ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত পোষ্ট করে পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে পেরে সফল লস্কর ই তৈইবার বাংলা ইউনিট।
জেমবি এখন লস্কর ই তৈইবার বাংলা ইউনিট। লস্করের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী হয়েছে। ধ্বংস ও হামলার ধরণও পাল্টেছে। ফেসবুককে হাতিয়ার করে বাংলায় জাতি দাঙ্গা বাঁধিয়ে দু বারই সফল।
বাদুড়িয়া বসিরহাটের সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন জ্বালাতে ফেসবুক পোষ্ট হওয়া বিতর্কিত ছবি তৈরি করেছে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তই়বা । এমনকি বসিরহাটের বাদুড়িয়ার বাসিন্দা সৌরভ সরকারের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ছবি পোষ্টের পিছনে রয়েছে লাসারের সুপ্রতিষ্ঠিত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে সুসজ্জিত সাইবার উইং ।উত্তর চব্বিশ পরগনার পুলিশ এবিষয়ে কিছু না বললেও জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম সানডে গার্ডিয়ান লাইভ এই তথ্য দিয়েছে তাদের প্রতিবেদনে ।
ওই প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার জন্য মোদির সরকার ও আরএসএসকে দোষারোপ করলেও কোনও প্রমাণ রাজ্য সরকারের পুলিশের কাছে নেই। আসলে বিজেপি আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুলে মানুষের মনোযোগ ডাইর্ভাট করার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । এদিকে বসিরহাট তৃণমূল সুত্রের খবর , গত বৃহস্পতিবার বসিরহাটের হিংসা ছিল মুলত তৃণমূলের অর্ন্তকলহ । তৃণমূলের একাংশ তৃণমূলের তিনটি পার্টি অফিস ভেঙে আগুন দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখায়। পরে বিধায়ক দিপেন্দু বিশ্বাস আইসি নাসিম আক্তারকে নিয়ে ধড়পাকড় করতে গেলে হিংসা আরও বাড়ে।
সানডে গার্ডিয়ান লাইভের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেন । তবে এটা স্পষ্ট নয় যে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না বা সে তা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়নি। ফেসবুকে আপত্তিজনক পোস্ট পাকিস্তান ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা তৈরি করেছিল।
পুলিশ বলছে যে তারা সাক্ষ্য প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে যে এই বিতর্কিত পোস্টগুলি ভারতের বাইরে তৈরি হয়েছে। এই পোস্টগুলির তীব্রতা ছিল মুসলমানদের অনুভূতি আঘাত এবং সহিংসতা তৈরি করা। দাঙ্গা বাধাতে জামায়াত-ু-দাওয়া (লস্করদের রাজনৈতিক দল )ও সেখানে জড়ো হয়েছিল এবং পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর হামলা চালানোর জন্য ভিড়ের মিশে ছিল। সহজে আসা এবং দাঙ্গা করে পালিয়ে যেতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ২5 কিলোমিটার দূরে বদুড়িয়াকে বেছে নেয় তারা । এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় দাঙ্গা বাধাতে বাংলাদেশীরা অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে এসে বসবাস করছে অনেক আগে থেকেই । ছোট ছোট বাহিনী করে
তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল আপত্তিজনক পোস্ট জঙ্গী গোষ্ঠীর থেকে নিয়ে ভারতবর্ষে ছড়ানো। যখন এই পোস্টগুলি প্রচারিত হলেই হিংসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়াবে ।
গত কয়েক মাস থেকে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২4 পরগনা, হাওড়া ও বর্ধমান এলাকা টার্গেট করা হয়েছে । প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,
লস্কর বাংলাদেশে বসে এদেশে গভীর ভাবে অপারেটিং করছে। রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে পাকিস্তানের টাকায় বাংলার সীমান্তে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা আগেই তৈরি করা হয়েছে যা আশ্রয় স্হল হিসাবে সময়মত ব্যবহার করা হবে ।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌরভ সরকার "মোরেফেড ছবি" এর শিকার। তাই যখন পুলিশ এই প্রকাশ করেছে, তখন কেন মমতা ব্যানার্জিও এ বিষয়ে উল্লেখ করেননি? তিনি বিজেপি ও আরএসএসকে দোষারোপ করার জন্য তৎপর ছিলেন কিন্তু তিনি লস্করের ভূমিকা অস্বীকার করেছেন। যদিও উত্তর চব্বিশ পরগনার পুলিশ ছবি পোষ্টে সৌরভের ভূমিকা নিয়ে মুখে কুলুপ এটে বসে আছে।

No comments:
Post a Comment