কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারি : জমি দখলের জন্যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এক ব্যবসায়ীকে জেল খাটানোর অভিযোগ উঠল অপর এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ডানকুনি থানার দক্ষিন সুভাষ পল্লি টিএম মুখার্জী রোড তথা ডানকুনি ফ্লাইওভারের পাশে।
ওই জায়গার দাগ নম্বর ৬১৯। খতিয়ান নম্বর ৬২৯১। দীর্ঘ দিনের ওই জমিতে তিনটে দোকান রয়েছে। ওই জমির বর্তমান মালিক তিন ভাই। নাম সমীর ধোলে, রাজু ধোলে ও সুভাষ ধোলে।
এই জমির পেছনে একটি ফাঁকা জমি রয়েছে। তার দাগ নম্বর ৬১৮। ওই ৬১৮ নম্বর দাগের জমির মালিকের নাম সঞ্জিব ঘোষ। তিনি ওই এলাকার একজন কয়লার ব্যবসায়ী বলে বলে পরিচিত।
অভিযোগ, ৬১৮ দাগের জমিটা প্রমোটিং করার জন্যে ৬১৯ নম্বর দাগের ফ্রন্ট জমিটার প্রয়োজন। তাই ৬১৮ নম্বর দাগের জমির ফ্রন্ট অর্থাৎ ৬১৯ নম্বর দাগের জমিটা যেন তেন প্রকারেন ফাঁকা চাইছেন ওই সঞ্জিব ঘোষ। ওই কয়লা ব্যবসায়ী ডানকুনির পুলিশ ও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে ৬১৯ নম্বর দাগের ওই জমিটা ফাঁকা করতে চাইছেন। অন্তত এমনটাই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অপর ব্যবসায়ী সমীর ধোলে ও তার দুই ভাই।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সার্ভেয়ার ও পুলিশের সহযোগীতায় ৬১৮ নম্বর দাগের মালিক তার জমিটা পরিষ্কার করেন। পাশাপাশি ৬১৯ নম্বর দাগের জমিতে থাকা কয়েকটি দোকান জেসিপি দিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ৬১৯ নম্বর দাগের জমির মালিক সমীর ধোলে দোকান ভাঙতে বাঁধা দেন। এই ঘটনায় ওই দিনই দুপুরে জমির মালিককে পুলিশ গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলা দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জমির মালিক তথা সমীর ধোলেকে জেল খাটতে হয় বলে অভিযোগ। এরপর ওই জমির মালিক জামিনে মুক্ত হন। জেল খেটে বেড়িয়ে জমির মালিক সমীর ধোলে অভিযোগ করে বলেন, কয়লা ব্যবসায়ী, পুলিশ ও শাসক দলের কয়েকজন নেতারা এই ভাবে সাধারন ব্যবসায়ীদের পেছনে হাত ধুঁয়ে পড়লে সাধারন মানুষ কার কাছে যাবে। একই সঙ্গে ওই কয়লা ব্যবসায়ী, পুলিশ ও তৃণমূলের কয়েকজন নেতা ষড়যন্ত্র করে বিভিন্য ভাবে আমাকে ফাঁসিয়েছেন। যার কোনও সত্যতাই নেই। তাই কোট থেকে আমার জামিন হয়ে গিয়েছে। আমি কোনও কোর্টের নির্দেশ অমান্য করিনি। কিন্তু পুলিশ এই নির্দেশ অমান্য করে আমার দোকান ভাঙতে এসেছিল। যেই আদেশ পুলিশের কাছে ছিল না। এই ঘটনায় আমি সুষ্ঠ বিচার চাই। তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পদস্ত কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্যনের জন্যে আমি অনুরোধ করছি। সাধারন মানুষের স্বার্থে তারা যেন পদক্ষেপ গ্রহন করেন। আমার দোকান ভাঙার জন্যে কোর্ট আমাকে কোনও নটিশ দেওয়া হয়নি। কোনও সমনও দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় আমি দোকান ভাঙতে বাঁধা দিলে পুলিশ আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেল খাটিয়ে দিল। আমরা কোন রাজত্বে বাস করছি। এই প্রসঙ্গে ডানকুনির তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মুখার্জী বলেন, আমি যত দূর জানি ওই দোকানের মালিক সমীর ধোলে। ওরা তিন ভাই ওই দোকান চালায় ও রক্ষানবেক্ষন করে। যদিও জমি সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে দুই-পক্ষের কেউই পুরসভায় কোনও অভিযোগ জানাননি।
পুলিশ জানিয়েছেন, কোর্টের নির্দেশে সঞ্জীব ঘোষ পুলিশ কষ্ট জমা দিয়ে তার জায়গার পজিশন দখল নিতে এসেছিল। কোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় সমীর ধোলের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। যা হয়েছে আইন মেনে হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী দীপ্তব্রত বটব্যাল বলেন, আমি একজন হুগলির বাসিন্দা তথা একজন আইনজীবী হিসেবে ডানকুনি থানার অফিসার ইনিচার্জের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার বেশ কয়েকমাস ধরে কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আদালতের দারস্ব হতে চায়। সেক্ষেত্রে তাকে আইনী সহায়তা দেওয়া হবে।



No comments:
Post a Comment