রথ উৎসবে জনজোয়ারে ভাসল হুগলি - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 25 June 2017

রথ উৎসবে জনজোয়ারে ভাসল হুগলি

শ্রীরামপুরের মাহেশ, গুপ্তিপাড়া, চন্দননগর, দশঘড়া সহ জেলার একাধিক জায়গার রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নক্ষত্র সমাবেশ ঘটল রবিবার দুপুরে ভক্তদের উন্মাদনায় জগন্নাথদেব বলরাম ও সুবদ্রারা গেলেন মাসীর বাড়ি। এদিন দুপুরে রথের টান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের ভক্তি আর উহ্লাসের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল মাহেশের পূর্নাথীদের। লক্ষ্যাধিক ভক্তের উপস্থিতিতে জগ্ননাথদেব এদিন মাসির বাড়ি যাত্রা শুরু করেন। শ্রীরামপুরের এই রথযাত্রা দেখতে জেলা ছাড়িয়ে আশেপাশের জেলা থেকে প্রচুর পূর্নাথীরা মাহেশে ভীড় জমিয়েছিলেন

শ্রীরামপুরে মাহেশের রথ উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন নক্ষত্র সমাবেশ ঘটেছিল। রথের টান শুরুর সময়ে মাহেশে হাজির হন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত, সাংসদ কল্যান বন্দোপাধ্যায় সহ বিজেপির রাজ্যের সাধারন সম্পাদক সুভাষ সরকার ও বিজেপির জেলা সভাপতি ভাষ্কর ভট্টাচার্য। এদিন রথযাত্রাকে সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ন করতে জেলা পুলিশ ব্যাপকভাবে তৎপর ছিল। এদিন বিশেষ নজরদারীর জন্যে পুলিশের তরফে ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। ছিল কয়েকশো পুলিশ কর্মী। রথযাত্রা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্যের সাধারন সম্পাদক সুভাষ সরকার বলেন, ২০১৭ সালের রথযাত্রা যেন রথযাত্রার শুভযাত্রায় পরিনত হয়। যা অন্ধোকার পরিস্থিতি, অশান্তির পরিস্থিতি থেকে আইনের শাষন না থাকার অন্ধোকার থেকে শান্তির আলোয় গনতন্ত্রের আলোর দিকেই যাত্রা হয়।

৬২১ বছরে পড়ল শ্রীরামপুরের মাহেশের এই রথ। জগন্নাথ মন্দিরে এই বিগ্রহ গুলির পুজো হয়ে আসছে। প্রতি বছর এই বিগ্রহগুলির অঙ্গরাগ সংস্কার হয় মাত্র। কিন্তু মূল কাঠামোর কোনও রুপ পরিবর্তন হয়না। পুরীতে প্রতি ১২ বছর অন্তর মুর্তির পরিবর্তন হলেও মাহেশের মুর্তির কোনও পরিবর্তন হয়না। রীতি মেনে তিথি নক্ষত্র দেখে মন্দির সংলগ্ন স্নান পিড়ির মাঠে জগ্ননাথ, বলরাম ও সুবদ্রাকে স্নান করানোর সঙ্গে সঙ্গেই সামগ্রীক ভাবেই শ্রীরামপুর মাহেশে রথযাত্রার প্রাক প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। কথিত আছে, শ্রীরামপুরের মাহেশের এই জগন্নাথ মন্দিরে চৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদার আগমনে এই ভুমি পূর্নভুমিতে পরিনত হয়েছে। রথের রশিতে টান দিতে সয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাহেশে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন, মাহেশ জিউ টাষ্টি বোর্ডের সম্পাদক সৌমেন অধিকারী।

অন্যদিকে গুপ্তিপাড়ার রথ ২৭৬ বছরে পদার্পন করল। ১৭৪০ সালে এই রথ উৎসব শুরু করেন মধুসুদানন্দ। পুরীর রথের সঙ্গে গুপ্তিপাড়ার রথের পার্থক্য হল, পুরীর রথকে জগন্নাথ দেবের রথ বলে। আর গুপ্তিপাড়ার রথকে বলে বৃন্দাবন জীউর রথ। গুপ্তিপাড়ার রথের বৈশিষ্ঠ হল, এখানে ভান্ডার লুট হয়। ভারতবর্ষের কোথাও এই ভান্ডার লুট হয়না।
শ্রীরামপুরের পাশাপাশি রথ উৎসবকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল চন্দননগর ও গুপ্তিপাড়ায়। ১৭৫৮ খ্রীষ্টাব্দে যাদু ঘোষ নামে এক ব্যাবসায়ী স্বপ্নে আদেশ পেয়ে রথ ও মন্দির দুই তৈরি করেন। প্রথম দিকে এই রথটি কাঠের থাকলেও বর্তমানে রথটি লৌহ দ্বারা নির্মিত।

শ্রীরামপুর, চন্দননগর ও গুপ্তিপাড়া ছাড়াও বিজেপির তরফ থেকে বিভিন্য জায়গায় রথ বেড় করা হয়। চুঁচুড়ায় ফুলপুকুর রথযাত্রা কমিটির রথযাত্রা হাজির ছিলেন বিজেপির ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি স্বপন পাল। ভদ্রেশ্বরে রথযাত্রায় হাজির ছিলেন, বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী ও বিজেপির জেলার সহ সভাপতি সুবীর নাগ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad