চাঁদনী, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানার খঞ্চি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনুভা দাসের স্বামী পরলোকগমন করেন ২০০২ সালে। তারপর থেকেই বৃদ্ধা অনুভা দাস একে একে মেয়েদের বিয়ে দেন। কিন্তু বছর দুয়েক আগে একজন কন্যা সুমনা পাড়ই স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হন। তারপর থেকে ঠাই হয় বৃদ্ধা অনুভা দাসের কাছে। বৃদ্ধার ছেলে বাপ্পা দাস দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধার নামে থাকা সব সম্পত্তি নিজের নামে জোর করে নেওয়ার জন্য মারধোর ও অত্যাচার করতেন বয়স্কা অনুভা দাসকে।
এমতাবস্থায় বৃদ্ধা বিভিন্ন জায়গায় বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিন পর এলাকার মানুষের আশ্বাসে পুনরায় ছেলের কাছে ফিরে যান। বাড়ি ফেরার দিন কয়েকের মধ্যেই অভিযুক্ত বাপ্পা দাস ও স্ত্রী শম্পা দাস বৃদ্ধার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করেন। কিন্তু বৃদ্ধা মুখ বুজে দিনের পর দিন সব সহ্য করতেন। কিন্তু বিগত কয়েক মাস বৃদ্ধার কন্যা বৃদ্ধার কাছে থাকার দরুন সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অনিশ্চয়তা দেখে অত্যাচার বাড়তে থাকে। অবশেষে বৃদ্ধা আর সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় নন্দকুমার থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন। কিন্তু নন্দকুমার থানার সাব ইন্সপেক্টর পার্থপ্রতিম মাইতি অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। অবশেষে বৃদ্ধা সেবারের মতো বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে অত্যাচারের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে থাকে বৃদ্ধা অনুভা দাস সহ তার কন্যা সুমনা ও দুই নাতির ওপর। বৃদ্ধ ও তার কন্যা সহ নাতিদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করতে থাকেন অভিযুক্ত বাপ্পা ও তার স্ত্রী শম্পা। এলাকাবাসীদের জানিয়েও তাদের থেকে ন্যূনতম সাহায্য পাননি অনুভা দেবী ও তার কন্যা। অবশেষে শুক্রবার দুপুর এক টা নাগাদ অভিযুক্ত বাপ্পা ও তার স্ত্রী শম্পা ব্যাপক মারধর করেন বৃদ্ধা অনুভা সহ তার কন্যা সুমনা ও দুই নাতিকে। মারধরের পর বাড়ি থেকে জোর করে বের করে দেন ও বাড়ি ফিরলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এমত অবস্থায় আহত বৃদ্ধা ও তার কন্যা সহ দুই নাতি নন্দকুমারের খেজুরবেড়িয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে চিকিৎসা করান। এরপর নন্দকুমার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে আসেন। অভিযোগ সেই সময় নন্দকুমার থানায় ডিউটি অফিসার পার্থপ্রতিম মাইতি বৃদ্ধা ও তার কন্যা সহ সবার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। অনেক অনুরোধ করলে অভিযোগ পত্র ছিড়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এরপর অসভ্য গালিগালাজ করে সবাইকে থানা থেকে বের করে দেন ও পুনরায় অভিযোগ জানাতে এলে মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। সেই থেকেই বৃদ্ধা অনুভা দাস ও কন্যা সুমনা সহ সুমনার দুই ছেলের ঠাই হয় নন্দকুমার থানা সংলগ্ন রাস্তার প্রাঙ্গণ। আরো অভিযোগ নন্দকুমার থানার ডিউটিরত কনস্টেবল মারফত সাব ইন্সপেক্টর পার্থপ্রতিম মাইতি টাকা দিলে অভিযোগ নেবেন এই বলে টাকা চেয়ে পাঠান। কিন্তু টাকা দিতে অক্ষম হওয়ায় রাতভর সবার ঠাঁই হয় নন্দকুমার থানার প্রাঙ্গণ ও রাস্তায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মাসকয়েক আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার ভি সলোমন নিশাকুমারের উদ্যোগে "স্পর্শ" নামের একটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক রশ্মি কমল। বয়স্ক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা দের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারবদ্ধতা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেই পূর্বমেদিনীপুর জেলাতেই এমন এক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে।

No comments:
Post a Comment