মৃন্ময় নস্কর, ভাঙড় : ভাঙড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় যুব তৃণমূলের নেতাকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ১। ধৃতদের নাম জলাধর মন্ডল। বাবা মর্গে, তাই আজ আর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া হল না নিহতের বড় মেয়ে সুস্মিতার। রবিবার ভাঙড়ের বামনঘাটা অঞ্চলে জলাভূমি দখল কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে খুন হন যুব নেতা মনু প্রামাণিক ।এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বামনঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এর প্রধান অমরেশ মন্ডল, প্রদীপ মন্ডল সহ ১১ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা বেশিরভাগই ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম এর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ঘটনার পর থেকে পলাতক দুই পক্ষের লোকজন । ঘটনার পর থেকে এলাকা যথেষ্ট থমথমে। বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বগোডোবা গ্রাম থেকে জলাধর মন্ডল নামে এক জন কে গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তি কে এদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন । অন্যদিকে এই ঘটনার জেরে ভেঙে পড়েছে নিহতের বড় মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুস্মিতা প্রামাণিক। বাবাকে দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে মাথায় মেরে খুন করেছে। তাঁরই শোকে সোমবার বড় মেয়ে সুষ্মিতার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া হল না। এদিন সুষ্মিতাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন বলে কথা দিয়েছিলেন তার বাবা মনু প্রামানিক। কিন্তু তিনি নিহত হওয়ায় মেয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়ে। ফলে তার আর পরীক্ষা দিতে যাওয়া হয় নি। এদিন সকাল থেকে বারে বারেই সুষ্মিতা বাবার কথা বলতে বলেতে মূর্ছা যেতে থাকে। 'বাবা আমাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবে বলেছিল। বাবা ছাড়া পরীক্ষা দিতে যাব না বলে কান্না শুরু করে'। সুষ্মিতার এবার ভাঙড়ের বামনঘাটা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। তার পরীক্ষার আসন পড়েছিল ভোজেরহাটের সারদা স্কুলে। কয়েকদিন আগেই বাবা মুন প্রামানিক মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তা আর হল না। তার আগেই রবিবার সকালে তিনি জলাভূমির দখল রুখতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছেন। তাঁর দেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। মাথায় ও কানের পাশে আঘাত জনিত কারনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গুলির আঘাত হয়নি বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিস। এদিনই মর্গ থেকে মনু প্রামানিকের দেহ শেষকৃত্যের জন্য বাড়িতে আনা হয়েছে।আর তাতেই শোকে ভেঙে পড়ে মনুর পরিবার। তবে নিহত নেতার মেয়ে যাতে পরীক্ষা দিতে পারে, তার বছরটা নষ্ট না হয় তার জন্য সব রকমের চেষ্টা করেছিল পুলিস। কিন্তু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় ছাত্রী আর পরীক্ষা দিতে চায় নি। নিহত যুব নেতা দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গিয়েছেন। মৃতের স্ত্রী শুক্কলি প্রামাণিক এদিন বাড়িতে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘শাবল -বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ওকে খুন করা হয়েছে৷ আমাদের জমি দখল হচ্ছিল বলে ওখানে গিয়েছিল৷ ক্লাবের আর পার্টির ছেলেরা বাঁশ-শাবল দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়৷ তারপর সবাই পালিয়েছে৷ আমার স্বামী রক্তমাখা শরীরে মাঠে পড়েছিল৷ "তিনি আরও বলেন," আজ আমার মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারল না, জানি না আর পড়াশোনা করতে পারবে কি না, কিভাবে আমাদের সংসার চলবে। "


No comments:
Post a Comment