চাঁদনী, সুতাহাটা : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে সহবাস করেছিল।কিশোরী অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ে করতে অস্বীকার করে প্রেমিক। এমনকি ওই সন্তান তার নয় বলেও দাবি করে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার সুতাহাটার খানপুরের।
১৯ ডিসেম্বর হলদিয়ার মহকুমাশাসক ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানায় ১৭ বছরের ওই কিশোরী। তবে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্বেচ্ছামৃত্যুকেই বরণ করতে চায় ৯ মাসের ওই অন্তঃসত্ত্বা। কারণ, সে পুলিশের দ্বারস্থ হতেই পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে একমাস পরে যে শিশু জন্মাবে তার পিতৃপরিচয় কী হবে ? গ্রাম্য সমাজে কুমারী মায়ের অস্তিত্ব কী হবে ? এ সব ভেবেই কার্যত নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে।
মেয়েটির পিতার অভিযোগ বিষয়টি সুতাহাটা থানায় জনালে ও সি ৫০০ টাকা চায়। গরিব সংসার চালেনা তো টাকা দিবে কি করে। তাই পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেই নি।
বছর দেড়েক আগে সিন্টু মণ্ডল নামে প্রতিবেশী যুবকের প্রেমে পড়েছিল ওই কিশোরী। এরপর নয়মাস আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে বলে অভিযোগ। ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর পাড়া-প্রতিবেশীদের ডেকে সব ঘটনা জানিয়ে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ১৬ নভেম্বর সিন্টুর সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। অভিযোগ, তার আগের দিন রাতেই সপরিবারে উধাও হয়ে যায় সিন্টু। এখন পরিবারের অন্যরা ফিরলেও পালিয়ে বেড়াচ্ছে সিন্টু। এমনকী ফোন করে নিয়মিত খুনের হুমকি দিচ্ছে কিশোরী ও তার পরিবারকে। এই পরিস্থিতিতে ঘরেবাইরে রীতিমতো আতঙ্ক ও অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
এই জন্যই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছে সে। পুলিশ ও প্রশাসন সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে না এলে আর কোনও পথ নেই বলেও আক্ষেপ তার। মেয়ের মতো এই লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে সপরিবারে মৃত্যুবরণ কথা জানিয়েছেন তার মাও। তাঁর অভিযোগ, তারা গরিব বলেই অভিযোগটি সঠিকভাবে দেখছে না প্রশাসন।

No comments:
Post a Comment