২০১১ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ডেলোর বৈঠকের কথা তুলে চিটফান্ড কাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বাম নেতা গৌতম দেব।
কিছুদিন আগে বিজেপির জনসভায় রানি রাসমণি রোড থেকে সেই ডেলোর কেলেঙ্কারি নিজের মুখে ফাঁস করলেন তৃণমূলের প্রাক্তন মুকুল রায়।
সেদিন কালিম্পঙের ডেলো পাহাড়ের বনবাংলোয় মমতা ও সুদীপ্ত সেনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল?
সারদা কেলেঙ্কারিতে সুদীপ্ত সেন গ্রেফতার হওয়ার পর একটা অভিযোগ উঠেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে একাধিকবার গোপন বৈঠক করেছিলেন। যে গোপন বৈঠকের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ কথাটা নাকি হয় ডেলোতে এক গোপন আস্তানায়। কিন্তু এসব মূলত বিরোধী শিবিরের, নির্দিষ্ট করে বললে সিপিআই(এম)এর অভিযোগ ছিল। তবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পরই মুকুল রায় সেই অভিযোগে সিলমোহর দিয়েছেন।
মুকুল রায় বলেন, ডেলোর মমতা ব্যানার্জি-সুদীপ্ত সেনের বৈঠকে তিনিও ছিলেন। সঙ্গে মুকুলের দাবি ওই বৈঠকে কুণাল ঘোষ, তৎকালীন পর্যটন সচিব রাঘবেন্দ্রও ছিলেন। সারদার ব্যবসা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত আলোচনার পরে তিনি এবং কুণাল, রাঘবেন্দ্র বেরিয়ে আসেন। এখানেই মুকুল প্রশ্ন তোলেন, তিনি বেরিয়ে আসার পরও বেশ কিছুক্ষণ ধরে মমতা ও সুদীপ্ত বৈঠক করেন।
এবার দেখে নেওয়া যাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত সেনের মধ্যে বৈঠকে কী আলোচনা হয়?
বাংলায় পর্যটন, সংবাদমাধ্যম এবং অ্যাম্বুল্যান্স নামানোর জন্য মোট ৮৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। যার প্রশংসা করেন মমতা।
মমতা নাকি বলেন, বাংলার জন্য আরও উন্নয়ন করতে। উন্নয়নের জন্য সুদীপ্তর ব্যবসাকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবেন।
বিশেষ সূত্রের খবর, মমতার সঙ্গে সুদীপ্তের তিনবার মিটিং হয়েছিল(তবে এই তথ্য মমতা প্রকাশ্যে মেনে নেননি)। সূত্র বলছে, মিটিং হয়েছিল কলকাতার বিখ্যাত চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নের বাড়িতে।
গৌতম দেবের তোলা ডেলোর অভিযোগ নতুন মাত্রা পেল নতুন করে মুকুল রায়ের বার্তায়, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

No comments:
Post a Comment