দিপাঞ্জন গন,লালগড়ঃ গড়বেতায় শেষকৃত্য হল বাঘঘোড়ার জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের। গতরাতেই দেহ দাহ করা হয়। তার আগে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির গাইডলাইন মেনে আড়াবাড়ি রেঞ্জ অফিসে বাঘের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। বাঘের মৃত্যুতে জেলা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে বন দপ্তর। চোরাশিকারের ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বন দপ্তরও ঘটনার তদন্ত করবে। ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বাঘটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। ভোঁতা কোনও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থানের ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা হবে।
রাজ্যের মুখ্য বন সংরক্ষক শক্তিশঙ্কর দে বলেন, “ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বাঘটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। বাঘের মাথাতেই বেশি আঘাত করা হয়। ভোঁতা কোনও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। বাঘটি সুস্থ ও সবল ছিল। তবে ময়নাতদন্তের পুরো রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। গলায় যে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে সেটি মৃত্যুর আগের না পরের, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বাঘের দেহে কোনও বিষ পাওয়া যায়নি। বাঘটির বয়স ১০-১২ বছর। পূর্ণবয়স্ক বাঘটির ওজন ২২০ কেজি। লম্বায় ছয় ফুট চার ইঞ্চি।
শক্তিশঙ্করবাবু বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানানো হয়েছে থানায়। বন দপ্তরের নিজস্ব দলকেও তদন্তে লাগানো হচ্ছে। খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। যাঁরা আহত হয়েছেন তদন্তে তাঁদের বক্তব্যও শোনা হবে। কারণ তাঁরা ঘটনাস্থানে ছিলেন। এছাড়া সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয়দের সাহায্য নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, বাঘটিকে ধরতে অনেক রকম পন্থা অবলম্বন করেছিল বনদপ্তর। স্থানীয় আদিবাসী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। তাঁদের অনুরোধ করা হয়। তাঁদের আইন সম্পর্কে বোঝানো হয়। এছাড়া মাইকিং করে, পোস্টার লাগিয়ে বন রক্ষা কমিটির মাধ্যমে বাঘটিকে না মারার অবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু, তাতে যে লাভ হয়নি সেটা স্পষ্ট।

No comments:
Post a Comment