নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগদা: ভয়াবহ আগুনে বাড়ির ভিতরে সব পুড়ে ছাঁই। তবে ফাইলে থাকা মৃতদের কাগজ পত্র, আঠেরো লিটার কেরোসিন আর গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগেনি। কয়েক বছর ধরে চলা অলৌকিক তান্ডবের পর আগুন লাগার পর গৃহস্থ বাড়ি ছাড়তেই সব শান্ত।
আলমারির ভিতর থেকে কাপড় পোড়া গন্ধ ও ধোয়া বের হলেও আগুন দেখা যায় নি। মাসের পর মাস এই ঘটনা ঘটার পর একদিন ভয়াবহ আগুন লাগে বাড়িতে। ঘরের ভিতরের সব পুড়ে ছাই হলেও গ্যাসের সিলিন্ডার ও আঠেরো লিটার কেরোসিন ছিল অক্ষত। যা দেখে চমকে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অলৌকিক এই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা বাগদা এলাকার মাঝের পাড়ায়।
পেট্রাপোল বেনাপোল সীমান্তের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাগদা এলাকার মাঝের পাড়ার বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য বছর পাঁচেক আগে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। বাড়ির উত্তরদিকে দিকে দেড় বিঘা জমিতে শাল মেহগনি বাগান। পিছনে এবং দক্ষিন দিকে শরীক স্বজনের বসবাস। সামনের দিকে বিশাল উঠোন তারপর রাস্তা।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই বাগান দিয়ে প্রচন্ড বেগে দমকা হাওয়া যাতায়াত করত। মাঝেমধ্যেই বাড়ির ওপরে বাগান থেকে কিছু এসে পড়ার শব্দ পেতেন সকলেই। কিন্তু কিছুই দেখা যেত না। গত দুই বছর ধরে বন্ধ আলমারিতে আগুন লাগত। খুললেই দেখা যেত আগুন নেই। গত ফেব্রুয়ারির মাসের এক সকালে ইন্দ্রজিৎ বাবু বাড়িতে তালা বন্ধ করে স্ত্রীকে নিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন।এসময় বাড়িতে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুনে ঘরপুড়ে ছাই হলেও রহস্যজনক ভাবে গ্যাস ও কেরোসিনে আগুন লাগেনি।পোড়েনি মৃত তিন ব্যক্তির কাগজপত্র। এক সঙ্গে থাকলেও পুড়ে ছাই হয় জীবিতদের কাগজ পত্র। পোঁড়েনি বাড়ির মৃত তিন সদস্যের ছবি রাখা কাঠের তাক। যুক্তিহীন এহেন অলৌকিক শক্তির তান্ডবে পৈতৃক ভিটেয় বাড়ি তৈরি করেও পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারলেন না ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য। । কর্তা বাড়ি ছাড়তেই সব শান্ত হওয়ার ঘটনায় অলৌকিক শক্তিকে মানছেন এলাকার বিজ্ঞান মনস্ক পড়ুয়ারাও।
No comments:
Post a Comment