চাঁদনী,পশ্চিম মেদিনীপুর: প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জমা পড়ল।বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার কাছে ভারতী ঘোষ সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন সঞ্জয় মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি। বাকি অভিযুক্তরা হল সঞ্জয়ের ভাই সুজয় মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী রিমা মণ্ডল ও মেদিনীপুর থানার তৎকালীন এএসআই তথা বর্তমানে গোয়ালতোড় থানায় কর্মরত পুলিশকর্মী গোপাল কৈবর্ত।পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে সঞ্জয় মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁর ভাই সুজয় মণ্ডলের সঙ্গে তিনি মেদিনীপুরের মিঞাবাজারে পৈত্রিক বাড়িতে থাকতেন। তাঁর বাবা দারকেশ্বর মণ্ডল বাড়িটি তৈরি বাড়িতেই তাঁরা থাকতেন। বাবার মৃত্যুর পর ছোটোভাই সুজয়ের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়।সঞ্জয়বাবুর অভিযোগ, দীর্ঘদিন অশান্তি চলার পর ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রয়ারি ভাই সুজয় মণ্ডল তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে পুলিশ এনে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের মারধরের পাশাপাশি তার স্ত্রী-র শ্লীলতাহানি করা হয়। আর এই কাজে সাহায্য করেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ ও গোপাল কৈবর্ত। অভিযোগপত্রে সঞ্জয় মণ্ডল জানিয়েছেন, বর্তমানে মিঞাবাজারের সেই বাড়িটি পুলিশের হেপাজতে রয়েছে। সেটি বর্তমানে পুলিশ ক্যাম্প হয়ে গেছে।সঞ্জয় মণ্ডলের আইনজীবী বলেন, “আমার মক্কেলকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ সুপারের কাছে তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ সুপার সম্ভবত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।” আইনজীবী আরও জানান, সিআরপিসি-র ১৫৪(৩) অনুযায়ী পুলিশ সুপার এই অভিযোগপত্রকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।
ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানায় ইতিমধ্যে তোলাবাজি সহ একাধিক মামলা রুজু করা হয়েছে।সিআইডি এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। আজ ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। তাঁর বক্তব্য, এই মামলায় পুলিশের একটি বড় চক্র জড়িয়ে আছে। তাছাড়া ভারতী ঘোষ নিজে প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তাই, তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই, মামলার তদন্তভার নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হোক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি কবে হবে তা এখনও জানা যায়নি।

No comments:
Post a Comment