‘সবং বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফলে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীরাই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধান শক্তি, যারা তৃণমূল এবং বি জে পি-র বিরুদ্ধে একটি প্রকৃত বিকল্প দিতে পারে।’ রবিবার জলপাইগুড়িতে সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেছেন।
তিনি এদিন বলেছেন, ‘নির্বাচনী ফলাফলের যথেষ্ট পর্যালোচনা আমরা এখনো করিনি। তবে প্রাথমিকভাবে বলাই যায় যে আবারও প্রমাণিত হলো, বামপন্থীরাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রধান শক্তি। বামপন্থীরাই তৃণমূল এবং বি জে পি-র বিরুদ্ধে প্রকৃত বিকল্প দিতে পারে। ‘তৃণমূল হঠাও বাংলা বাঁচাও, বি জে পি হঠাও দেশ বাঁচাও’- আমাদের এই স্লোগান বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আমরা আবারও রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করছি, যারাই তৃণমূল এবং বি জে পি-কে পরাস্ত করতে চান তাঁরা এই লড়াইতে বামপন্থীদের সঙ্গে আসুন। আমরাই প্রকৃত বিকল্প দিতে পারবো।’
তৃণমূলের বিরাট ব্যবধানে জয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সূর্য মিশ্র বলেছেন, ‘আমরা সবাই দেখেছি সবংয়ে ভোট কীভাবে হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিনেই আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছিলো যে ৬৯টি বুথে তৃণমূলের সন্ত্রাসে আমাদের পার্টির পোলিং এজেন্টরা বসতে পারেননি। ভোটের আগের রাত থেকে তৃণমূলের হামলা চলেছে। তাঁদের আক্রমণে কারো হাত ভেঙেছে, কারো পা ভেঙেছে। মহিলারাও রেহাই পাননি। আক্রান্তদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, একজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় প্রতিরোধ হয়েছে। কোথাও কম, কোথাও বেশি শাসকদল ছাপ্পা ভোট দিয়েছে, ৮০টি বুথে ভোট লুট করেছে। কিন্তু লক্ষ্যণীয় হলো, প্রতিরোধের প্রবণতাও ক্রমশ বেড়েছে। এই প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই তৃণমূল এবং বি জে পি-র বিরুদ্ধে মানুষকে সমবেত করতে হবে।’
মিশ্র বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখান। তা না হলে পঞ্চায়েত নির্বাচনসহ আগামী নির্বাচনগুলিতে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আরও তীব্র প্রতিরোধের মাধ্যমে মোকাবিলায় নামবো। যে পরিস্থিতি তৈরি হবে তার দায়িত্বও সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপরেই বর্তাবে।’

No comments:
Post a Comment