সুদীপ্তা পাল: আন্দোলনের মাধ্যমে রেলের অনুমোদন আদায়ের পর তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও রাজ্য প্রশাসন এখনও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না করায় পুনরায় আন্দোলনে নামলো বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটি। শনিবার বালিচক ডেলি বাজারে একটি গণঅবস্থানের ডাক দেয় কমিটি। বহু মানুষের উপস্থিতিতে কমিটির নেতৃত্ব ঘোষণা করেন, যদি মার্চ, ২০১৮ -এর মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না হয় তাহলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর এপ্রিলেই সড়ক অবরোধ করা হবে।' যতক্ষণ পর্যন্ত না কাজ শুরু হচ্ছে কমিটি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
বস্তুত বালিচক উড়ালপুল নির্মাণে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে - এই মর্মে রেল ও রাজ্য প্রশাসনের লিখিত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গত বছর তাদের ঘোষিত ৯ ই সেপ্টেম্বর রেল ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচী থেকে সাময়িক ভাবে সরে এসেছিল বালিচক স্টেশন উন্নয়ন কমিটি। এরপরই গত ১৯ সে সেপ্টেম্বর ডেবরা বিডিও দ্প্তরে এসডিওর উদ্যোগে আহুত বহুপাক্ষিক বৈঠকে পূর্তকর্মাধ্যক্ষসহ রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কথা দেওয়া হয়েছিল রেলের অনুমোদন পেলেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বালিচক উড়ালপুল নির্মাণের কাজ অতি দ্রুততার সাথে শুরু করবে রাজ্য। আর গত ৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭, অবরোধ কর্মসূচীর প্রাক্কালে কমিটির সঙ্গে বৈঠকে ডিআরএম কথা দিয়েছিলেন তাঁরা দ্রুত রেলের অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। ঠিক হয় রেল তার নির্ধারিত অর্থ রাজ্য প্রশাসনকে দিয়ে দেবে। রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগেই উড়ালপুল নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ হবে। প্রতিশ্রুতি মতো গত ১০ ই নভেম্বর দিল্লীর রেল বোর্ড থেকে রেলের অনুমোদন এসে পৌঁছায়। এরপর দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে উড়ালপুল নির্মাণকার্য শুরু করার দাবী জানায় কমিটি। কিন্তু নয় নয় করে প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত। এখনও রাজ্য প্রশাসন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে পারে নি। স্বভাবতই বিরাট অংশের জনগনের সাথে ক্ষুব্ধ উন্নয়ন কমিটিও। তাই প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুল নির্মাণের কাজ শুরুর দাবীতে পুনরায় বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে ১০ই ফেব্রুয়ারী, শনিবার, বিকাল ৩:৩০ টায় বালিচক ডেলি বাজারে(বিদ্যাসাগর কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সম্মুখে) গণঅবস্থানের ডাক দেয় কমিটি। এছাড়া বালিচক ডেলি বাজারে শৌচালয় নির্মাণ, রেল স্টেশনের অসমাপ্ত কাজগুলি(উত্তর দিকের বন্ধ টিকিট কাউন্টার চালু ও স্থায়ী জল নিকাশীর ব্যবস্থা, নব নির্মিত শিশু উদ্যানটিতে আলোর ব্যবস্থা, স্টেশনের দক্ষিণদিকে দিকে ফুট ওভার ব্রীজটির এক্সটেনশন, সকাল ৮ টা থেকে রিজার্ভেশন কাউন্টার চালু ইত্যাদি) দ্রুত রূপায়নের দাবীও তোলে কমিটি। গণঅবস্থানে সভাপতিত্ব করেন অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভাষচন্দ্র মাইতি উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোহিনীমোহন মাইতি, নেতাজী ক্লাবের সভাপতি রঞ্জিত কুমার সুর। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারন মানুষ। কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি সুভাষচন্দ্র মাইতি এবং যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী ও কালীশঙ্কর গাঙ্গুলী বলেন, ''আন্দোলনের মাধ্যমে রেলে আর্থিক অনুমোদন আমরা আদায় করেছি(রেলের ২৪.৫৮ কোটি এবং রাজ্যের ৩০.৯০ কোটি, মোট ৫৫ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা)। এখন কোনো অযুহাতেই কাল বিলম্ব আমরা মনবো না।" মার্চ মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না হলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর আগামী এপ্রিলে যে সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে তাতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সামিল হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

No comments:
Post a Comment