শিক্ষক দিবসে বাচ্চাদের পড়াশুনোর তদারকি করলো টিয়ামনি
আজ শিক্ষক দিবস । আজকের দিনটি প্রতিটি বিদ্যালয় , মহাবিদ্যালয় সহ সমস্ত কোচিং সেন্টারেই শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল । কিন্তু গোয়ালতোড়ের ঢেঁকিন্যাজা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাচ্চাদের পড়াশুনোর তদারকি করলেন টিয়ামনি । কখনো ছাত্র কখনো বা শিক্ষিকা হয়ে । না টিয়ামনি কোনো মানব বা মনাবি নয় । টিয়ামনি হল একটি টিয়ে পাখি । যাকে ওই অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্রের বাচ্চারা , দিদিমনি সকলেই আদর করে টিয়ামনি বলেই ডাকে । আর সেও টিয়ামনি ডাক শুনলেই সোজা উড়ে এসে বাচ্চাদের কাছে । কখনো বই নিয়ে ঠোঁটে করে পাতা উল্টায় কখনো বা কলম , পেনসিল নিয়ে খাতায় বা শ্লেটে আঁকিবুকি কাটে । দেখলএ মনে হবে কোনো সার্কাস দেখছি । কিন্তু না এ কোনো প্রশিক্ষিত পাখি নয় । কোথায় থাকে কেউ জানে না । কিন্তু দু চার দিন ছাড়া ছাড়াই ঠিক সেন্টারে এসে উপস্থিত হয় । বাচ্চাদের সঙ্গে কিছুক্ষন কাটিয়ে পেট পুরে খিঁচুড়ি , বিস্কুট , মিষ্টি খেয়ে আবার উড়ে চলে যায় নিজের অজানা গন্তব্যে । প্রায় এক বছর ধরে এই ঘটনার সাক্ষী ওই সেন্টারের বাচ্চারা সহ সেন্টারের অন্যান্য কর্মীরা । ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমনি লক্ষীপ্রিয়া বিশ্বাস বলেন , " আজ থেকে এক বছর আগে হঠাৎ করে কোথা থেকে এই টিয়ে পাখি টি উড়ে এসে সেন্টারে আসে । বাচ্চারা ওকে খাবার দেয় । ও খুব খুশী হয়ে সে গুলি খেয়ে আবার উড়ে চলে যায় । তারপর থেকেই মাঝে মাঝে আসা শুরু করে । বাচ্চাদের সামনে বসে থাকে । কখনো তাদের বই খাতা নাড়াচাড়া করে । বাচ্চারাও ভীষন খুশি হয় ও এলে । ওরা নিজেদের হাতে টিয়ামনি কে খাইয়ে দেয় । অনেক খোঁজ করেছি কারো পোষা পাখি কিনা বা কোথায় থাকে । কিন্তু কোনো খোঁজ পায়নি । আজ শিক্ষক দিবস । আজকেও টিয়ামনি এসে হাজির হয় । আজ তো পুরো শিক্ষকের ভুমিকায় অবতির্ণ হয় । কখনো বাচ্চাদের বই উল্টাচ্ছে কখনো বা কলম নিয়ে আঁকিবুকি কাটছে তো কখনো টেবিল চেয়ারে উড়ে এসে বসছে । আজকের দিনে ওকে আমরা পেয়ে ভীষন খুশি " । শুধু দিদিমনি বা রাঁধুনী নন খুশি বাচ্চা সহ বাচ্চাদের মায়েরাও । অভিভাবিকা জবা সরেন , রিঙ্কিনি সরেন , কবিতা সরেন রা বলেন , " কোথায় থাকে আমরা কেউ জানি না । কিন্তু ও যখন সেন্টারে এসে বাচ্চাদের সঙ্গে থাকে বাচ্চারা ভীষন খুশী হয় । বাচ্চারা বাড়ি থেকে যে যা পারে ব্যাগে করে নিয়ে আনে টিয়মনির জন্য । কেউ বিস্কুট তঅই কেউ বা মুড়ি । কেউ কেউ আবার গাছের পেয়ারাও পেড়ে আনে । যদি টিয়ামনি আজকে আসে । যেদিন আসে সেদিন দেয় আর না আসলে মন খারাপ করে আবার ব্যাগে করে বাড়িতে ঘুরিয়ে নিয়ে চলে যায় । টিয়ামনির প্রতি বাচ্চাদের এই টান দেখে আমরাও বাচ্চাদের ব্যাগে বিস্কুট সহ বিভিন্ন ধরনের ফল দিই টিয়ামনি কে দেওয়ার জন্য" । সেন্টারের দিদিমনিও বলেন , " আমিও রোজ ওর জন্য মিষ্টি কিনে নিয়ে যায় । যেদিন আসে সেদিন দিই । তবে টিয়ামনি খুব ভালো । সবার হাত থেকে নিয়ে খায় পল কোনো বাচ্চা কে কোন দিন কিছু করেনা । " সেন্টারের কচি কচি পড়ুয়া আকাশ সরেন , সাগুনমনি সরেন , বৈদ্যনাথ সরেন , দেব টুডুরাও কিন্তু ওকে পেলে খুব মজা করে । তারা বলে যেদিন টিয়ামনি আসে না সেদিন খুব মন খারাপ হয় । ওর আবার রাগও আছে । টিয়ামনি বাদ দিয়ে অন্য কোনো নামে ডাকা যাবে না । একবার আমরা অন্য নামে ডেকেছিলাম । অনেকদিন আর আসেনি । তারপর রাগ কমতে পুনরায় আসে । তাই কেউ আর ওকে অন্য নামে ডাকে না "। টিয়ামনির ব্যাপারে গোয়ালতোড় রেঞ্জের রেঞ্জার বিশ্বনাথ ভঞ্জের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন , " পশু পাখিরা ভালোবাসার কাঙ্গাল । তাদের একটু যদি ভালোবাসেন দেখবেন ওরা আপনার কাছে থেকে যাবে না । এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে । ওই সেন্টারের পড়ুয়া সহ দিদিমনির কাছে ও ভালোবাসা পেয়েছে । তাই ওদের কাছে বার বার আসে । এটা একটা আমাদের সকলের কাছে দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরনা " ।

No comments:
Post a Comment