চাঁদনী, মেদিনীপুর : উপলক্ষ্য উরস উত্সব,আর এই উত্সবের মাধ্যমেই দুই বাংলা সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয় l জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক,অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ে একাত্ম হয় এপার বাংলা, ওপার বাংলাl উত্সবকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের,বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মপ্রাণ লোকেরা মেদিনীপুরে সমবেত হনl সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে এক হয় দুই বাংলা l
মওলা পাক হজরত সৈয়দ শাহ আলি আলকাদেরি (আ:) ১১৭ তম উরস উত্সব মেদিনীপুরে শুরু হয়েছে l হজরত মুহম্মদ (সা:) এর ৩২ তম এবং সুফি সাধনার আদি গুরু "বড় পিরসাহেব " হজরত আব্দুল কাদের জিলানী (আ:) এর ১৯ তম বংশধর মহান সুফি সাধক বাংলা ১৩০৭ সনের (১৯০১ খ্রিঃ )৪ ফাল্গুন পরলোক গমন করেন l মওলা পাকের প্রপৌত্র বর্তমান সাজ্জাদানসীন "বড় হুজুর পাক "হজরত সৈয়দ শাহ রশিদ আলি আলকাদেরি র পরিচলনায় উরসপাক উপলক্ষ্যে মেদিনীপুরে জোড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে ও দায়রা পাকে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় অলোচনা l বহু বক্তা মওলা পাকের জীবন ইতিহাস ও ইসলামের সারসত্য বিশ্লেষণ করেন l
এবছরও বাংলাদেশ থেকে বিশেষ স্পেশাল ট্রেনে করে বাংলাদেশিরা এসেছেন মেদিনীপুরে l এবছর যাত্রী সংখ্যা ২১৫৬ জন,যার মধ্যে পুরুষ -১২০৯ জন,মহিলা -৮৭৭ জন এবং শিশু ৭০ জন l শনিবার সকালে ট্রেনটি মেদিনীপুরে এলে স্বাগত জানায় মেদিনীপুরবাসি l শুধূ ট্রেনেই নয়,এবার ৯ টি স্পেশাল বাসে করে বাংলাদেশের পুণ্যার্থীরা এসেছেন উরুস উত্সবে l ট্রেনের অন্যতম যাত্রী তথা বাংলদেশের রাজবাড়ির সাংসদ কামরুন নাহার চৌধুরী বলেন উরুস শুধূ একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়,সর্ব ধর্মের মিলনক্ষেত্র,এতে দুই বাংলা এক হয়,আলাপচারিতার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময় হয় l
মেদিনীপুরের খানকাহ শরিফে আজ আলা হুজুর সৈয়দ শাহ মেহের আলি আলকাদেরীর বাৎসরিক উরুস সাড়ম্বরে পালিত হলো। জাতীয় ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি পীর সাহেব জেলাল মুরশিদ আলি আলকাদেরি মানব জাতির উদ্দেশে শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দেন ও মানব কল্যাণের কামনায় প্রার্থনা করেন।
গত ৪ফাল্গুন মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র উরুশ উৎসব। হজরত মহম্মদের ৩২তম বংশধর, হজরত সৈয়দ শাহ্ মুর্শেদ আলি আলকাদেরি যিনি "মওলা পাক" নামে ভক্তদের কাছে পরিচিত, তিনি সুফী ধর্মের একজন প্রচারক ছিলেন। তাঁর প্রপ্রৌত্র "বড় হুজুর" রশিদ আলি আলকাদেরি-র পরিচালনায় মেদিনীপুরের জোড়া মসজিদ ও দায়রা পাকে এই উরুস উৎসব পালিত হয়েছে।
একই সঙ্গে খানকাহ শরিফে সৈয়দ মানাল শাহ্ আলকাদেরির পরিচালনায় উরুশ পালিত হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকেই শুধু নয়, বিভিন্ন দেশ থেকেও ভক্তরা শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন মেদিনীপুরে। ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকালে বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে ২১৫৬ জন যাত্রী নিয়ে একটি উরুস স্পেশাল ট্রেন মেদিনীপুরে এসেছে।১৯০১ সালে মওলা পাকের তিরোধানের পর থেকে গত একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ভক্তদের নিয়ে এই ট্রেন টি মেদিনীপুরে আসছে। বাংলাদেশ সংসদের মহিলা সদস্য কামরুন নাহার চৌধুরী জানান, প্রতি বছর ভক্তদের নিয়ে এই ট্রেনটি আসার মধ্য দিয়ে ভারত- বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী ও সৌভাতৃত্যের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় বলে জানান।

No comments:
Post a Comment