প্রেমে ভাঙন! কারণ বিশ্লেষণ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 18 May 2018

প্রেমে ভাঙন! কারণ বিশ্লেষণ



হালে বদলাচ্ছে প্রেমের আবেগ। তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে সর্বত্র। একটা সময় ভালোবাসার ভাষা ছিল চিঠি। চিঠি দিয়েই প্রেম নিবেদন করা হতো। এক সময় প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের হাতে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে ভালোবাসার মানুষের নাম খোদাই করে রাখতো। এতে ঝরতো রক্ত। কিন্তু ভালোবাসার টান শত কষ্টকে ভুলিয়ে দিত। সে সময় লুকোচুরি ছিল প্রবল।

কেউ জেনে যাবে, দেখে ফেলবে-এই ভয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা হতো খুব। সেই লুকোচুরি এখন আর নেই। নেই সেই ভয়। এখন প্রকাশ্যেই প্রেম করছেন ছেলেমেয়েরা। অনেক ক্ষেত্রেই তা জানেন মা-বাবা। এমনকি চেনা-অচেনা সবাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমিক-প্রেমিকা যৌথ ছবি দিচ্ছেন। একজন-আরেকজনকে প্রকাশ্যেই বিভিন্ন সম্বোধনে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

এ বিষয়ে সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী বলেন, প্রেম পবিত্র ও সৌন্দর্য্যের নাম। আমরা প্রেমকে পবিত্র হিসেবে দেখে আসছি চিরকাল। প্রেমের জন্য কতো মানুষ জীবন দিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা বজায় থাকছে না। প্রেম হারিয়ে যাচ্ছে তা না, তবে পবিত্রতা যেন থাকছে না।

প্রেমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েতে যখন প্রেম হতো তার উদ্দেশ্য থাকতো বিয়ে করা। বিয়ে হলে তারা সুখী জীবনযাপন করবে। কিন্তু এখন বিয়ে করবো এরকম প্রবল উদ্দেশ্য যেন হারিয়ে গেছে। এখন ছেলেমেয়েরা প্রেম করে ফুর্তি করবে, নাচ-গান করবে, বেড়াতে যাবে- এরকম উদ্দেশ্য নিয়ে। এটাকে আধুনিকতা বলবো না। বলবো আধুনিকতার দোহাই দিয়ে প্রেমের নামে খেলা করা হচ্ছে যেন। আগেকার দিনে প্রেমিক-প্রেমিকারা চিঠি লিখতো। তৃতীয় কারও মাধ্যমে কথা বলতো। এখন মুহূর্তে মুহূর্তে কথা হচ্ছে ফোনে-ইন্টারনেটে। এখন প্রেমের কোনো কিছুই গোপন থাকছে না।

প্রেমিক-প্রেমিকারা প্রকাশ্যেই প্রেম করে বেড়াচ্ছে। কাউকে তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রেম থাকা উচিত। পবিত্রতা। প্রেমে যেন সম্মান থাকে। অন্তত একটি জীবনকে যেন সুখী-সফল করা যায়। প্রেম সেভাবেই করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের এই প্রাক্তন অধ্যাপক।

প্রেম করেই বিয়ে করেছেন তাহেরা রিনা। স্বামীর নাম আবদুল মন্নাফ। ত্রিশ বছরের সংসার এই দম্পতির। ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে বিসিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রশাসনে।

তাহেরা জানান, নানা কথায়-কাজে অনেক সময় স্বামীর কাছ থেকে কষ্ট পান তিনি। রাগ হয় তখন। কখনও কখনও মনে হয় প্রেম করে বিয়ে করাটাই বুঝি ঠিক হয়নি। কিন্তু প্রেমিক স্বামীর মুখটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে সব ভুলে যাই।  যেন ভীষণ ভালোবাসায় আকাশের সকল মেঘ উধাও হয়ে যায়। প্রেমের শুরু সম্পর্কে তাহেরা জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জে। মেজো বোন পড়তেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আবদুল মন্নাফ ছিলেন মেজো বোনের ক্লাসমেট। বিয়ের কয়েক দিন আগেই ঘটে ঘটনাটি। বোনের সঙ্গে বাড়িতে গিয়েছিলেন মন্নাফ। তখন থেকেই ধূমপানের অভ্যাস ছিল তার। মেজো বোনের রুমে তখন আরো বন্ধু-বান্ধবী। মন্নাফ সিগারেট হাতে নিয়ে ঢুকে যান তাহেরার কক্ষে। তখন তাহেরা বাসায় নেই। কক্ষজুড়ে তার বই, ডায়েরি, ছবি। কক্ষে ঢুকে কি করেছিলেন মন্নাফ তা তাহেরা জেনেছিলেন প্রেমের সম্পর্ক হওয়ার পরে। মন্নাফ ডায়েরির একটি পাতায় সহপাঠী বান্ধবীর ছোট বোনকে লিখেছিলেন ‘তোকে খুব ভালোলাগে। ভালোবাসি।’

তাহেরা যখন বাসায় যান তখন মন্নাফ চলে গেছেন। টেবিলের উপরে ডায়েরিটা পেয়েই ভেবেছেন কেউ হয়তো তা হাতে নিয়েছে। তারপর ডায়েরিটা হাতে নিয়ে হঠাৎ চোখ পড়ে এই লেখায়। বিস্ময়ে কেঁপে উঠেন। কে এভাবে লিখলো তাকে। একদম বাসায় এসে তার ডায়েরিতে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন বড় বোনের ক্লাসমেট ঢুকেছিলেন তার কক্ষে। তারপর মন্নাফের সঙ্গে দেখা হলেই লজ্জা পেতেন খুব। তার থেকে আড়ালে থাকার চেষ্টা করতেন। তবে চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মন্নাফকে তিনিও ভালোবাসেন। একদিন মন্নাফই তাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। অনেক কষ্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান। পাশাপাশি বসে বাদাম খেয়েছেন।

সূত্র:এমটি নিউজ

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad