সঞ্জয় দত্ত, ফারদিন খান আর রাহুল মহাজনের মধ্যে মিল কোথায় বলতে পারেন ? উত্তরটা হয়তো খুব কঠিন নয়। এঁরা সকলেই সেলিব্রিটি। এঁরা সকলেই আলালের ঘরের দুলাল। এঁরা সকলেই নেশাড়ু সেলিব্রিটিদের লিস্টের প্রথম শ্রেণির তারকা। আর নেশার জন্য এঁরা সকলেই অন্তত একবার করে কারগার থেকে ঘুরে এসেছেন। ধরা পড়ার পর নাকি সকলেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, আর তাঁরা নেশা করবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্নটা বরং তোলা থাক। কারণ, সাধারণত দেখা যায় প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি না থাকলে নেশার গেরো থেকে নিস্তার মেলে না। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তি নেশাকে ছেড়ে দিতে চাইলেও নেশা ব্যক্তিকে ছেড়ে যেতে চায় না।
নেশা-মাদক ইত্যাদির লিস্টে সিগারেট, মদ, গাঁজা, চরস, আফিম এখন ‘পুরাতন প্রজন্ম’। আজকাল এমন সব নতুন নতুন নেশার বস্তু বাজারে চালু হয়েছে যে, সেগুলোর নাম শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। বিভিন্ন ধরনের কসমেটিক, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, নানা ধরনের আঠা এমনকী বেশ কিছু ওষুধও এখন নেশার বস্তু। যেগুলো একবার ব্যবহার করলে তার হাত থেকে নিস্তার নেই।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে মানুষ নেশা করে কেন ?
নেশা করার নানান কারণ রয়েছে । কিন্তু তার আগে জানা দরকার যে কারা নেশা করে । সমীক্ষা বলছে, সাধারণত কিশোরদের মধ্যে নেশা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তির কারণে তারা নেশার ফাঁদে পা দেয় । মা-বাবার সান্নিধ্যের অভাবে যে সমস্ত সন্তানেরা ছেলেবেলা থেকেই একাকিত্বের শিকার হয়, তারাই মূলত নেশাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায় । স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি থেকে মুক্তির পথ হিসেবেও অনেকে নেশাকে বেছে নেয়। ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে নেশা করে গেলে নাকি কনফিডেন্স বাড়ে । এমন অদ্ভুত উদাহরণের সাক্ষীও হয়েছেন মনোবিদরা । অনেকে আছে যাঁরা নাকি বন্ধুর পাল্লায় পড়ে জাস্ট একবার ট্রাই করতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে । উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের অনেকের কাছেই আবার নেশা করাটা স্টেটাস সিম্বল।
অবশ্য একবার নেশা করতে শুরু করলে কিন্তু তার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া কঠিন । ব্যক্তির স্বভাবের পরিবর্তনের পাশাপাশি সংসারে অশান্তি নেশার প্রাথমিক প্রভাব । নেশা যখন ক্রমশ গ্রাস করতে থাকে, তখন খিদে, ঘুম তো উড়ে যায়ই, শুরু হয় অবসাদ, ভুল দেখা, ভুল শোনার মতো নানা সমস্যা। এমনকী চুরি, ডাকাতি, খুনের মতো অসামাজিক কাজেও তারা লিপ্ত হয়ে পড়ে।
নেশায় আক্রান্তদের ভালো করার জন্য বিভিন্ন রিহ্যাব বা সংশোধনাগার রয়েছে । অনেকেই সেখানে থেকে ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু অনেকেই আবার নেশার হাতছানি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি । ফলে গোটা জীবনটাই চলে গেছে নেশার কবলে।
তবে একটু খেয়াল রাখলেই অঘটন রুখে দেওয়া যায় । আর সেটা পারেন একমাত্র মা-বাবারাই । এক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষ রাখতে হবে সন্তানের খিদে ঘুম কমে যাচ্ছে কি না । পড়াশোনা সহ অন্য কাজে তার পারফরম্যান্স কেমন । বাথরুম বা ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে বেশি সময় কাটাচ্ছে কি না । দিন দিন ওর চেহারা, ত্বক, চুল খারাপ হয়ে যাচ্ছে না তো ? নিয়মিত যারা নেশা করে তারা প্রচন্ড শীতকাতুরে হয় । আবার নেশা নেওয়ার সময় তারা দরদর করে ঘামতে থাকে । তাই সন্তানের শরীরের তাপমাত্রা কেমন, সময় বিশেষে তাও লক্ষ রাখতে হবে ।
আর সবচেয়ে বড় কথা সন্তানকে সময় দিন । তাহলেই তো ও নেশার দিকে ছুটবে না । একাকিত্বে ভুগবে না । সম্পর্ককে ক্ষতিকারক নেশায় পরিণত না করে ভালোবাসার নেশায় মোহিত করে তুলুন । গড়ে উঠুক সুন্দর ভবিষ্যৎ ।

No comments:
Post a Comment