নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তার শিখরের দিকে এগোচ্ছেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকমাস আগেও বিজেপির এই তারকা নেতার ফেসবুক ওয়ালে ছবি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের সংখ্যা ছিল একশোর কিছু বেশি।সংবাদ শিরোনামে ছিল না বললেই চলে। বিজেপি বাংলা টিমে তারকা মুখ বলতে সবেধন নীলমণি বলতে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ এই জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিজেপির কোনো পরিকল্পনা আজও প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি সংবাদ শিরোনামে বিজেপি নেতাদের আনতে অনীহা দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। তকমা পাওয়ার ভয়ে বঙ্গ মিডিয়াও বিজেপি দ্বিমুখ। সরকারের সমালোচনা করলে আর বিরোধীদের নিয়ে ভালো খবর করলে পত্রিকার বিক্রি বন্ধ এবং টিভি চ্যানেলে কেবল প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।
এরকম পরিস্থিতিতে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্রয় নেয় ইউটিউব প্রচারে। যদিও আগে থেকেই রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জী সহ বিজেপি বেশ কিছু রাজ্য নেতা নেত্রী ইউটিউব এবং বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছায়।এই পদ্ধতিতে তারা সফলও হয়। এর ফলে তথাকথিত সংবাদ মাধ্যম কার্যত বিজেপির কাছেও কিছুটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। কারণ বিভিন্ন বাড়িতে দিনের অধিকাংশ সময় টিভির পর্দা দখল করে থাকে জনপ্রিয় সিরিয়াল এবং সিনেমা। সব ভেবেই জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ইউটিউব ও ফেসবুকে নিজের সভার ভিডিও ছবি আপলোড করেন।গত তিনমাসে জয়ের এই চেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখেছে।
উল্লেখ্যযোগ্য হল বেশ কিছু অনলাইনে জয়ের খবর পাঠকের সংখ্যা লক্ষাধিক হয়েছে।এবং ইউটিউবে দর্শকের সংখ্যা ৯ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এই সাফল্য ব্রেকিং বাংলার নজরে আসতেই বিজেপির এই তারকা নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তিনি বলেন, গত তিন মাসে দক্ষিণবঙ্গ, দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া,মুর্শিদাবাদ, এমনকি বাঁকুড়া, পুরুলিয়াতে লাগাতার সভা করে গেছি। প্রত্যেকটি সভাতেই বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা যোগ দিয়েছেন পাশাপাশি মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতন। দক্ষিণবঙ্গের এই নয় জেলার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি বিজেপি রাজ্য নেতাদের মধ্যে দিলীপ ঘোষের পরে চাহিদা রয়েছে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিজেপির এই তারকা নেতা অন্যান্য নেতাদের মত রসকষবিহীন নন। জয়ের আক্রমণ ভঙ্গি এবং কথা বলার কৌশল নব্বইয়ের দশকের তাঁর বাংলা ছবির মতই জনপ্রিয়। সেক্ষেত্রে পার্টি কর্মীরা যেকোনো ধরনের সভার জন্য দিলীপ ঘোষের পরে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পছন্দের তালিকায় রাখেন।
যদিও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় খানিকটা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। বিজেপির অন্দরের খবর, জয়ের তারকাসুলভ ইমেজের জন্য অন্যান্য সাংগঠনিক নেতারা হিংসে করেন। এ প্রসঙ্গে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রেকিং বাংলাকে বলেন, আমাকে নিয়ে অন্য নেতাদের এই ভাবনা জানা নেই। তবে আমি মুরলিধর সেন রোডের অফিসে খুব একটা যাই না। খানিকটা আক্ষেপের সুরে জয় বলেন, মিটিং এর জন্য ডাক পাইও কম।হয়ত আমি রাজনীতির লোক নই তবে রাজনীতিটা আমি রপ্ত করছি। দলের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমার জানা নেই কিন্তু বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখেছি মানুষের মধ্যে আমাকে নিয়ে আগ্রহটা বেশ ভালো। গত তিন মাস ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকার মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছি। লাগাতার এই আক্রমণ করার ফলে বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এখন নিয়মিত আমার সংবাদ পরিবেশন করেন। বিভিন্ন জেলা থেকে ফোন পাই, ফেসবুক, ইউটিউব ও অনলাইনে আমার খবর সাধারণ মানুষ দেখেন মন্তব্য করেন এবং শেয়ারও করেন। প্রসঙ্গত পুরুষ তারকা নেতাদের তুলনায় তারকা নেত্রীদের সামাজিক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের চাহিদা বেশি। সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হোক বা লকেট বা রুপা সবার ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন দলের পুরুষ নেতাদের মধ্যে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটাই এগিয়ে উঠছেন।পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সাথে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ভিডিও দেড় লাখের উপরে মানুষ দেখেছেন। পাশাপাশি ইউটিউব ঘেটে দেখা গেছে গড়ে দর্শকের সংখ্যা তিরিশ হাজার যা অন্যান্য দলের জয় বন্দ্যোপাধ্যায় গোত্রের নেতাদের নেই। এই প্রসঙ্গে জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি রাজনীতি করতে চাই মানুষের সেবার জন্য কামানোর জন্য না।
No comments:
Post a Comment