বসিরহাট:
সাম্প্রদায়িক
উত্তেজনার পর এই লোকসভায় ভোটের সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে। এমনিতে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী
একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে ২লক্ষ ৩৩ হাজারের মত ভোট
পেয়েছিলেন। সেই ভোটে তৃণমূল প্রার্থী ইদ্রিস আলি পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৯২ হাজার ভোট। সেখানে বাম প্রার্থী ৩লক্ষ ৮২ হাজার ভোট। বিজেপি-র সমীকরণ হল
তৃণমূল বিরোধী ভোট এখানে বেশি। কিন্তু তা বাম ও বিজেপি-র মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রদায়িক হিংসার পর বামেদের ওপর আস্থা হারিয়েছি
তৃণমূল বিরোধী শক্তি। এই লোকসভা কেন্দ্র বসিরহাট (দক্ষিণ), বাদুড়িয়া-য়
বিজেপির সংগঠন বেশ মজবুত হয়েছে। তবে মুকুল রায় আসার পর হাড়োয়া, মিনাখা-তে তো
তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করার আশায় বিজেপি।
বর্ধমান-
দুর্গাপুর:
আশাতীতভাবে গত
লোকসবা ভোটে এখানে বিজেপি-র ভোট বেড়েছিল। আরএসএস সংগঠনের ভর করে বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী পেয়েছিলেন ২ লক্ষ ৩৭
হাজার ভোট। তিন নম্বরে থাকালেও কৃষি ও শিল্পের
সম্বন্বয়ে সাজানো এই লোকসভায় পদ্ম ফোটার একটা আশা দেখছে বিজেপি শিবির। এমনিতেই দুর্গাপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা সবার জানা। তারপর
এই লোকসভা কেন্দ্রটা মুকুল রায় নিজের তালুর মত চেনা। শোনা যায় তৃণমূল সাংসদ ডক্টর মমতাজ সংঘমিত্রার নামটা দিদির কাছে মুকুলই প্রস্তাব করেছিলেন।
বিজেপি-র আশা মন্তেশর আর ভাতাড়ে বামেদের ভোট ভাঙাতে পারলে আর দূর্গাপুরের দুটো কেন্দ্রে মোদী হাওয়া কাজে লাগাতে পারলে বাজিমাত হলেও হতে পারে।
মালদা:
গত লোকসভা ভোটে
বিজেপি সবচেয়ে চমকপ্রদ ফলটা এখানেই করেছিল। বলা নেই কওয়া নেই একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে দু নম্বরে উঠে এসেছিল বিজেপি।
সেখানে তৃণমূল ছিল চার নম্বরে। এই কটা বছর মালদায় মন
দিয়ে কাজ করছেন বিজেপি কর্মীরা। বামেদের ভোটেটা পাকা করতে পারলেই বাজিমাত হবে। গণিখানের গড়ে হঠাতই পদ্মলাভের আশায় বিজেপি।
মেদিনীপুর:
বিজেপির রাজ্য
সভাপতি এই লোকসভা কেন্দ্রেরই অন্তর্গত খড়গপুর সদর বিধানসভা আসনে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। আগে যখন তৃণমূলের সঙ্গে
জোট ছিল তখন এই কেন্দ্রে বিজেপি-ই প্রার্থী দিত। সেই
সংগঠন আর মুকুলের অভিজ্ঞতা ভাঙিয়ে বাজিমাত করতে চায় বিজেপি।
বারাসত:
গত লোকসভা
কেন্দ্রে বিজেপি-র হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ম্যাজিক দেখিয়েছিলেন পিসি সরকার। এই কেন্দ্রে মুকুলের একচ্ছত্র প্রভাব পাঁচটা
বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে। তাই এখানে জেতার আশায় বিজেপি।
উলুবেড়িয়া:
সুলতান আমেদের
মৃত্যুর পর এখানে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে, আর তাই মুকুলকে সামনের সারিতে রেখে এই কেন্দ্রে বাজিমাত
করতে চায় বিজেপি।
বালুরঘাট:
এই কেন্দ্রে
বিজেপি খুব জোর দিচ্ছে। মুকুলকে অতিরিক্ত দেওয়া হতে পারে এই কেন্দ্রে।
রায়গঞ্জ:
বামেদের জেতা
কেন্দ্র। কিন্তু প্রিয় গড়ে সেলিম যে আর ধরে রাখতে পারবেন না সেটা সবাই বুঝে গিয়েছে। অন্যদিকে, গতবার অল্পের জন্য হারা দীপা দাশমুন্সিও জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। সেখানে
গতবার নিমু ভৌমিক বিজেপ-র হয়ে দাঁড়িয়ে ২ লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে, যে চমকটা দিয়েছিলেন তারওপর মুকুলের তৃণূমূল করার সাংগঠনিক ক্ষমতা কাজে লাগালে বাজিমাত হতে পারে
বলে মনে করছে বিজেপি। গত লোকসভায় তৃণমূল এখানে চতুর্থ
হয়েছিল।
কোচবিহার:
এই কেন্দ্রে
বিজেপি পেয়েছিল ২১৭ হাজার ভোট। এখানেও বাজিমাত হওয়ার আশায় তৃণমূল।
আলিপুরদুয়ার:
এই আসনটাকে নিয়ে
অনেক আশা বিজেপি। শুধু ভোটপ্রাপ্তির হিসেবেই নয়, বিজেপি-র আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে এই আসন। দিল্লি
নেতাদের কাছে রিপোর্ট গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারে বিজেপির দুয়ার খুলল বলে।

No comments:
Post a Comment