মুখ্যমন্ত্রীর জীবনী বই নিয়ে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিলেন জয় ! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 21 December 2017

মুখ্যমন্ত্রীর জীবনী বই নিয়ে তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিলেন জয় !


ভয় পেয়ে তৃণমূল আমার পারিবারিক সমস্যা নিয়ে খেলছে। তৃণমূল আগুন নিয়ে খেলছে। কিচ্ছু করতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর জীবনী নিয়ে বাজারে বই বেরিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের কোনও রাজনীতিক সেই বইয়ে লেখা  কোনও ঘটনা নিয়ে কিছু বলেনা। এটাই বাংলার সংস্কৃতি। আগুন নিয়ে খেলবেন না। তাহলে সামলাতে পারবেন না। এই ভাষাতেই প্রকাশ্য সভা থেকে বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে পাল্টা আক্রমণ করলেন।

প্রসঙ্গত এই কেচ্ছা রাজনীতি শুরু করেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। জয়ের দাবি,
ছয় মাসে পঞ্চাশের বেশি সভা থেকে লক্ষাধিক মানুষকে প্রকাশ্যে গেরুয়া মুখি করেছেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দূর্ণীতি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লাগাতার আক্রমণ করে ভীড় টানছিলেন উত্তর উত্তর।

আর বিজেপির দাবি,  পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দক্ষিণ বঙ্গের আট জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জয়ের অভিনেতা সুলভ রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ভয় কার্যত পেয়েছে। জয়ের মুখ বন্ধ করতে আসরে নামানো হয়েছে প্রাক্তন স্ত্রীকে ।

প্রসঙ্গত জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘর শত্রু বিভীষণ বলে আক্রমণ করেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনন্যা তৃণমূল কংগ্রেস করেন।  গলসির এক নম্বর ব্লকে তৃণমূলের তরফে পঞ্চায়েতি রাজ সম্মেলন করা হয়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন অনন্যা। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “জয় আগে আমার সঙ্গে তৃণমূল করত। এখন হতাশা থেকে ও বিজেপি করছে। যারা বিজেপি করে তারা হতাশা থেকেই বিজেপি করে।” আজকের সম্মেলনে অরূপ বিশ্বাস ও স্বপন দেবনাথের সঙ্গে সভায় আসেন কলকাতা পৌরনিগমের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যের শুরুতেই আক্রমণ করেন জয়কে। তাঁর কথায়, “আমি আর জয় আগে একসঙ্গে তৃণমূল করতাম। ও এখন ভারতীয় জনতা পার্টি করছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, ও হতাশা থেকে বিজেপি করছে। যারা ভারতীয় জনতা পার্টি করছে তাদের না আছে কোনও আদর্শ, না আছে কোনও বিশ্বাস। ঘরে ঘরে এরকম ঘর শত্রু বিভীষণ আছে। প্রথম কাজ তাদের চিহ্নিত করা। বন্ধুরূপী বিভীষণ বা পরিবারের মধ্যে যেই বিভীষণ আছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে এই পঞ্চায়েত ভোটের আগে।”অনন্যা ব্যানার্জির এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতির মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন কোন হতাশা থেকে জয় তৃণমূল করছে? তৃণমূল করার সময় কেউ কি তাকে আশা দিয়েছিল? কী সেই আশা? অনন্যা তা খোলসা করলেন না কেন? অনন্যা নিজেও কি কোনও আশা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস করছেন?

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর ভেঙেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বছর ২৮ জুন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের নথির প্রতিলিপি রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠিয়েছিল।
সুত্রের খবর, জয়কে আটকাতে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ
অরুপ বিশ্বাসকে ফোন করেন। স্বপনের গলসিতে একের পর এক সভা করে জয় তৃণমূলের মাটি নরম করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গলসিতে জয় যেখানে শেষবার সভা করেছিল ঠিক তার পাশেই সভা করে তৃণমূল। ওই সভায় হাজির করা হয় জয়ের প্রাক্তন স্ত্রী অনন্যাকে।  জয় এবং অনন্যা প্রাক্তন দম্পতির ঘনিষ্টের দাবি, বিচ্ছেদের সময় দুজনেই দুজনের কাছে মৌখিক কথা দেন ব্যক্তিগত জীবনের এই বিচ্ছেদের ঘটনা রাজনৈতিক মঞ্চে আনবেন না কেউই। তারপরও তৃণমূল নেত্রী অনন্যা জয়কে নিয়ে মুখ খোলেন।

অনন্যার হতাশা সম্পর্কে জয় বলেন, কি পাওয়ার আশা ছিল আমার ।টাকা পয়সা যা আছে তাতেই চলে যায়। অর্থ লোভ নেই আমার। মানুষের সেবা করতে চাই। নরেন্দ্র মোদীকে ভালো লাগে। লোকটার অ্যাম্বিশনিং মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে বিজেপিতে যোগ দেই। পাওয়ার লোভের মানসিকতা থাকলে তৃণমূলে থেকে ঠিক কোটিপতি হতাম বাকিদের মত। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তাম না। যিনি আমার সম্পর্কে বলেছেন তিনি কতটা ঠিক বলেছেন নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। আর বিচ্ছেদের কমিটমেন্ট সম্পর্কে জয় বলেন, রাজনীতি করতে এসে ঘরের সমস্যা নিয়ে ভোট ব্যাসাতি করতে চাইনা। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad