সুন্দরবনের দুঃস্থ মানুষের পাশে শিল্পী পলাশ হালদার। গত ১৮ থেকে ২৩ জুলাই বিড়লা অ্যাকাডেমিতে শিল্পী পলাশ হালদারের আঁকা ছবির একক প্রদর্শনী হয়েছিল। শিল্পী সেই সময় জানিয়েছিলেন, প্রদর্শনীতে বিক্রি ছবির টাকা সুন্দরবনের অবহেলিত মানুষের জন্য ব্যয় করবেন। পলাশ সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন। রবিবার মথুরাপুর-১ ব্লকের উত্তর লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের পাটকি গ্রামে এলাকার বেশ কয়েক জন প্রতিবন্ধী, দুঃস্থ মানুষের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিলেন পলাশ। পাশাপাশি ৫ জন অভাবী-মেধাবী পড়ুয়ার সারা বছরের পড়াশুনোর সমস্ত খরচ বহন করার অঙ্গীকার করলেন শিল্পী। পড়ুয়াদের হাতে শিল্পী তুলে দেন বই, খাতা ও পেন্সিল। শিল্পীর এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামা রায়। তিনিও পলাশের এই ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
৩৭ বছরের পলাশের জন্ম সুন্দরবনের পাটকি গ্রামে। পরে পরিবার চলে আসেন মন্দিরবাজারের রঘুনাথপুরে। বাবা পেশায় কাঠের মিস্ত্রি। অভাবী পরিবারের পলাশ খুব লড়াই করে সরকারি আর্ট কলেজ থেকে স্নাতক হন। তারপর থেকে সুন্দরবন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ছোটদের ছবি আঁকানো শেখান তিনি। এরমধ্যে প্রদর্শনী করার সুযোগ পান পলাশ। তাঁর মাধ্যম তেল রঙে মর্ডান আর্ট। জুলাই মাসে বিড়লা অ্যাকাডেমির প্রদর্শনীতে ভাল সাড়া পান তিনি। বেশ কয়েকটি ছবিও বিক্রি হয়। গত কয়েক বছর ধরে জন্মভূমি ‘পাটকি আত্মজ স্কুল অফ এডুকেশন এন্ড ডেভলেপমেন্ট’ নামে ছোটদের একটি স্কুলও খুলেছেন পলাশ। এদিন সেই স্কুল প্রাঙ্গনে খোলা মঞ্চে করা হয়েছিল ঋণশোধের অনুষ্ঠান। এলাকার প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পলাশ তাঁদের হাতে তুলে দেন নতুন পোশাক, মশারি ও মিষ্টির প্যাকেট। ৫ পড়ুয়ার আগামী ৫ বছরের পড়াশুনোর দায়িত্ব নেন পলাশ। পলাশ বলেন,‘ আমার জন্ম এই গ্রামে। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে ছবি এঁকে কলকাতায় প্রদর্শনী করেছি। আজ কিছুটা হলেও তৃপ্ত। আগামী দিনে আরও কিছু করতে চাই ওঁদের জন্য।’

No comments:
Post a Comment