শীতের সকালে আগুনের তাণ্ডবলীলা দেখলো এলাকাবাসী। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ আগুনে ভস্মিভূত হয়ে গেল বাড়ির দোতলার সমস্ত আসবাবপত্র । প্রথমে এলাকাবাসীরাই চালালো রেসকিউ অপারেশন।রীতিমতো নাইলনের ব্যাগে করে দোতলার ঘর থেকে তিন মাসের শিশু কন্যাকে নামানো হল নীচে। এরপর দমকল বাহিনী এসে বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করে তিন জন মহিলাকে। ঘণ্টাখানেকের প্রচেষ্টায় দমকলের একটি ইঞ্জিনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এল। মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চুঁচুড়া থানার অন্তর্গত ব্যান্ডেল চার্চের কাছে অন্নপূর্ণা কলোনিতে। ওই এলাকায় সঞ্জয় সাহার বাড়িতে আজ সকালে আগুন লাগে। বাড়ির ছোটরা প্রথমে বাড়ির দোতলায় সেই আগুন দেখতে পায়। ছোটদের চিত্কার চেঁচামেচিতে নিজ থেকে তিনজন মহিলা ছোটদের নীচে নামিয়ে নিয়ে এলেও তাঁরা নামতে না পেরে ছাদে উঠে যায়। যদিও আগুনের তীব্রতায় দোতলায় ঘুমিয়ে থাকা তিন মাসের শিশুকন্যাকে তাঁরা উদ্ধার করতে পারেনি । ছাদের উপর থেকেই ওই তিন মহিলা এলাকাবাসীদের উদ্দেশে চিত্কার শুরু করে।
এলাকাবাসীরা সাত পাঁচ না ভেবে কোনওক্রমে মই জোগাড় করে ওই বাড়ির দোতলা থেকে নাইলনের ব্যাগে করে দড়ির সাহায্যে শিশুটিকে নিচে নামায়। এর পরই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দমকলের একটি ইঞ্জিন । দমকল কর্মীরা প্রথমে বাড়ির ছাদ থেকে ওই তিন মহিলাকে উদ্ধার করে । এর পর দমকল বাহিনী ও এলাকাবাসীরা আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়।প্রসঙ্গত সাহা পরিবার মশারির কারবারের সাথে যুক্ত থাকায় ওই বাড়িতে লাট করে সাজানো ছিল মশারি । তাই মশারির মতো দাহ্যবস্তু থাকায় আগুনও ভয়াবহ রূপ নিতে সময় নেয়নি। দমকল বাহিনীর প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল সাড়ে আটটায় এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও তা কী করে লাগল সে নিয়ে ধন্দে রয়েছে সকলেই।শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কিছু সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।


No comments:
Post a Comment