ব্রেকিং: জেলে বসেই ফোনে তোলাবাজির হুমকি! তারপর কি হল জানলে চক্ষুচড়কগাছ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 30 December 2017

ব্রেকিং: জেলে বসেই ফোনে তোলাবাজির হুমকি! তারপর কি হল জানলে চক্ষুচড়কগাছ



জেলে বসেই তোলা চেয়ে ফনে হুমকি এল প্রমোটারের কাছে। প্রমোটাররের অনুপস্থিতিতে মারধোর তার সাইট ম্যানেজারকে। দুষ্কৃতিরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নির্মীয়মাণ বহুতলের অফিসে ঢুকে সেখানে ভাঙচুরও করে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত সাইট ম্যানেজারের নাম শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি কদমতলা এলাকার বাসিন্দা। সেই  নির্মাণ সংস্থার সাইট ম্যানেজারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১লক্ষ টাকা দাবী করল সেই দুষ্কৃতিরা। এই ঘটনায় আতঙ্কে আক্রান্ত সাইট ম্যানেজার  সহ প্রমোটার এবং নির্মান কর্মীরা।

নির্মিয়মান বহুতলটি হাওড়ার ব্যাটরা থানার পাশেই ১৫৭/১/১, নরসিংহ দত্ত রোডে। সেই  নির্মীয়মাণ বহুতলটি হাওড়ার কদমতলা বাজারে। সেই কারনে সেই এলাকায় সব সময় মানুষের যাতায়াত। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই দুষ্কৃতি পিস্তল নিয়ে হানা দেয়। হাওড়ার কদমতলার মোড়ের পাশেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তৈরি হচ্ছে একটি ৬তলা বিশিষ্ট এই ফ্ল্যাটটি। নির্মাণের কাজ এগিয়ে গেছে অনেকটাই। দোতলার একটি ফ্ল্যাটকে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে সাইট অফিস। ঘরের মাঝখানে একটি টেবিলকে ঘিরে বয়েছে বেশ কয়েকটি চেয়ার। একটি দেওয়ালে লাগানো রয়েছে টেলিভিশান। এক ধারে রাখা ছিল একটি রঙ্গীন মাছ ভর্তি অ্যাকোয়ারিয়াম। এই অফিস ঘরেই বৃহস্পতিবার বসে ছিলেন ম্যানেজার শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ হঠাই বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই অফিসঘরে ঢুকে পড়ে দুই দুষ্কৃতি। আনুমানিক তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছর। তাদের মুখ কাপড় বাঁধা। দুজনের হাতে  ছিল পিস্তল। অফিসে এসে তারা  ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয় শঙ্করবাবুকে। মাথায় পিস্তলের বাঁট দিয়ে মারলে তা শঙ্করবাবু হাত দিয়ে আটকে নিজেকে রক্ষা করেন। তাকে দুষ্কৃতিরা বলে ‘গুলি কি করে হাত দিয়ে আটকাস দেখব’ বলে দুষ্কৃতিরা শাসায় তাকে।। শঙ্করবাবুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রথমে ৫লক্ষ টাকা দাবী করেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। পরে প্রমোটার না থাকায় ১লক্ষ টাকা দিতে বলে উপস্থিত সেই দুষ্কৃতিরা । ঘরে ঢোকার আগে থেকেই এক দুষ্কৃতি মোবাইল ফোনে কথা বলে যাচ্ছিল। প্রমোটার অফিসে না থাকায় শঙ্করবাবুর সঙ্গে  কথা বলিয়ে দেয় পান্ডার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। সেই পান্ডা নিজেকে  বিনোদ সিং নামে পরিচয় দেয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে প্রমোটারকে গুলি করার হুমকিও দেয় দুষ্কৃতিদের পান্ডা। এরপরেই ঘরের মধ্যে থাকা রঙ্গিন মাছ ভর্তি অ্যাকোয়ারিয়ামটি পিস্তলের বাঁট দিয়ে ভেঙ্গে দেয় তারা। ভাঙচুর চালায় অফিস ঘরে। শঙ্করবাবুকে তল্লাশি করে তাঁর পকেটে থাকা শ’দুয়েক টাকা ও কিছু কাগজপত্র এবং তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয় তারা। টাকা ও কাগজপত্র মাটিতে ফেলে দিলেও মোবাইল ফোনটি কাছেই রাখে দেয়। পরে শঙ্করবাবুকে দেওয়ালে মুখ দিয়ে তাদের দিকে পেছন ফিরে দাড়াতে বাধ্য করা তারা এরপরেই চুপচাপ সরে পরে দুষ্কৃতিরা। বেশ কিছুক্ষন তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে পিছন ফিরে তাদের দেখতে না পেয়ে নিজের মোবাইল খুঁজতে শুরু করেন। অবশেষে  শঙ্করবাবু লিফটের জায়গা থেকে খুজে পান তাঁর মোবাইল। সেই ফোন থেকে ফোন করেন প্রমোটার জ্যোতির্ময় রায়কে। ততক্ষনে কেটে গেছে প্রায় আধ ঘন্টা। খবর পেয়ে  প্রমোটার আসেন ঘটনাস্থলে। সেখানে এসে তারা   রাত্রিবেলায় থানায় অভিযোগ জানান। তবে কে এই বিনোদ সিং সে বিষয়ে আলোকপাত করতে পারেননি জ্যোতির্ময় বাবু থেকে শঙ্করবাবু সকলেই।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় বিনোদ সিং এক নামকরা তোলাবাজ। বর্তমানে এক মামলায় সে এখন জেলে আছে। ব্যাঁটরা থানার এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত দুই দুষ্কৃতীকে শনাক্তও করা গেছে বলে পুলিশের দাবি। খুব তাড়াতাড়ি তাদের ধরা সম্ভব হবে বলেও পুলিশের দাবি। তাদের গ্রেফতারের পর বিষয়টি জানা যাবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad