স্থায়ী জলাশয় নয়, চাষের জমি বা পতিত জমিতে জল জমে থাকলে সেখানেও রুই, কাতলা ও মৃগেলের চাষ করা সম্ভব, উচ্চ ফলনও সম্ভব। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এই নতুন পদ্ধতিতে মাছ চাষে নামছে রাজ্য মৎস্য দপ্তর। এই পাইলট প্রোজেক্টের নাম ‘ময়না মডেল’।
চাষের জমিতে জল জমা থাকাকালিন এই চাষ করে সফল হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার কয়েকজন মৎস্যজীবী। সাত আট মাসেই তারা এক-দু কেজি ওজনের রুই কাতলা উৎপাদন করেছেন।
এই পাইলট প্রোজেক্টে পাঁচটি জেলায় মত ৭৫ হেক্টর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জলাজমিগুলি যেহেতু স্থায়ী জলাশয় নয়, তাই চারপাশের পাড় বাঁধানো হয়েছে। এতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করাও সম্ভব এবং জল বাইরে বেরিয়েও যাবে না।
স্থায়ী জলাশয়গুলিতে গড়ে হেক্টরপ্রতি ১ থেকে দেড় টন মাছ উৎপাদন হয়, সেখানে এই প্রোজেক্টে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে হেক্টর প্রতি ১২ টন।
এই পাইলট প্রোজেক্টে একসঙ্গে অন্তত পাঁচ হেক্টর জলাজমি থাকতে হবে, চাষ করবে স্থায়ী সমবায় বা মৎস্যজীবী। হেক্টর প্রতি খরচ ধরা হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। তাঁর মধ্যে মাছের চারা, খাবার সহ ৮লক্ষ ৬৭হাজার টাকা ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। প্রতি হেক্টরে ২৫০ গ্রাম ওজনের ১২০০০ মাছের চারা ছাড়া হবে। এক বছরের মধ্যে এগুলির ওজন এক থেকে দু কেজি হবে। স্থায়ী জলাশয়ে সঠিক পরিচর্যা অনেক সময় হয় না। কিন্তু, এই প্রোজেক্টে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সঠিক পরিচর্যা, মাছেদের জন্য উন্নতমানের খাবার সরবরাহ, সময়ে সময়ে নজরদারি সহ প্রতিটি দিকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থায়ী জলাশয়গুলিতে মাছের প্রাকৃতিক খাবার অনেক সময় কমে যায়, কিন্তু, এই প্রোজেক্টে মাছের বিপুল প্রাকৃতিক খাবার থাকবে।

No comments:
Post a Comment