কেনটাকি ফ্রায়েড চিকেনের (কেএফসি) আউটলেটে চিকেনের জায়গায় ইঁদুর ভাজা পরিবেশনের খবরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। এবার কেএফসির খাবারে মিলল মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। ভারতের তেলেঙ্গানা স্টেট ফুড ল্যাবরেটরিতে কেএফসির পাঁচটি আউটলেট থেকে সংগৃহীত পাঁচ রকম খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, সেই খাবারে প্যাথোজেনের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যদিও এই অভিযোগ মানতে চাননি কেএফসি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কোনও নমুনা সংগ্রহের খবরই তাদের কাছে নেই।
তেলেঙ্গানার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বালালা হাকুলা সংঘম কেএফসির খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করতে দিয়েছিল তেলেঙ্গানা স্টেট ফুড ল্যাবরেটরিতে। এসএফএল হায়দরাবাদের ইনস্টিটিউট অফ প্রিভেন্টিভ মেডিসিনেরই একটি অংশ। নমুনা পরীক্ষার পর ২৪ জুন রিপোর্ট পেশ করেন এসএফএল'র পরীক্ষক এ ভি কৃষ্ণা কুমারি। রিপোর্টে তিনি লিখেছেন, 'আমার মতে ওই নমুনায় ই-কোলি ও সালমোনেলার উপাদান রয়েছে যেগুলো প্যাথোজেন ব্যাকটেরিয়া। এটি শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। কাজেই এই খাবার নিরাপদ নয়।' ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি অনুরাধা রাও জানিয়েছেন, 'আমরা ১৮ জুন হিমায়েতনগর, বিদ্যানগর, চিকাপল্লি, নাচারাম ও ইসিআইএল এক্স রোডের কেএফসি আউটলেট থেকে ওই ব্র্যান্ডের সিল করা প্যাকেটে পাঁচটি খাবারের নমুনা সংগ্রহ করি এবং সেইদিনই ওই নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিই স্টেট ফুট ল্যাবরেটরিতে।'
যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে কেএফসি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের খাবারের মান ঠিক রাখতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারা লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, 'এটা একটা মিথ্যে অভিযোগ। আমাদের কোনো স্টোর থেকে এধরনের কোনো নমুনা সংগ্রহের খবর আমাদের কাছে নেই। যদি নেয়াও হয়, তবে তা কী অবস্থায় পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা-ও আমাদের জানা নেই। এটি হল এমন একটি খাবার যা সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিতে হয়। এ বিষয়ে কোনো কর্তৃপক্ষের তরফে এখনো আমাদের কিছু জানানো হয়নি।' যদিও এসএফএল-এর পরীক্ষক এ ভি কৃষ্ণা কুমারি জানিয়েছেন, তারা একেবারে সিল করা কেএফসির প্যাকেটেই নমুনা হাতে পেয়েছিল। অভিযোগকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অবিলম্বে কেএফসির খাবার নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানালেও, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে সেখানেও যদি একই রিপোর্ট উঠে আসে, তবেই ওই মার্কিন ফাস্ট ফুড কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment