সম্প্রীতি রক্ষার্থে হিংসায় সন্তান হারা ইমামের ভূমিকা নিয়ে রাজ্যবাসীর প্রশংসার পর তাঁর প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বশাসিত ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর কমিউনাল হারমনি-র প্রতিনিধি ।সোমবার হিংসা কবলিত আসানসোল-রানিগঞ্জে পরিদর্শন করেন এনএফসিএইচ-এর পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি অভিনেতা তথা বিজেপির তারকা নেতা জয় ব্যানার্জী। আক্রান্তদের দেখতে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে যান জয়।
হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথাও বলেন।প্রথমেই জয় তুলে আনেন পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম দত্ত চৌধুরির প্রসঙ্গ। বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন অরিন্দমবাবু। তিনি দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে তাঁকে কোয়েমবাত্তুরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কেন তাঁকে সেখানে পাঠানো হল তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন জয়। বলেন, "বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজন ওনাকে দেখতে আসছিলেন। উত্তপ্ত আসানসোলে ছেলের মৃত্যুর পরও শান্তিরক্ষার কথা বলেছিলেন ইমাম। প্রতিশোধ নিতে তৈরি হওয়া জনতাকে বলেছিলেন, "তোমরা শান্ত হও। উপরওয়ালা চেয়েছেন তাই আমার ছেলেকে চলে যেতে হয়েছে।" পঞ্চমুখ হয়েছে আসানসোলবাসী। এবার তাঁর প্রশংসা করলেন জয় ব্যানার্জীও।
জয় বলেন, হয়ত রাজ্য সরকার চাইছিল না এই কলঙ্ক বাইরে বেরোক। আগে দেখা গেছে ছোটো ছোটো পুলিশ অফিসাররা আক্রান্ত হচ্ছেন। ওসি , আইসি লেভেলের পুলিশকে ফেলে মারা হচ্ছে। কিন্তু, একজন আইপিএস অফিসারের উপর যেভাবে বোমা মারা হয়েছে তা রাজ্য সরকার চাউর করতে চায়নি। সেজন্য ওনাকে সরিয়ে দেওয়া হল।" এরপর জয় বলেন, "গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় সনোজ সিং নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মহেশ মণ্ডল ও প্রতিমা মণ্ডল নামে দু'জন মারা গিয়েছেন। আমি শুনেছি, ইমাম সাহেবের ছেলে মারা গেছে। খুবই দুঃখজনক। তবে, আমি নিজে ইমাম সাহেবকে ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছি। সেদিন জানাজার নমাজের সময় প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কারবালার মাঠে প্রচুর মানুষের জমায়েত হয়েছিল। কিন্তু, ইমাম সাহেব নিজে বলেছেন, "আল্লা যতদিন চেয়েছেন আমার ছেলে ততদিন বেঁচে ছিল। তোমরা কেউ এর প্রতিশোধ নিতে পারবে না।"

No comments:
Post a Comment