷ এর ফলে কেমোথেরাপির দরকার পড়বে না, একটি ছোট অপারেশনেই টিউমার বাদ দেওয়া চলবে – তা ছড়ানোর আগেই৷
আপনি কী ভাবছেন?
এখানে ক্লিক করুন ও আলোচনায় যোগ দিন
বহুবছর ধরে বিজ্ঞানীরা তথাকথিত ‘লিকুইড বায়োপ্সি'-র খোঁজে আছেন – যার অর্থ, শরীরের কোষসমষ্টি পরীক্ষা না করে রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করে টিউমারের উপস্থিতি নির্ধারণ করা৷ এমনকি এ ধরণের স্ক্রিনিং নিয়মিত হেল্থ চেক-এর অংশ হতে পারে৷ বালটিমোরের জন হপকিন্স স্কুল অফ মেডিসিনের বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণার ফলাফল ‘সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশ করেছেন ও সংশ্লিষ্ট রক্তপরীক্ষাটির নাম দিয়েছেন ‘ক্যানসার-সিক' (ক্যানসারএসইইকে)৷
শরীরের কোষ যখন ক্যানসারগ্রস্ত হয়, তখন সেই কোষের জেনেটিক পরিবর্তন ঘটে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোষটি এমনভাবে বদলে যায় যে, সেই কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে৷ একটি টিউমার সেল মরলে, তার অবশিষ্টাংশ প্রায়ই রক্ত গিয়ে পড়ে – তখন সেই রক্ত পরীক্ষা করে ক্যানসার-সংক্রান্ত জিন ও প্রোটিনের উপস্থিতি নির্ণয় করা সম্ভব হয়৷ ‘ক্যানসার-সিক' পরীক্ষায় ক্যানসার সেলের আটটি প্রোটিন ও ১৬টি জেনেটিক মিউটেশন বা পরিবর্তন ধরা পড়ে৷
শুধু আট ধরনের ক্যানসার কেন? এ প্রশ্নের জবাবে ‘সায়েন্স' পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধটির মূল রচয়িতা জোশুয়া কোহেন জানিয়েছেন যে, তথাকথিত ‘টিউমার মার্কার'-দের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কারণ, এর ফলে টেস্টে ভুল ‘পজিটিভ' ফলাফল দেখানোর সম্ভাবনা হ্রাস পাবে ও টেস্টটির দামও কম থাকবে – শেষমেষ এই স্ক্রিনিংয়ের খরচ ৫০০ ডলারের কম করার আশা রাখেন বিজ্ঞানীরা৷ তবে এই টেস্ট রুটিন চেক-আপের অঙ্গ হয়ে উঠতে এখনও বেশ কিছু সময় লাগবে৷

No comments:
Post a Comment