অস্ত্র মিছিল অব্যাহত থাকবে রামনবমীতে। প্রয়োজনে আদালতেও দৌঁড়াবে বিজেপি এমনটা জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ।
এদিন সকালে জেলা কার্যালয় উদ্বোধনের পর একগুচ্ছ কার্যক্রম নিয়ে বের হন রাজ্য সভাপতি।
কলকাতা ও শহরতলিতে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কলকাতা পুলিশ। এই নির্দেশিকার তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে বিজেপি। রামনবমীর আগে হঠাৎ কেন এমন নির্দেশিকা তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, “মহরমের তাজিয়ার ক্ষেত্রে তো কোনও বাধা আসে না।”
কলকাতা পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও শান্তি রক্ষার্থে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ২ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত কলকাতা ও শহরতলিতে রাস্তায় অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ।
এর আগে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, “অস্ত্র নিয়ে মিছিল তো বেআইনি। তাহলে কেন এ মিছিল হবে ?” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অস্ত্র মিছিল রুখতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন দিলীপ।
এদিকে, বালুরঘাটে সভা করতে আসা দিলীপ ঘোষকে কলকাতা পুলিশের নির্দেশিকার বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এতদিন কেন প্রয়োজন হয়নি। আর যদিও বা নির্দেশিকা জারি হয়েছে তাহলে তা কেন স্থায়ীভাবে হয়নি ? এপ্রিলে রামনবমী আছে। তার আগে কেন হচ্ছে ? এটা দেখে মনে হচ্ছে, বিজেপির-র উত্থান তৃণমূল আটকাতে পারছে না। এভাবে পিছনের দরজা দিয়ে, পুলিশ দিয়ে, প্রশাসন দিয়ে জোর করে আটকাবার চেষ্টা হচ্ছে। যেটা নিয়ে কোনও ভয় নেই সেটা নিয়েই বেশি চিন্তিত ওরা। চারিদিকে বোমা-বন্দুকের কারখানা হচ্ছে, বোমা, গুলি চলছে। সেটাকে পুলিশ আটকাতে পারছে না। আমরাও দেখতে চাইছি কী হয়। দরকার হলে কোর্টে যাব। কারোর ধার্মিক অধিকার, কারোর পরম্পরাকে সরকার জোর করে বন্ধ করে দিতে পারে না। আমরা দেখে আসছি, মুসলিম সমাজ মহরমে তাজিয়া বের করে। তাতে কোনও বাধা আসে না। হিন্দুরা পরম্পরা মেনে শোভাযাত্রা বের করলে এই ধরনের ফরমান জারি করা হচ্ছে। এই ধরনের আইন রাজনৈতিক অভিসন্ধি দিয়ে করার চেষ্টা চলছে।”
মিছিলে অস্ত্র ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এর আগে গন্ডগোল হয়েছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। রামনবমী ও হনুমান জয়ন্তীতে অস্ত্রমিছিল বের করা হয় একাধিক হিন্দু সংগঠনের তরফে। যা নিয়ে প্রশাসনের তরফে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ধরপাকড়ও চলে।

No comments:
Post a Comment