যৌন বিকৃতি কি? কি হয় তাতে? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 26 May 2018

যৌন বিকৃতি কি? কি হয় তাতে?




যূথী গ্রামের মেয়ে বয়স ৩০ বছর। খুবই করুন অবস্থা তার। কারন মাত্র ৭ মাস আগে তার স্বামী মারা গেছে। দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তার। এর মধ্যে সে জানতে পারল যে সরকার বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। তাই সে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মেম্বারের কাছে গেল।

যূথীঃ মেম্বার সাহেব, আমাকে একটা বিধবা ভাতার কার্ড দিয়েন ?

মেম্বারঃ আসলে এটাতো তোমার চেয়ে আরো যারা বয়স্ক তারা পাবে। তারপরও তুমি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলে দেখো, সে যদি কিছু করতে পারে।

যূথীঃ চাচা, আমারে বিধবা ভাতার একটা কার্ড দিয়েন।

চেয়ারম্যান : এটাতো বয়স্কদের দেয়। আচ্ছা ঠিক আছে তুমি আমার বাড়িতে ছোট-খাট কিছু কাজ কইরা দিও, আমি ব্যবস্থা কইরা দিমুনে।

যূথী চেয়ারম্যানের বাড়িতে যখন কাজ করতে থাকল তখন চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে তার সাথে অশালীন আচরণ করতে থাকে। একটা পর্যায়ে অসহ্য হয়ে পরে যূথী। কিছুদিন পর যূথীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। যূথী আইনের আশ্রয় নিতে চায়। কিন্তু চেয়ারম্যান উল্টো গ্রামে তার বিরুদ্ধে চরিত্রহীনা কলঙ্ক দিয়ে গ্রামের মোল্লা দিয়ে শালিস বসায়। শালিসে যূথীকে ১০০ দোররা মারার ফতোয়া দেয়া হয়। যূথীর ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সামনেই দোররা মেরে হত্যা করা হয়। এমন বর্বরতা দেখেও গ্রামবাসী চুপ করে থাকে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভয়ে ভীত হয়ে। ভাবতে অবাক লাগে আমাদের দেশে নাকি আইন নামক কিছু রয়েছে যার চোখ কালো রঙের কাপড় দিয়ে শুধুই বাঁধাই থাকে।

২০০৯ সালে মিরপুর বড়বাগ এলাকায় ৭ বছরের শিশু ময়নাকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত নিশ্চিত হলেও ২ বছরেও চার্জশিট হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, প্রত্যক্ষ সাক্ষী না থাকাটাই প্রধান সমস্যা। ঘটনার তিন মাসের মাথায় অভিযুক্তরা বেরিয়ে আসে জামিনে। পরে অভিযুক্তরা থানার পরামর্শে ময়নার বাবা মাকে বিষয়টি আদালতের বাইরে নিত্তি করতে চাপ দেয়। তাতে রাজি না হওয়ায় কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, প্রমাণিত হয়নি জানিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দেয়া হয়। অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

যৌনবিকৃতি বলতে এমনসব যৌন কর্মকাণ্ডের প্রতি আকর্ষণ অথবা এ সকল কর্মকাণ্ডের সংঘটন বোঝায় যেগুলো স্বাভাবিক নয়। কোন্‌ কোন্‌ যৌনক্রিয়া স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক তা নির্ধারিত হয় তিনটি পর্যায়ে। এগুলো হলো;

(ক) ধর্ম
(খ) স্থানীয় আইন এবং
(গ) সামাজিক রুচি।

ধর্ম ব্যতীত বাকী দুটি নিয়ামক যেহেতু চলমান বা পরিবর্তশীল, তাই যৌনবিকৃতির সঙ্গার্থও পরম বা চূড়ান্ত নয়। যেমন, এক সময় সমকাম সকল দেশের আইনে অবৈধ ছিল ; কিন্তু ১৯৮০ সাল থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি দেশে সমকাম একটি আইনসিদ্ধ যৌনক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

যৌন অপরাধ-১

যৌন অপরাধ হলো মানসিক কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যার একটি । এটি মূলত মানসিক আবেগের কারণে সংঘটিত হতে পারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ নানা যৌন অপরাধ সংঘটিত করতে পারে। যৌন সংসর্গ স্থাপনের অবৈধ চেষ্টার জন্যও যৌন নানা অপরাধ ঘটে থাকে।


যৌন অপরাধের প্রকারঃ

ক. পতিতাবৃত্তির জন্য অপরাধ
খ. জোরপুর্বক ধর্ষণ
গ. অন্যান্য যৌন অপরাধ

যৌন অপরাধ-২

সম্পর্কের মধ্যেও অপরাধঃ

দেখা যায় যে, দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক থাকাকালীন সময়ও যৌন অপরাধ সংঘটিত হয়। যেমন প্রেমিক প্রেমজনিত ধর্ষণ করে থাকে এবং বন্ধু বান্ধবের দ্বারা প্রেমিকা ধর্ষিত হয়।

অপরাধের স্থানঃ

বিভিন্ন যৌন অপরাধ বিভিন্ন স্থানে শতকরা হারে ঘটে থাকে। স্থানগুলো বিভিন্ন হতে পারে। যেমন বাসা, বাড়ির বাইরে, গাড়ির ভেতরে, মঞ্চে, পাবলিক টয়লেটে, স্কুলে, অন্যান্য যে কোনো স্থানে।

পতিতাবৃত্তিঃ

নানা কারণ এর পেছনে থাকতে পারে তবে প্রধান যে কারণটি বিবেচ্য হয় তা হলো অর্থ উপার্জন। পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে আইন আছে এবং সমাজবাদীদের মতে এটি একটি জঘন্য পেশা । অনেক দেশেই অবশ্য পতিতালয়কে স্বীকৃতি দেয়া হয় তাও আইনের মাধ্যমে । অবশ্য আমাদের মতো ইসলামিক দেশগুলোতে পতিতাবৃত্তি কড়াকড়িবাবে নিষিদ্ধ।

সমকাম ঘটিত অপরাধঃ

সমকামিতাও এক ধরনের অনৈতিক যৌনকর্ম । অনেকে মনে করেন এটি জঘন্য এবং ঘৃন্যতম যৌন অপরাধ। তবে সমকামিতায় যারা লিপ্ত তারাও এটিকে স্বাধীন এবং তাদের মনের ইচ্ছার প্রতিফলন মনে করে। অনেক ক্ষেত্রেই জনগনের আড্ডাস্থান বা কোনো অনুষ্ঠান থেকে সমকামিদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়ে থাকে। অনেক সময় সমকামিতা ধর্ষণের মতো অবস্থার সৃষ্টি করে। যেমন কোনো নাবালক বা ছোট বালক বৃদ্ধ পুরুষের সমকামিতার শিকার হয়। অনেক সময় সমকামিতায় লিপ্ত হয়ে অনেকে ডাক্তারি, চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাতে পারে।

ধর্ষণ-১

জোরপূর্বক যৌনমিল কোনো নারীর মতের বিরুদ্ধে হলেই তাকে ধর্ষণ বলা হয়। সাধারণত মামলায় এটিকে চোরপূর্বক ধর্ষণ ইল্লেখ করা হয়। গত বিশ বছর ধরে শুধু আমেরিকাতেই ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। কোনো সময় দেখা যায় যে, ধর্ষণকারী ধর্ষীতার কোনো না কোনোভাবে পরিচিত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষণ দিনের বেলায় ধর্ষীতার বাড়িতেই হয়ে থাকে। অনেক সময় ঝোপের আড়ালে ক্ষেতে বন্ধুর বাড়িতে কিংবা অজানা কোনো স্থানে হতে পারে। তবে বর্তমানে আইন ধর্ষণের ব্যাপারে খুবই কঠিন। ধর্ষণকারী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের দেশে ধর্ষণের শতকরা হার উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ধর্ষণের ঘটনা আমাদেরকে আশ্চর্য করে দেয়।

ধর্ষণ-২

জোরপূর্বক যৌনমিলন কোনো নারীর মতের বিরুদ্ধে হলেই তাকে ধর্ষণ বলা হয়। সাধারণত মামলায় তখন এটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ উল্লেখ করা হয়।

অনেক সময় পুলিশের কাছে ধর্ষনের প্রকৃত রিপোর্ট দেয়া হয় না । নানা কারণেই এটি হয়ে থাকে।

ক. ব্যক্তিগত ব্যাপার বিধায়
খ. কে জরিত তা না জানা থাকলে
গ. পুনর্বার ধর্ষণের ভয়ে
ঘ. সাক্ষী বা আলামত না থাকার জন্য
ঙ. পুলিশকে ডেকে ঝামেলা না বাড়ানোর জণ্য।

ধর্ষক এবং ধর্ষিতার বয়সঃ

ধর্ষিতাদের শতকরা ২৮ জন ১৮ বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী এবং ধর্ষণকারীদের বয়স ৬৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২৫ বছর এবং মাত্র ২৪ শতাংশের ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩৪ বছর হয়ে থাকে।

শিশুদের সাথে অপরাধঃ

বিভিন্ন যৌন অপরাধীদের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে সে, শিশুরা যৌন অপরাধের শিকার হয় খুব কম ক্ষেত্রেই । নানা সময়ে নানা বয়সী শিশু ধর্ষণ বা এরকম নানা যৌন অপরাধের শিকার হয়ে থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা মত দেন যে শিশুরা একবার যৌন যে কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হলে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে যায় এবং তারা উন্মাসিক উদাসীন হয়ে যেতে পারে। মনের কারিশমা আর শারীরিক পাশবিকতাকে নির্লিপ্ত করার উপায় হিসেবে শিশুদের সাথে অনেক যৌন সংসর্গ স্থাপন করে এতে করে শিশুর মানসিক বিকাশ রহিত হয়। দেখা যায় যে, শিশু অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা নানা সময়েই ছাড়া পেয়ে যায়। কেননা চূড়ান্ত কোনো প্রমান শিশুটির পক্ষে থাকে না । আমেরিকাতে শিশুর সাথে যৌন অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত শাস্তির ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশেও ইদানীংকাল নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ব্যাপকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এর ফলে নৈতিক অবক্ষয়ের কিছুটা উন্নতি আশা করা যেতে পারে।

শিশুদের সাথে যৌন অপরাধ ( যাদের বয়স ১৫ এর নিচে)

১. যৌনমিলনের জন্য আহবান করা কোনো ভয় বা জোর না
২. সমকামী আচরণ ছোট বালকদের সাথে
৩. আপন বা সৎ কন্যার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন
৪. জোর বা ভীতি দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন

আপন কন্যা বা পুত্রের সাথে যৌন সম্পর্কঃ

ক. বাবা-মেয়ে
খ. সৎ-বাবা-মেয়ে
গ. দাদা-নাতনী
ঘ. মা- ছেলে
ঙ. মা- মেয়ে

অন্যান্য যৌন অপরাধঃ

অন্যান্য যৌন অপরাধের মধ্যে পাবলিক নুইসেন্স ক্ষুন্ন হয় এমন অপরাধ বিদ্যমান। এসব অপরাধীদের জোরপূর্বক কোনো চাওয়ার থাকে না । কিন্ত তারা যৌন সমর্থক চায়। অধিকাংশ সময়ই এক্সিবিশন যা দেখানোর প্রক্রিয়া হলো সবচেয়ে মুখ্য। সাধারণত টেলিফোনে আড়ি পাতা, কাউকে সঙ্গনরত অবস্থায় দেখা বা কাপড় পাল্টানোর অবস্থায় দেখা যা স্বাভাবিকভাবেই অন্যজনের ব্যক্তিগত ব্যাপারে সমস্যার সৃষ্টি করে । কেননা এই সব অপরাধীরা অন্যদের যৌননিপীড়নের মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যম খুজে নেয়। বিভিন্ন আচার আচরণের মধ্যে যৌন অপরাধ ব্যাপৃত হতে পারে। যেমন ন্যাকরোফিলিয়া বা মৃত মানুষের সাথে যৌনসম্পর্ক, বেন্টিয়ালিটি-জীবজন্তুর সাথে যৌন সম্পর্ক এবং অনেক সময় পিতা বা মাতা তার নিজ পুত্র বা কন্যাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। অনেক সময় আবার পারিবারিক এই যৌন সম্পর্কের ফলাফল হিসেবে পরবর্তী জীবনে ছেলে বা মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয় না ।

যৌন অপরাধঃ

তিন ধরনের যৌন অপরাধের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে, এদের মধ্যে দেখানো ক্রিয়ার হার সবচেয়ে বেশি।

ক. দেখানো ক্রিয়া
খ. নগ্ন দৃশ্য দেখা
গ. নগ্ন কতাবার্তা শোনা

প্রদর্শনগত অপরাধঃ

১. বয়প্রাপ্ত নারীকে যৌন লিঙ্গ প্রদর্শন
২. ছোট মেয়েদেরকে যৌন লিঙ্গ প্রদর্শন
৩. জনসমক্ষে হস্তমৈথুন
৪. নগ্নতার প্রচার

হস্তমৈথুনঃ

হস্তমৈথুন একটি স্বাভাবিক যৌনকর্ম অথবা যৌনবিকৃতি কিনা এই বিষয়ে দীর্ঘকাল থেকে বিতর্ক আছে। বিভিন্ন ধর্মে হস্তমৈথুন একটি নিষিদ্ধ যৌনকর্ম, কিন্তু অনেক বৈজ্ঞানিক এটিকে মানুষের স্বভাবী যৌনক্রিয়া হিসেবে গণ্য করেছেন। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর হস্তমৈথুন কুফল কি, তা নিয়েও বিতর্ক চলমান। বিবাহিত ব্যক্তিরা কেন হস্তমৈথুন করে সে প্রশ্নটি নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, হস্তমৈথুন অনেকের জন্য একটি অনিবার্য অভ্যাসে (obsessive compulsive behavior) পরিণত হয়। তবে হস্তমৈথুনকে অনেক বিজ্ঞানীরা এটাকে সাস্থের জন্য ভাল বলে দাবি করেছেন।

হার, বয়স, ও লিঙ্গঃ

হস্তমৈথুনের হার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কারো যৌন ইচ্ছা বা হরমোনের মাত্রা তা যৌন উত্তেজনা, যৌন অভ্যাস, স্বাস্থ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। ই. হাইবি এবং জে. বেকার পরীক্ষা করে দেখেছেন যে কোনো স্থানের সংস্কৃতিও হস্তমৈথুনের হারকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও হস্তমৈথুনের সাথে কিছু চিকিৎসীয় কারণও জড়িত।

মানুষের মধ্যে হস্তমৈথুনের হার নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন রকমের জরিপ ও গবেষণা হয়েছে। আলফ্রেড কিনসের ১৯৫০-এর দশকের এক গবেষণায় বলা যায়, মার্কিন নাগরিকদের মাঝে ৯২% পুরুষ ও ৬২% নারী তাঁদের জীবনকালে অন্তত একবার হস্তমৈথুন করেছেন। ২০০৭ সালে যুক্তরাজ্যের মানুষের মাঝে করার একটি জরিপেও কাছাকাছি ফলাফল পাওয়া যায়। জরিপে দেখা যায় ১৬ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে ৯৫% পুরুষ ও ৭১% নারী তাঁদের জীবনের যে-কোনো সময়ে অন্তত একবার হস্তমৈথুন করেছেন। সাক্ষাৎকারের চার সপ্তাহ আগে হস্তমৈথুন করেছেন এমন পুরুষের হার ৭১% ও নারী ৩৭%। অপর দিকে ৫৩% পুরুষ ও ১৮% নারী জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই সাক্ষাৎকারের ১ সপ্তাহ আগে হস্তমৈথুন করেছেন।

২০০৯ সালে নেদারল্যান্ড ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সাথে যুক্তরাজ্যেও বয়সন্ধি কালীন ছেলে-মেয়েদের কমপক্ষে প্রতিদিন হস্তমৈথুন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হয়। অর্গাজম বা রাগমোচনকে শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে শিশু গর্ভবতীর ও যৌন সংক্রামক রোগের হারের প্রাপ্ত উপাত্ত লক্ষ্য করে, তা কমিয়ে আনতে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, এবং এটিকে একটি ভালো অভ্যাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে হস্তমৈথুনঃ

বিশ্বজুড়ে প্রাকঐতিহাসিক যুগের বহু শিলাচিত্রে পুরুষের হস্তমৈথুন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ থেকে ধারণা করার হয়, অপ্রাকৃতিক যৌন আচরণের সাথে মানুষের পরিচয় প্রাচীন যুগ থেকেই। মাল্টা দ্বীপের এক মন্দির সংলগ্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত, খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় চতুর্থ শতকে নির্মিত একটি মাটির ভাস্কর্যে একজন নারীর হস্তমৈথুরত সময়ের চিত্রও পাওয়া গেছে। তদুপরি, প্রাচীন যুগে মূলত পুরুষের হস্তমৈথুনের প্রমাণই বেশি পাওয়া যায়। তাই ধারণা করা হয় সে সময় এটিই বেশি প্রচলিত ছিলো।

প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীন সুমেরীয়দের যৌনতার বিষয়ে শিথিল ধ্যানধারণা পোষণ করতো, এবং হস্তমৈথুন সেখানে সক্ষমতা তৈরির একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি একাকী বা সঙ্গীর সাথে উভয়ভাবেই সম্পন্ন হতো।

প্রাচীন মিশরে পুরুষের হস্তমৈথুন আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতো। যখন কোনো দেবতার দ্বারা হস্তমৈথুন সংঘটিত হতো, তখন তা অনেক বেশি সৃষ্টিশীল ও জাদুকরী কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো। বিশ্বাস করা হতো মিশরীয় দেবতা আতুম হস্তমৈথুনের মাধ্যমে হওয়া বীর্যপাতের দ্বারা এই বিশ্বজগত সৃস্টি করেছেন, এবং সেই সাথে নীল নদের পানি প্রবাহও তার বীর্যপাতের হার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এর সূত্র ধরেই মিশরীয় ফারাওদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে নীল নদে হস্তমৈথুন করতে হতো।

হস্তমৈথুন ছাড়ার উপায়ঃ

১। যেসব ব্যাপার আপনাকে হস্তমৈথুনের দিকে ধাবিত করে, সেগুলো ছুড়ে ফেলুন, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।যদি মাত্রাতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে সত্যি সত্য মুক্তি পেতে চান তাহলে পর্ণ মুভি বা চটির কালেকশন থাকলে সেগুলো এক্ষুনি নষ্ট করে ফেলুন। পুড়িয়ে বা ছিড়ে ফেলুন। হার্ডড্রাইব বা মেমরি থেকে এক্ষুনি ডিলিট করে দিন। ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে ব্রাউজারে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল-এ গিয়ে এডাল্ট কন্টেন্ট ব্লক করে দিন। কোন সেক্স টয় থাকলে এক্ষুনি গার্বেজ করে দিন।

২। কোন কোন সময় হস্তমৈথুন বেশি করেন, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন। বাথরুম বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে যদি উত্তেজিত থাকেন, বা হঠাত কোন সময়ে যদি এমন ইচ্ছে হয়, তাহলে সাথে সাথে কোন শারীরিক পরিশ্রমের কাজে লাগে যান। যেমন বুকডন বা অন্য কোন ব্যায়াম করতে পারেন। যতক্ষণ না শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ হস্তমৈথুন করার মত আর শক্তি না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কাজ বা ব্যায়াম করুন। গোসল করার সময় এমন ইচ্ছে জাগলে শুধু ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন এবং দ্রুত গোসল ছেড়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে আসুন।

৩। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। সব সময় কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকুন। আগে থেকে সারাদিনের শিডিউল ঠিক করে রাখুন। তারপর একের পর এক কাজ করে যান। হস্তমৈথুনের চিন্তা মাথায় আসবে না। যারা একা একা সময় বেশি কাটায়, যাদের বন্ধুবান্ধব কম, দেখা গেছে তারাই ঘনঘন হস্তমৈথুন বেশি করে। একা একা না থেকে বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান। একা একা টিভি না দেখে বন্ধুদের সাথে কিছু করুন। বন্ধুবান্ধব না থাকলে ঘরে বসে না থেকে পাবলিক প্লেসে বেশি সময় কাটান।

৪। বসে না থেকে সময়টা কাজে লাগান। জীবনকে সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড দিয়ে ভরিয়ে তুলুন। সব সময় নতুন কিছু করার দিকে ঝোঁক থাকলে হস্তমৈথুনের ব্যাপারটা মাথা থেকে দূর হয়ে যাবে। এই সাথে আরো সব বাজে জিনিসগুলোও জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। নতুন ভাবে জীবনকে উপলব্ধি করতে পারবেন, বেঁচে থাকার নতুন মানে খুঁজে পাবেন।

৫। সৃষ্টিশীল কাজে জড়িয়ে পড়ুন। লেখালেখি করতে পারেন, গান-বাজনা শিখতে পারেন, আঁকাআঁকি করতে পারেন, অথবা আপনি যা পারেন সেটাই করবেন।

৬। নিয়মিত খেলাধূলা করুন। ব্যায়াম করুন। এতে মনে শৃঙ্খলাবোধের সৃষ্টি হবে। নিয়মিত হাঁটতে পারেন, দৌড়াতে পারেন, সাঁতার কাটতে পারেন, জিমে গিয়া ব্যায়াম করতে পারেন। বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট- যা ইচ্ছে, কিছু একটা করুন।

৭। স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার খাবেন। ফলমূল-শাকসবজি বেশি খাবেন।
নতুন কোন শখ বা হবি নিয়ে মেতে উঠুন। বাগান করতে পারেন, নিজের রান্না নিজে করতে পারেন, আরো কত কিছু আছে করার। আপনি যা করতে বেশি পছন্দ করেন, সেটাই করবেন। কিছুদিন পর আবার আরো নতুন কিছু করতে বা জানতে চেষ্টা করুন।

৮। অফুরন্ত সময় থাকলে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ুন। দেশ ও দশের জন্য সেবামূলক কাজে জড়িত হোন।

৯। ধৈর্য ধরতে হবে। একদিনের একটা নেশা থেকে মুক্ত পাবেন, এমন হবে না। একাগ্রতা থাকলে ধীরে ধীরে যে কোন নেশা থেকেই বের হয়ে আসা যায়। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যাবে। তখন হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দেবেন না। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার আগাতে হবে।

১০। ভালো কাজ করলে নিজেকে নিজে নিজে পুরস্কৃত করবেন। ভালো কোন জায়গাত ঘুরতে যাবেন। ভালো কোন রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে আসবেন। নিজেকে ছোট ছোট গিফট কিনে দেবেন এবং সেগুলো চোখের সামনে রাখবেন এবং মনে করবেন যে অমুক ভালো কাজের জন্য এই জিনিসটা পেয়েছিলেন।

১১। অপরের সাহায্য নিতে ভুল করবেন না। রাতের বেলা হস্তমৈথুন করলে কারো সাথে রুম শেয়ার করুন। বা দরজা জানালা খোলা রেখে আলো জ্বালিয়ে ঘুমান। যখন দেখবেন যে সব চেষ্টা করেও একা একা সফল হতে পারছেন না, তখন বন্ধুবান্ধব, পরিবার, ডাক্তার- এদের সাহায্য নেয়া যায়। এখানে লজ্জার কিছু নাই।

শিশুকে তার মতো করে বেড়ে উঠতে দেয়া উচিত। শিশুর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলে শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপূর্ণরূপে বেড়ে উঠবে। তবে শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের ক্ষেত্রে তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অধিক গুরুত্ব বহন করে। আমাদের শিশুদের নানা সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। অনেক পরিবারে বাবা মা দু’জনই চাকরি করেন। ফলে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় সমস্যা হতে পারে। তবে যে কোনো পরিবারের ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি সমস্যায় পড়ে।

রাজধানীর বাড্ডায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে পালাক্রমে দুই বখাটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল-কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোলার দৌলতখানে চাচাতো ভাইয়ের ছোড়া এসিডে ঝলসে গেছে এক কলেজ ছাত্রীর মুখমন্ডল। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ২টি শিশু। নারীদের তুলনায় কোমলমতি শিশুদের ধর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ধর্ষকরা শুধু ধর্ষণ করেই থেমে থাকছে না, ঘটনা ধামাচাপা দিতে নৃশংসভাবে হত্যা করছে। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় সখীপুর থানার মালতকান্দি গ্রামে ৮ বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সখীপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা শিশুটির বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মোহাম্মদপুরে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাড়ে তিন বছরের এক শিশু। ধর্ষণের অভিযোগে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ঐ শিশুদের পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া। যশোরে ১১ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। যশোর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, যশোর উপশহরে সারথী টেক্সটাইল মিল এলাকায় শিশু কন্যাকে নিয়ে এক মা বসবাস করেন। তিনি মেসে রান্নার কাজ করেন। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টায় শিশুটির মা রান্না করতে গেলে একই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে ফিরোজ ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ক্রমশ ধর্ষককে আটক করেছে। একই দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র ভোলাহাটে ১০ বছরের এক মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভোলাহাট ইউনিয়নের চর ধরমপুর গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে রবিউল শিশুটিকে ধর্ষণ করে পাশের একটি ক্লাব ঘরের পেছনে নিয়ে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা শিশুর বাবা বাদি হয়ে ভোলাহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ধর্ষক রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের বেশির ভাগই আইনী সহায়তা পাচ্ছে না। এসব শিশু দরিদ্র পরিবারে হওয়ার কারণেই তারা আইনী সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। যৌন হয়রানি ও শিশু পাচারের বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা এবং পদক্ষেপ নেয়া হলেও শিশুদের যৌন হয়রানির বিষয়টি উপেক্ষিতই রয়ে যাচ্ছে। বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যাযুক্ত কন্যা শিশুদের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগই যৌন নির্যাতনের শিকার। যে কোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের ফলে শিশুদের বড় ধরনের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব অনাকাঙিক্ষত ঘটনার দায় শিশুকে সারা জীবন বহন করতে হয়। শিশু যৌন নির্যাতন একটি বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়। কোমলমতি শিশুদের ওপর এ ধরনের জঘন্য অত্যাচার-নির্যাতন রাষ্ট্রের পক্ষেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পর পর ২ বছর ৯৬ শতাংশ মামলাই বিভিন্ন কারণে খারিজ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো অভিযোগপত্র চার্জশিট না হওয়াই প্রধান কারণ। প্রতিদিন যে কারণে মামলা হচ্ছে একই হারে অভিযোগপত্র দাখিল হচ্ছে না। আছে দুর্বল প্রাথমিক তথ্য বিবরণী এফআইআর, তদন্তে অবহেলা, ক্ষেত্র বিশেষে সাজানো মামলা। সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, জামিন অযোগ্য অপরাধ হলেও তদন্তে বিলম্বে হওয়ায় আসামীরা জামিন পাচ্ছে। বাদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করছে। সমাজে শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে। এছাড়াও শিল্প এলাকায়, যেখানে মা-বাবা দুজনেই কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেখানেই শিশু যৌন নির্যাতনের হার বেশি। এছাড়াও একান্নবর্তী পরিবারের তুলনায় একক পরিবারে বেশি ঘটে থাকে যৌন নির্যাতন। শিশু যৌন নির্যাতনের হার এখন হর হামেশাই ঘটছে। যৌন নির্যাতনের ঘটনা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গোপন থাকে বলে এখনও এ বিষয়টি নিয়ে কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি।

যৌন অবক্ষয় রোধে করনিয়ঃ

আইনের শাস্তির বিধানগুলো সাধারণ মানুষকে জানানো সম্ভব হলে শিশু নির্যাতনের হার কমবে। বর্তমান সামাজিক অবক্ষয় এবং বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটছে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিরপেক্ষ তদন্তের অভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্যে দায়ী। তাছাড়া শিশু ধর্ষণের মেডিকেল পরীক্ষাগুলো সময় মতো না পেলে আলামত নষ্ট হয়ে যায়। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আসামীর শাস্তির বিষয়ের সংজ্ঞাকে সুস্পষ্টভাবে এবং বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা না থাকায় ধর্ষক বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছাড়া পেয়ে যায়। এছাড়া ধর্ষণ যে একটি জঘন্য অপরাধ সেটিকে আমলে নেয়া হচ্ছে না। প্রতিনিয়তই এ ধরনের অপরাধ যারা ঘটাচ্ছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে আইনের কার্যকারিতার বিকল্প নেই। পাশাপাশি মেয়ে শিশুদের জীবনযাপন এবং চলাফেরার দিকে অভিভাবকদের একটু বেশি নজর দেয়া উচিত। তবে তারা যেন নিগৃহীত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধে সমাজে সচেতনতা আনতে হবে। মেয়েদের স্কুল-কলেজের সামনে বা রাস্তায় যৌন উক্ত্যক্তকারীরা না দাঁড়াতে বা আড্ডা না দিতে পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন যে একটি ঘৃণ্য অপরাধ সে ব্যাপারে মসজিদের ইমাম এবং সমাজপতিদের সভা সমাবেশ করতে হবে। এ ব্যাপারে যারা অপরাধী তাদের কঠোর সাজার ব্যবস্থা করতে হবে।

যে ধরণের আচরণগুলোকে যৌন পীড়ন বলা যায়ঃ

• যৌন কামনা বা ইচ্ছা চরিতার্থ করার জন্য বলপ্রয়োগ।
• যৌন কামনা চরিতার্থে কোন অঙ্গ স্পর্শ।
• উদ্দেশ্যমূলক বা ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনাঙ্গ প্রদর্শন।
• কোন বস্ত্ত দ্বারা যৌন অঙ্গ স্পর্শ।
• যৌন উদ্দেশ্য প্রণোদিত স্পর্শ।

যেসব বয়সী মেয়েরা যৌন পীড়নের শিকার হয়ঃ

• কিশোরী
• কম বয়স্ক এবং নতুন চাকুরিতে যোগদান করা নারী
• কারো করুণা বা সহায়তায় চাকুরি পাওয়া অসহায় নারী।
• স্টেনো/টাইপিস্ট, ব্যক্তিগত সেক্রেটারি, টেলিফোন অপারেটর, রিসেপশনিস্ট, নার্স, মডেল।
• গার্মেন্টস কর্মী, গৃহপরিচারিকা।
• বিধবা/স্বামী পরিত্যক্তা/তালাকপ্রাপ্ত নারী/একা নারী বা মা।
• সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী ইত্যাদি।

যেসব কারনে মানুষ এরকম আচরণ করে, তাদের বিবেক বলে কিছু নেইঃ

• সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়।
• সামাজিক অস্থিরতা।
• নারীকে ভোগ ও পণ্যসামগ্রী হিসেবে উপস্থাপন ও ব্যবহার।
• যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নিরবতা।
• অপরাধীদের শাস্তি না দেয়া।

এর বিরুদ্ধে আমাদের দেশে যেসব আইন প্রচলিত আছেঃ

আইনের দৃষ্টিতে যৌন পীড়ন একটি ভয়াবহ অপরাধ। বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে যৌন পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিকারের বিধান রয়েছে।

যৌন পীড়ন রোধে আমাদের কিছু করণীয়ঃ

• সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ
• নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন
• কর্মস্থলে নারীদের জন্য সহায়ক কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি করা
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর নীতিমালা ও শাস্তি বিধি প্রণয়ন
• প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে জেন্ডার, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার ইস্যুগুলো অন্তর্ভূক্ত করা
• কিশোর-তরুণদের ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ/কাউন্সেলিং প্রদান
• বিদ্যমান আইন, চুক্তি ও সনদের যথাযথ বাস্তবায়ন
• যৌন হয়রানির বিষয়টি গোপন না রেখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো
• যৌন হয়রানি মামলাগুলোর দ্রুত বিচার ও যথাযথ নিষ্পত্তি
• বারসিক গণমাধ্যমে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে গণ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রদর্শন।

যৌন পীড়নঃ

নারী নির্যাতনের একটি ধরণ হলো যৌন পীড়ন। যদি কোন ব্যক্তি তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য তার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্ত্ত দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোন স্থান স্পর্শ করেন বা শ্লীলতাহানী করেন তাহলে তার এই কাজ হবে যৌন পীড়ন।

যৌন পীড়নের ফলাফলঃ

• মানসিক ভারসাম্যহীনতা।
• আত্মহত্যা।
• বিষন্নতা।
• আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার অভাব।
• হীনমন্যতা।
• নিজেকে অশুচি মনে করা।
• লেখাপড়ায় অনীহা।
• সন্দেহ প্রবণতা।
• যৌনবিকৃতি।
• সুস্থ যৌন জীবনে অনিচ্ছা।

আইনে যৌন পীড়নের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান আছেঃ

যৌন পীড়নের/ নারীর প্রতি অশালীন আচরণের ক্ষেত্রে দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৫৪ এবং ধারা ৫০৯ এ শাস্তির কথা বলা আছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরী পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬, ধারা-৭৬ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা-১০ এ যৌন পীড়নের শাস্তি সর্ম্পকে বলা আছে।

যৌন পীড়নের শিকার হলে যেখানে আইনি সহায়তা পাওয়া যেতে পারেঃ

জেলা জজ আদালতের আইন সহায়তা কেন্দ্র, বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইন সহায়তাকারী সংগঠন, জেলা আইনজীবী সমিতি এ ব্যাপারে আইনী সহায়তা প্রদান করে থাকে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad