কলকাতা ডেস্ক : ১৮ ফেব্রুয়ারি : সিঙ্গুর আছে সিঙ্গুরেই। সেটা ফের একবার প্রমানিত হল। রবিবার পরিবর্তনের পরিবর্তন এর ডাক দিয়ে দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়ের নাম করে সিঙ্গুরের বুড়ো শান্তির মাঠে বিজেপির একটি জনসভা হয়েছে। সেই সভায় বিজেপির জেলার নেতারা লোকই ভরাতে পাড়লনা।
এই ঘটনায় বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাপান উতর শুরু হয়েছে। চুঁচুড়ায় মাস কয়েক আগে বিজেপির একটি জনসভা হয়েছিল। সেই সভাতেও হাজির ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় ও লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ একাধিক বিজেপির নেতা কর্মীরা। বিজেপির জেলা ও রাজ্যনেতাদের কথা অনুয়ায়ী সেই সভায় নয় নয় করেও ১০হাজার লোক হয়েছিল। কিন্তু সেই একই রাজ্যনেতাদের নামে তথা দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় ও লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নামে সিঙ্গুরে কেন লোক হলনা এই নিয়ে বিজেপির নেতা কর্মীদের অন্দরে শুরু হয়েছে জল্পনা। অথচ দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায় ওই সভায় আসবেনা সেটাও প্রচার করা হয়নি।
সিঙ্গুরে বিজেপির সভায় মাঠ না ভরার কারন কি? এই নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষনে নামে প্রেসকার্ড নামে একটি অনলাইন নিউজ। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর পেছনে মূল কারন বিজেপির প্রবল গোষ্ঠীদন্দ্ব। সূত্রের খবর, সাংগঠনিক ভাবে হুগলি জেলা ভাগ হওয়ার পর হুগলির সাংগঠিক জেলার দায়িত্ব পান সুবীর নাগ। সাংগঠনিক ভাবে দায়িত্বভার পেয়েই তিনি ধরাকে সড়া বলে মনে করছেন। কর্মীদের সঙ্গে দূর্ব্যাবহার উদ্ধত্তই তার সফলতার পথে বিস্তর বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক সভাপতি তার কর্মীদের উপর দমন পীড়ন নীতিই ফলেই আগামী দিনেও বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলায় পঞ্চায়েত ভোটের ফল ব্যপক খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে খবর। অন্তত এমনটাই দাবী হুগলি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির একাধিক নেতা কর্মীদের। জানা গিয়েছে, এই সাংগঠনিক জেলায় ২৪টা মণ্ডল। তার মধ্যে ১৯টা মণ্ডলই সাংগঠনিক সভাপতির বিরুদ্ধে। বাকি ৬টা মণ্ডল সভাপতি সুবীর নাগের পক্ষে। এই অবস্থায় পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির কি ফল হয় সেটাই দেখার বিষয়।
এদিন সিঙ্গুরের ওই সভায় হাজির ছিলেন, বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য নেতা বিশ্বপ্রীয় রায় চৌধুরী, জয় প্রকাশ মজুমদার, জেলা সভাপতি সুবীর নাগ সহ একাধিক নেতা।


No comments:
Post a Comment