ত্রান দিতে গিয়ে বন্যা
দুর্গতদের হাতে আক্রান্ত হলেন তৃণমূল নেতা ও তার দলবল। এই ঘটনায় পুলিশকেও বেধরক
মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ।
ভাংচুর করা হয় পুলিশের গাড়িও। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে
তারকেশ্বর থানার কেশবচক জিপির মোহনবাটী এলাকায়। এই ঘটনায় আক্রান্ত হন তারকেশ্বর
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুন্ডু সহ একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের তারকেশ্বর
গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। এই ঘটনার জেরে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে
পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে
জানা গিয়েছে, ডিভিসির জলে তারকেশ্বরের কেশবচক জিপির বিভিন্য এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যা দুর্গত এলাকার ত্রান না এসে পৌঁছনোয় ক্ষোভে ফুঁষছিল এলাকাবাসী। শুক্রবার দুপুরে কেশবচকের মোহনবাটী এলাকায় তৃণমূল
নেতারা ত্রান নিয়ে পৌছতেই ওই এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বন্যা দুর্গত মানুষদের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের শুরু হয় তুমুল বচসা। সেই বচসা থেকেই
বেধরক মারধর করা হয় তৃণমূলের নেতাদের। এই ঘটনায় পুলিশ কর্মীদেরও মারধোর করা হয় বলে
অভিযোগ। ভাংচুর করা পুলিশের একটি গাড়ি। এই ঘটনায় খবর সংগ্রহ করতে গেলে
সাংবাদিকদেরও মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ।
বিশেষ সূত্রের খবর,
বন্যা দুর্গতদের জন্যে সিপিএমের তরফে ওই একালায় একটি ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল।
সেখান থেকেই বন্যা দুর্গতদের ত্রান দেওয়ার কাজ চলছিল। জলমগ্ন হওয়ার ২দিন পরও
সরকারী ত্রান ওই এলাকায় এসে না পৌঁছনোয় ওই এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে
উঠেছিল। এই ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের ক্ষোভ জমছিল পুলিশের উপরেও। এদিন পুলিশের গাড়ি
ভাংচুরের ঘটনাই ক্ষোভের কারন বলে মনে করছেন ওই এলাকার একাংশ মানুষজন।
এই বিষয়ে
তারকেশ্বরের সিপিএম নেতা স্নেহাষিশ রায় বলেন, ওই এলাকার মানুষজন কয়েকদিন ধরে ত্রান
পাচ্ছিলেন না। তার উপর এদিন তৃণমূল নেতারা মোহনবাটী এলাকায় ঢুকেই আমাদের ক্যাম্পটা ভেঙে দেয়।
আক্রমন করা হয় আমাদের কয়েকজন কর্মীকে। এই ঘটনায় ওই এলাকার মানুষজন শুধু মাত্র
প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তারকেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা স্বপন
সামন্ত বলেন, ওই এলাকায় সিপিএম পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূলের উপর হামলা চালিয়েছে। যদিও
পুলিশের গাড়ি ভাংচুরের বিষয়ে জানতে চন্দননগরের এসডিপিও ও ওসি তারকেশ্বরকে ফোন করা
হলে তারা কেউই ফোন ধরেননি। তাই পুলিশের কোনও প্রতিক্রীয়াও জানা যায়নি। এই প্রসঙ্গে
জানতে তারকেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম কুন্ডুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন
ধরেননি। তাই তার প্রতিক্রীয়াও জানা যায়নি।




No comments:
Post a Comment