নিজের বিয়ে রুখতে চাইল্ড লাইনে ফোন ছাত্রীর - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 8 March 2018

নিজের বিয়ে রুখতে চাইল্ড লাইনে ফোন ছাত্রীর



নিজস্ব সংবাদদাতা, ক্যানিং: বুধবার বিকেল প্রায় ৫ টা।চাইল্ড লাইনের অফিসে বসেছিলেন বান্টি মুখোপাধ্যায়।হঠাৎ চাইল্ড লাইনের হেল্প লাইন নাম্বার ১০৯৮ ফোন আসে।ভয়ে ভয়ে চাপা গলায় একটি মেয়ে বলে কাকু আমি পড়তে চাই।আমাকে বাঁচান।আমার বাড়ির লোক আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।বাড়ি যাওয়ার আগে এমন ফোন পেয়ে নড়েচড়ে বসে ওই কর্মী।তিনি সঙ্গে সঙ্গে ক্যানিং-১ ব্লকের বিডিও এবং ক্যানিং থানায় যোগাযোগ করেন।সেইমতো খবর পেয়ে ক্যানিং থানার এসআই সামায়ুন বাসার পুলিশ নিয়ে এবং বিডিওর প্রতিনিধি নিয়ে ওই নাবালিকার বাড়িতে যান। ওই ছাত্রী প্রশাসনের লোকজনকে সামনে পেয়ে বলে আমি পড়তে চাই।কিন্তু আমার বাড়ির লোক কোন কথা শুনতে চাইছে না।জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।এমন অভিযোগ শুনে ওই ছাত্রীর বাবাকে দিয়ে প্রশাসন মুচলেকা লিখিয়ে নেয় মেয়েকে এখনই বিয়ে দেওয়া হবে না।সে যতদিন পড়তে চায় তাকে পড়াতে হবে।
       ক্যানিঙের পশ্চিম দাঁড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর লস্কর তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন ক্যানিঙের সাতমুখোর বাসিন্দা মফিজুল গাজির সঙ্গে।মফিজুল একটি গ্রীল কারখানায় কাজ করে।ওই ছাত্রী দাঁড়িয়া হাইস্কুলে একাদশ শ্রেনীতে পড়ে।বৃহষ্পতিবার তাদের বিয়ে হওয়ার কথা।সেই মতো প্যান্ডেল থেকে শুরু করে সব তোড়জোড় প্রায় শেষ।বাড়িতে অনেক আত্মীয় স্বজন চলে এসেছে।রাত পোহালেই বিয়ে।সেই জন্য সবাই প্রচন্ড ব্যস্ত।হঠাৎ সন্ধ্যার পরে বাড়ি পুলিশ আসায় হকচকিয়ে যান সবাই।তারা ওই ছাত্রীর বাবার কাছে মেয়ের বয়সের প্রমানপত্র চান।সেখানে দেখা যায় তার বয়স ১৭ বছর।কেন ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে তার পরিবার কন সদুত্তর দিতে পারেনি।
      ওই ছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর লস্কর বলেন,মেয়ে যে বিয়ে করতে চায় না তা আগেই বলতে পারত ।যাই হোক আমাদের ভুল হয়ে গেছে ১৮ বছরের আগে তার বিয়ে ঠিক করা।ও যতদিন পড়তে চাইবে আমরা ওকে পড়াব।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad