বোমাবাজি, বুথ দখল ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভাংচুররের
মধ্যে দিয়েই আরামবাগ সহ গোটা জেলার পঞ্চায়েত ভোট সম্পূর্ন হল। সোমবার সকাল থেকেই
আরামবাগের প্রতিটি বুথেই উত্তেজনা লক্ষ করা গিয়েছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই
উত্তেজনা চরমে ওঠে। এদিন আরামবাগ মহকুমার আরান্ডি, ইয়াদপুর ও নৈসারা এলাকায় মূলত
গোলমাল হয় তৃণমূল বনাম তৃণমূল সমর্থিত নির্দল প্রার্থীদের মধ্যে। ব্যাপক বোমাবাজি
ঘটনায় আরামবাগের আরান্ডি, নৈসারা ও ইয়াদপুর এলাকার ভোটাররা কার্যত ভীত সন্ত্রস্ত
হয়ে পড়েন। আরান্ডি ও নৈসারা এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তৃণমূলের
দুইজন কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশের সামনেই
ব্যাপক ছাপ্পা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ইয়াদপুর এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনায়
ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর মিলেছে। বোমাবাজির ঘটনায়
আরান্ডি এলাকায় পুলিশ ব্যাপক লার্ঠিচার্জ করেন। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে এদিন সকালে খানাকুলের নতিবপুর এলাকায়
রাউতখানা পাত্রপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ওই এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির
নির্দল প্রার্থীর অনুগামীরা সশস্ত্র অবস্থায় বুথে ঢুকে পড়েন। তৃণমূল কর্মী ও ভোট
কর্মীদের ব্যাপক মারধর করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পুনরায় ভোট গ্রহন
শুরু হয়। এই ঘটনায় পর তৃণমূল প্রার্থীর অনুগামীরা পালটা আক্রমন চালায় বলে অভিযোগ।
শুরু হয় বোমাবাজি ও গুলির লড়াই। পাশাপাশি গোলমাল থামাতে পুরশুড়াতেও পুলিশকে গুলি
চালাতে হয় বলে অভিযোগ। পুরশুড়ার শ্যামপুর এলাকায় তৃণমূল বনাম নির্দলের সমর্থকদের
মধ্যে গোলমাল শুরু হয়। এই ঘটনায় পুলিশকে শুন্যে গুলি চালাতে হয়। চিলাডাঙী ১০৬নম্বর
বুথে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে হুগলি কানাইপুর জিপি ও রাজধরপুর জিপির
মাদপুরে তৃণমূলের বাইক বাহিনীর ব্যাপক দাপাদাপি লক্ষ করা গিয়েছে। এদিন সকাল থেকেই
কানাইপুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী তথা বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল ও পঞ্চায়েত সমিতির সহ
সভাপতি আচ্ছালাল যাদবের অনুগামীদের মধ্য ব্যাপক মারামারি হয়। এই ঘটনার ছবি তুলতে
গেলে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়।

No comments:
Post a Comment