পায়েল দেব, কলকাতা: নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার সংখ্যা নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি। তবে নারী নির্যাতনের সংখ্যা নথিভুক্ত যেমন বেশি তেমনি ভুয়ো নির্যাতনের সংখ্যাটা বেশি। আর এর মূলে রয়েছে লিঙ্গ বৈষম্যের আইন। এমনটাই দাবি পুরুষ বাঁচাও সংগঠনের।
পুরুষের অধিকার কেন নেই সমাজে? পুরুষরা নির্যাতিত হলেও কেন তা লোকসমাজে আসে না? কথায় আছে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ, কিন্ত তা কি সত্যিই পিতৃতান্ত্রিক? যদি শুধু পিতৃতান্ত্রিক সমাজই হয় তাহলে সব সুযোগ সুবিধা আইন কানুন শুধুমাত্র মহিলাদের জন্যই কেন?মহিলাদের উপর নির্যাতন হয় তা শোনা যায় তবে পুরুষের উপর নির্যাতন হয় তা প্রকাশ্যে আসে না কেন? যদিও মহিলা কমিশনের রেশিওতে দেখা গেছে মহিলাদের ধর্ষণ কেসে অভিযুক্ত পুরুষরা ৯০ শতাংশ মিথ্যে।
এত সব প্রশ্ন নিয়ে সল্টলেকে ৪২ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাতে জাগো বাংলা স্টলের সামনে 'পুরুষ নিউট্রাল আইন' চালু হওয়ার দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে অভিযান ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে এক সংগঠনের কর্মীরা।তাদের দাবী, দিনের পর দিন ধরে শুধুমাত্র মানসিক,শারিরীক নির্যাতন মহিলাদের উপরই হচ্ছে না, তা পুরুষের উপর ৯০ শতাংশ হচ্ছে তবে তা প্রকাশ্যে আনছে না প্রশাসন। মহিলাদের কথাতে অভিযোগের ভিত্তিতে পুরুষ সহ গোটা পরিবারকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে এর সত্যিটা প্রকাশ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনও আইনী ব্যবস্থা নেই।এছাড়াও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লেডিস স্পেশাল ট্রেন ও নানা প্রকল্প বের করছে কিন্ত পুরুষদের অধিকারের জন্য কোনো আইনী ব্যবস্থা বের করা হয়নি । যার কারণে পশ্চিমবঙ্গে পুরুষ আত্মঘাতীর সংখ্যা শীর্ষে। পরবর্তীকালে আত্মঘাতীর কারণ তদন্ত করে দেখলে দেখা যাবে যার কারণ একমাত্র স্ত্রী,মহিলা।কিন্ত তা সত্বেও বাংলায় মহিলাদের জন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ ব্যবস্থা নেই। ৪৯৮ ধারায় পুরুষদেরই বিচার বিবেচনা না করে জেলে বন্দি করে রাখা হয় কমপক্ষে ৯০ দিন।অথচ যে মূল কারণ মহিলা তারা বাইরে নির্দিধায় ঘুরে বেড়ায়। অভিযান সংগঠনের দাবি, তারা নারীবিদ্বেষী বা পুরুষবিদ্বেষী নন।তারা চান দেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যেন সমান অধিকার, সমান বিচার পান। তার মধ্যে যেন কোনো লিঙ্গবৈষম্য না আসে।চোখের জল, বা নিজের বস্ত্র নিজে ছিঁড়ে তা পুরুষ করেছে বলে দোষ দিয়ে জেলে বন্দী করে দেয়। এই মিথ্যা অভিযোগের যেন সঠিক বিচার হয়। পুরুষরা যদি নির্দোষ থাকেন তাহলে নিজেদের প্রতিবাদ করার জন্য যেন তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাদের প্রতিবাদের জন্য আইনি ব্যবস্থাও যেন কঠোর করা হয়।
অভিযান সংগঠনের পরামর্শদাত্রী নন্দিনী ভট্টাচার্য বলেন, আজকের দিনে মহিলাদের থেকে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হচ্ছে, কিন্ত তা লজ্জায় প্রকাশ্যে আনছে না পুরুষরা। যার কারণে বহু পুরুষ আত্মহত্যা করছে। এমনকি পুরুষরা শারিরীক নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে। কিন্ত তা প্রতিবাদের জন্য আলাদা করে কোনো আইনী ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। মহিলারা প্যাচে ফেলিয়া তারাই উল্টে পুরুষদের হাজতবাস করাচ্ছে। আর প্রশাসন তার সঠিক সত্য তদন্ত না করে পুরুষদেরই বন্দী করে রাখছে। তিনি বলেন, এই নির্যাতন আজ থেকে না বহুকাল ধরে চলে আসছে।পুরুষরা এত কিছু সহ্য করছে কারণ তাদেরকে ছোট থেকে শেখানো হয়েছে ছেলেরা কাঁদে না, সহ্য ক্ষমতা ছেলেদের বেশি আনতে হয়। কিন্ত এর জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও আইন তৈরি হয়নি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করেন, প্রত্যেক মানুষের মত শুধু মহিলারাই সঠিক বিচার না পাক, তার সাথে পুরুষরাও যেন সঠিক বিচার পায়। মহিলাদের জন্য যেমন কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লেডিস স্পেশাল ট্রেন করা হয়েছে ঠিক তেমনি পুরুষদের জন্য যেন বেঁচে থাকার জন্য লড়াইয়ের রাস্তা করে দেন ।তিনি নিজে নারীবিদ্বেষী নন বলে দাবী করেন। তাঁর এতটুকু দাবী সবাই যেন সঠিক বিচার পায়, লিঙ্গবৈষম্যর জন্য কাউকে আলাদা চোখে বা আলাদা বিচার ব্যবস্থার বৃত্তে না পড়তে হয়। যাতে 'পুরুষ নিউট্রাল আইন' ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিগত দুইবছর ধরে এই আইন চালু করার জন্য আন্দোলন করে চলেছে। সংঘঠনে প্রথমে ৭৬ জন কর্মী থাকলেও তা এখন ২০০ জনে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বইমেলা থেকেও বহু আন্দোলনকারীরা এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। অভিযান সংগঠনের চেয়ারম্যান গৌরব রায় বলেন, তিনিও কয়েকবার তার কলেজ জীবনে ও দৈনন্দিন জীবনে অনেক মহিলাদের ভূল মন্তব্যে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় ডায়রিও করা হয়েছিল। যদিও তার কলেজের অধ্যাপকদের বিবেচনায় মুক্ত হয়েছিল। তার দাবী, শুধু পুরুষরাই শ্লীলতাহানি করে না, মহিলারাও শ্লীলতাহানি করে। পুরুষরাও শ্লীলতাহানির শিকার হয়, তাদেরকেও ধর্ষণ করে মহিলারা। কিন্ত দোষ পড়ে শুধু পুরুষদের ঘাড়ে। যা শুধুমাত্র অন্যায় নয়, অপরাধও। যার কারণে দিনের পর দিন ধরে প্রায় ৯০ শতাংশ পুরুষ আত্মহত্যা করছে। এবং বিভিন্ন মহিলাঘটিত মামলায় ২ বা ৩ বছর পরে বিচারে কেস মিথ্যা বলে পুরুষদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আর তাতেও মহিলাদেরকে শাস্তি দেওয়া না। দেশে এই দ্বিচারিতা ব্যবস্থার জন্য তারা আজ আন্দোলনের পথে।আর যতদিন না 'পুরুষ নিউট্রাল আইন' ব্যবস্থা চালু হবে ততদিন এই আন্দোলনে তারা লড়ে যাবে।

No comments:
Post a Comment