নিজস্ব সংবাদদাতাঃ গ্রামবাসীদের তৎপরতায় শিবির করতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল ভুয়ো ডাক্তার।
ভিন জেলা থেকে এসে প্রত্যন্ত এলাকায় খুলে বসে ছিলেন চিকিৎসার দোকান। তবে শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হলো থানায়। গ্রামবাসীদের তৎপরতায় পুলিশের হাতে ভিন জেলা থেকে গ্রামে শিবির করতে আসা ভুয়ো ডাক্তার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরই গ্রামবাসীরাই অভিযুক্ত ডাক্তারকে তুলে দিলো পুলিশের হাতে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মানিকচক থানার বড়োবাগান এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম সন্তোষ কুমার। উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদীঘি এলাকার বাসিন্দা। ভুয়ো চিকিৎসকের সঙ্গে থাকার সন্দেহে আরো দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল থেকেই মানিকচকের বড়োবাগান এলাকায় শিবির শুরু করেছিল এই চিকিৎসক। সেই মতো চারপাশের গ্রামে প্রচারও হয়েছিলো। এই শিবিরকে ঘিরে রোগীর ভিড়ও ছিলো সকাল থেকেই চোখে পড়ার মতো।তবে বিকেল নাগাদ গ্রামবাসীদের এই চিকিৎসকের ওপর সন্দেহ হয়। চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিনি অসঙ্গতি কথা বলতে আরম্ভ করে।এরপরই গ্রামবাসীদের চেপে ধরাতেই চিকিৎসক স্বীকার করেন তিনি একজন ভুয়ো ডাক্তার। এই ভুয়ো চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে দালালদের মাধ্যমে শিবির করে চিকিৎসার দোকান চালিয়ে আসছিলো। তবে এদিন আর রক্ষা হলো না। গ্রামবাসীরা তারপরই খবর দেন পুলিশে। মানিকচক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আটক করে। সাথে পুলিশ আরো দুইজনকে আটক করেছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই চিকিৎসক অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সব রোগীর চিকিৎসার কার্যকলাপ চালাতেই আমাদের সন্দেহ হয়। তারপরই চেপে ধরতে নিজের সব দু-নম্বরি স্বীকার করে নেন। এই চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা দালালেরা পালিয়ে যায়।
এদিকে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিতে নিজের প্যাডে এমডি পদস্থ ডাক্তার হওয়ার দাবি করেছে এই ভুয়ো চিকিৎসক সন্তোষ কুমার। তবে চেপে ধরাতেই সন্তোষ কুমার ক্যামেরার সামনে স্বীকার করলেন নিজে ভুয়ো ডাক্তার হওয়ার কথা। সাথে রোগীদের আকৃষ্ট করতেই এত রকমের নানান উপাধি দিয়েছেন নিজেই। তবে তার কোনো শংসাপত্র নেই।
সরকারী হাসপাতালে অত্যাধিক রোগীর ভিড় সহ উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবার অভাবে বহু গ্রামবাসী এই সমস্ত চিকিৎসকের ওপর ভরসায় বাধ্য। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে এই সমস্ত চিকিৎসকের হাত থেকে রোগীদের বাঁচাতে গ্রাম্য এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।

No comments:
Post a Comment