চাঁদনী, পূর্ব মেদিনীপুর: পণ না মেটানোয় ও টাকার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার ফারাকপাড়া গ্রামের মৌমিতা মিশ্র (২৪)।
বিয়ে হয়েছিল ভগবানপুর থানার পোঃ ভিমশ্বরী অন্তর্গত শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা অভিজিত মিশ্রের সাথে ২০.০৬.২০১১ তে বিয়ে হয়েছিল। একটি তিন বছরের ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই গৃহবধূকে পণের জন্য মারধোর করতো। গত ১ তারিখ বাবার বাড়িতে অজ্ঞাত পরিচয় নং থেকে ফোন আসে। জানানো হয় গৃহবধূর গায়ে আগুন লেগে পুড়ে গিয়েছে ও তমলুক থানার অন্তর্গত একটি বেসরকারী নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। তৎক্ষনাৎ বাপের বাড়ির লোকজন তমলুকের নার্সিংহোমে ছুটে আসে। এসে দেখেন মহিলা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি। শ্বশুর বাড়ির তরফ থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করে । তবে কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছে কেউ মুখ খোলেন নি। পরে মহিলার অবস্থা আরও আরও আশঙ্কাজনক হলে অন্য একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে গৃহবধূ বাপের বাড়ির লোককে জানায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায়ই পণ জনিত কারনে গালিগালাজ ও মারধোর করতো। বছরখানেক আগে একবার মারধোর ফলে কানের পর্দাও ছিঁড়ে যায়। এদিন রাগবশে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পেছন দিক থেকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। গৃহবধূর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে স্বামীর বাড়ির লোকজন ভয়ে তমলুকের নার্সিংহোমে ভর্তি করে।
গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজন ভগবানপুর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। অবশেষে বহু অনুরোধে মঙ্গলবার অভিযোগের ডায়েরিটি নেয়। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। গৃহবধূর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

No comments:
Post a Comment