১৪ বছর ধরে পরিবারের মতো আগলে রেখেছিলেন স্কুলকে। কিছুদিনের মধ্যে বিদায় নিতে হবে তাকে। তাই চিন্তায় মর্মাহত স্কুল পড়ুয়া ও গ্রামবাসীরা। তার মধ্যেও কোথাও জেনো একটা আনন্দ ভেসে বেড়াচ্ছে স্কুল চত্তরে। যেই আনন্দ স্যারের স্মৃতি হিসাবে রাখতে চায় গোটা গ্রাম। ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুর এর পিংলার উজান হরিপদ হাইস্কুলের। ওই স্কুলে ২০০৩ সালে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন দিলীপ কুমার রাউত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্কুলের পঠন পাঠন, এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহন শুরু করেন শিক্ষক। তারপর থেকে শুরু স্কুলকে একটা জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কর্মসুচী। স্কুলের ছেলেমেয়েদের হোস্টেল, ক্লাস রুম, বাগান, সুলভ শৌচালয়, খেলার মাঠ, মিনি অডিটোরিয়াম কি করেননি তিনি? এবং তার এই সমস্ত কর্মসুচীর জন্য ২০১২ সালে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শিক্ষারত্ন পুরস্কারও পান। তার পর থেকে স্কুলকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া সব বিভাগেই সুনাম কুড়িয়েছে এই স্কুল। ২০১৫ সালে জেলার সেরা স্কুল হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছিল এই স্কুল। ২০১৬ সালে সর্বশিক্ষা মিশন থেকে জামিনী রায় পুরস্কার পেয়েছে এই স্কুল। কয়েকদিন আগে মুম্বাইয়ে এম ভি এল এ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষক দিবসের দিন মুম্বাইতে বিশেষ সন্মান পেয়েছেন এই শিক্ষক। নিজের পরিবার ভুলে এই স্কুলকেই তিলে তিলে তিলোত্তমা করেছেন তিনি। কিন্তু আনন্দের মাঝে কোথাও যেন একটা শুন্যতা তৈরি হচ্ছে স্কুলে। তাই মন খারাপ স্কুল পড়ুয়া সহ শিক্ষাকর্মী এবং গ্রামবাসীদের। কারন ৩১ শে ডিসেম্বর স্কুল থেকে বিদায় নেবেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার রাউত। স্যার চলে যাবেন শুনে খুব কস্ট হচ্ছে তাদের। আমরা অনেকবার স্যারের ক্লাস করেছি। স্যার আমাদেরকে হাতে কাজ করে সকস্ত কিছু শিখিয়েছেন। চলে যাবেন শুনে খুব কস্ট হচ্ছে জানান ছাত্র ছাত্রীরা। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করছেন গ্রামবাসীরা।
স্যারের মতো দক্ষ লোক আমরা আর পাবো কিনা জানিনা। কিন্তু স্যারের জায়গা কেউ সম্পুর্ন করতে পারবেন না। মৃদু গলায় জানান ভুগোল বিভাগের শিক্ষক অরবিন্দ বেরা।
চলে যাওয়া টা খুব কস্টের হবে। সত্যিই বেদনা দায়ক। এই স্কুলকে বড় করার পেছনে সমস্ত শিক্ষাকর্মী এবং গ্রামবাসীদের সহযোগিতা আছে, থাকবে। ছাত্র ছাত্রী এবং মানুষ এর কাজ করার ইচ্ছা থাকলে আমি বাইরে থেকেও করতে পারবো। দুঃখ চেপে হাসি মুখে বললেন প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার রাউত।

No comments:
Post a Comment