চাঁদনী, দিঘা: দিঘা বীচে এক অভিনব কায়দায় আয়োজিত ফেস্টিভ্যালে অংশীদারীদের নাম উঠতে চলেছে গিনিস বুকে এমনটাই খবর। জানা গিয়েছে, দিঘা বীচ ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ হাজার জন মহিলা এক সঙ্গে শঙ্খ বাজাবেন যাতে গিনিস বুকে জায়গা করে নিতে পারে। তার জন্য তৎপর জেলা প্রশাসন। দিঘার দত্তপুরে সমুদ্র বিচে এরই আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৪৯ টি ক্যামেরা ১৫০ টি চোঙ ব্যবহার করা হয়েছে যাতে এক সঙ্গে ভিডিও ও অডিও রেকর্ডিং করা হবে। গিনিস বুকের পক্ষ থেকে ৬ জন অডিটার এসেছেন। প্রত্যেক মহিলাকে বারকোড লাগানো আইকার্ড দেওয়া হয়েছে সেই কার্ড দেখিয়ে এই অভিনব উদ্যোগে অংশ নিতে হচ্ছে তাদের।
দিঘায় অনুষ্ঠিত সৈকত উৎসবে একই সঙ্গে সাড়ে ৫ হাজার মহিলা, স্কুল ছাত্রী শাঁখে ফুঁ দিয়ে ভাঙলেন বিশ্ব রেকর্ড। যা লিপিবদ্ধ হল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে। এর আগে বাহামা দেশে ২০১৪ সালে ২৯৫ জন মহিলা শঙ্খধনীতে নাম তুলেছিলেন গিনেস বুকে। সৈকতের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে অবিচল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর অনুপ্রেরণায় গতি এসেছে দিঘা,মন্দারমণি এবং তাজপুরের পর্যটনে।বাংলার এই পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশবিদেশে পৌঁছে দেওয়া লক্ষ্যেই এবার জাঁকজমকপূর্ণ বেঙ্গল বিচ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। উৎসবের সূচনায় বুধবারই শঙ্খধনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন আবহাওয়া প্ৰতিকূলের কারণে শঙ্খধনী বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় শঙ্খধনী। দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্নপ্রান্ত থেকে স্কুল- কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা হাতে শাঁখ নিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
এরপর বিকেল ৪ টা নাগাদ ওশিয়ানা সৈকতে লালপেড়ে শাড়ি পরেই লাইন ধরে শাঁখে ফুঁ দিতে শুরু করেন মহিলারা। আবহের সুরে সুরে টানা আধাঘন্টা ধরে শঙ্খধনীতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা সৈকত। যার প্রশংসা করলেন গিনেস বুকের প্রতিনিধিরাও। সাংসদ শিশির অধিকারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, শুরু থেকেই দিঘাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রের মর্যাদা দেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত এই অনুষ্ঠান গিনেস বুকে লিপিবদ্ধ হবে এবং যা বিশ্বের মানুষের কাছে দিঘার সম্পর্কে নতুন পরিচিতি তৈরি করবে। শঙ্খধনী ছাড়াও দ্বিতীয়দিনের বিচ ফেস্টিভ্যালের অন্যতম দুই আকর্ষণ ছিল মন্দারমণিতে বিচ ম্যারাথন এবং তাজপুরে বিচ ভলিবল। শীতের মরসুমে সৈকত ভ্রমণে এসে একই সঙ্গে এমন সমস্ত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে রীতিমতো খুশি পর্যটকেরাও। কলকাতার বেহালার বাসিন্দা সৈকত মিত্র, ভবানীপুরের সুরেশ হালদার,মেদিনীপুরের প্রীতম ঘোষের জানালেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান সাধারণত গোয়া কিংবা কেরলের সৈকতে অনুষ্ঠিত হত।



No comments:
Post a Comment