মুখ্যমন্ত্রী হাত না ধরলে ২০১৯ সালে খাতা খুলতে পারবে না সিপিএমঃ ঋতব্রত - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 3 May 2018

মুখ্যমন্ত্রী হাত না ধরলে ২০১৯ সালে খাতা খুলতে পারবে না সিপিএমঃ ঋতব্রত




পবিত্রমোহন বিশ্বাসঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত না ধরলে ২০১৯ সালে খাতা খুলতে পারবে না সিপিএম। বুধবার এমন‌ই এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই কথা জানিয়েছেন একদা সিপিএমের রাজ্য সভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।এখন অবশ‍্য তাঁর পুরনো দল থেকে তিনি বিতাড়িত।প্রায় ভাগাড় কান্ডের মত‌ই সিপিএম তাঁকে ভাগাড়ের আস্তাকুঁড়ে মনে করে পার্টি থেকে  বের করে দিয়েছে।
আমাদের সকলেরই জানা তাঁর বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগ ছিলো, সেই সঙ্গে পার্টির শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে দল বহিস্কার করে।

একথা অবশ্যই ঠিক এই মুহূর্তে সিপিএমের অবস্থা ভাল নয়। তবে একথাও যে ঠিক সিপিএম পার্টিতে এখনও গনতন্ত্র বলে কিছুটা পদার্থ আছে।যা হয়ত অনেক দলেই নেই। থাকলেও তার প্রয়োগ দেখি না।
এখন প্রশ্ন হল হঠাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত মমতা বন্দনা কেন? কেন তিনি পক্ষ নিতে বলছেন?
একটু অনুধাবন করতেই হয়।
আসলে সিপিএমের যতটা না অস্তিত্ব সংকটে তার থেকেও বেশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের! যারা রাজনীতি নিয়ে একটু চর্চা করেন বা খোঁজ খবর রাখেন তাঁরা সকলেই জানেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের আলোয় আলোকিত।অত‍্যন্ত তরুণ বয়সে সব পেয়েছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্নেহধন্য। সাংসদের ভিতরে ও বাইরে তুখোড় বক্তা। পড়াশোনা যথেষ্টই করেন। গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। যুক্তিতর্কের জালে বাঘা বাঘা নেতাদের ঘায়েল করতে ওস্তাদ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তর্ক যুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসলে মমতা পালিয়ে বাঁচবেন! এই সবই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাল দিক। এই গুনকে অস্বীকার করা যাবে না।
কিন্তু,তাই বলে এই গুনাবলী দিয়ে তাঁর খারাপ দিকগুলোকে ঢেকে দেওয়া যায় না। সেটা অন‍্য প্রসঙ্গ সেই পথ মাড়াব না।মূল কথায় আসা যাক।

হঠাৎ কি সিপিএমের প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মমত্ববোধ জাগরিত হল? একদমই না।যে কথা বলছিলাম ঋতব্রত নিজেই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন।তাই ঠারেঠোরে মমতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টায় ব্রতী এই তরুণ নেতা। ঋতব্রত যত‌ই তাত্বিক নেতা হোন না কেন, তাঁর ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই। তাঁর ডাকে জনতা ছুটে আসে না।তাই সরাসরি ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তাঁর কপালে অশেষ দুঃখ কষ্ট আছে। সেই কারনেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আছেন ঋতব্রত!উনি অমিত মিত্রকে লোকবল দিয়ে ঠেঙ্গিয়েছিলেন!মনে পড়ছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব ভুলে গেছেন নাকি?

আশ্চর্য ঋতব্রতর এই সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির তৃণমূলের বিতাড়িত ও জেল খাটা কুনাল ঘোষ! এঁদের দোসর অমিতাভ মজুমদার।যিনি তলে তলে আবার মুকুল রায়কে নিয়ে আলাদা দল গড়ায় ব‍্যস্ত ছিলেন। সেই মুকুল রায় তৃণমূলের সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে এখন বিজেপিতে। ঋতব্রত কিন্তু সাংসদ পদ ছাড়েননি!নীতি? এঁরা কি আমাদের বোকা মনে করে?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর থেকে তৃণমূলের প্রতীকে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হতেই পারেন।ভোটে জিততেই পারেন, তাতে কী হল? এত বছর ধরে বলে আসা কথাগুলোর কী হবে?এত নীতিমালা কি ভেসে যাবে? চূড়ান্ত ভন্ডামি বলেই মনে হয়।
নিজের প্রতি ঋতব্রতর যদি এতই আস্থা থাকে তাহলে নির্দল প্রার্থী হয়ে ২০১৯ সালে ভোটে নামুন। জিতে আসুন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad