জয়ন্ত সাহা, আসানসোলঃ আসানসোল উত্তর বিধানসভা লাগোয়া বারাবনি বিধানসভা অঞ্চল৷ এর দক্ষিণ ভাগে পুঁচড়া গ্রামপঞ্চায়েতের খোসনগর, বেলডাঙা, সরিষাতলি, মদনপুর গ্রামগুলিতে পৌঁছালে দেখা যাবে জলের হাহাকারের ছবি ৷ ইতিমধ্যেই শিল্পাঞ্চলের তাপমাত্রা রোজ ৩৮ থেকে ৪২ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে৷ রোদের তীব্র দাপটে পুকুর জলাশয়গুলি শুকিয়ে গিয়েছে। অধিকাংশ নদীর জলেও টান ধরেছে ৷ কুয়ো বা চাপকলে জলস্তর নেমে যাওয়ায় ভোগান্তি শুরু হয়েছে সাধারণ মানুষের ৷
পানীয় জলের ব্যবস্থা বলতে প্রতিটি গ্রাম থেকে দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে পিএইচইর তৈরী একটি কল ৷ যেখানে জল পাওয়া যায় মাত্র দেড় থেকে দুঘন্টা ৷ রাস্তায় সাইকেলে জ্যারিকেন ভরে জল বয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য হামেশাই চোখে পড়বে এই এলাকায় ৷
বেলডাঙার অধিবাসী সুভাষ বাউরি বলেন,বড় রাস্তার ধারে ওই একটি জলের কলের উপর নির্ভর করে আছে আশেপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় দশহাজার মানুষ ৷ ফলে প্রতিদিন ওই কল থেকে সবার পানীয় জলটুকুও পাওয়া সম্ভব হয়না ৷ পার্শ্ববর্তী গ্রাম মদনপুরে গিয়ে দেখা গেল,গ্রামে পিএইচইর করে দেওয়া জলের লাইন বা কলের ব্যবস্থা করা আছে৷ কিন্তু কল থাকলেও তাতে জল নেই ৷ কলগুলিতে দীর্ঘদিন জল সরবরাহ না হওয়ায় গ্রামের গরু বাঁধার খুঁটি হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে৷ অবশ্য পিছনের দেওয়ালেই জ্বলজ্বল করছে সদ্য পঞ্চায়েত নির্বাচন পেরানো জিলা পরিষদে জয়ী প্রার্থীর নাম ৷ গ্রামের অধিবাসী শেখ মইনুদ্দিন জানালেন,গ্রামটির অবস্থান উঁচু জায়গায় ৷জলের পাইপে প্রেসার না থাকায়,পানীয় জল শেষ পর্যন্ত গ্রামে এসে পৌঁছায়না৷ মূলত বারাবনির গ্রামগুলিতে, অজয় নদী থেকে জল প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করা হয় ৷ গ্রীষ্মে নদী নিজেই শুকিয়ে যায় ৷একইসাথে যে প্রকল্পের মাধ্যমে রসুনপুর কাপিষ্ঠা অঞ্চলে জল সংরক্ষণ করা ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়,তার যেখানে সেখানে ফুটো করে জল চুরি করা হচ্ছে ৷ অবিরত জল চুরির ফলে সংরক্ষণের জলাধারটিই পূর্ণ হচ্ছেনা ৷ নদীর বুক থেকে পর্যাপ্ত পরিমান জল জলাধারে জমা না হওয়াতে জল সরবরাহ হচ্ছেনা ঠিক মতো ৷
গ্রামের আরেক অধিবাসী গোলাম মুর্তাজা জানালেন,বর্তমানে জিলা পরিষদের বিজয়ী প্রার্থী পুজা মাড্ডিকে ভোট প্রচারের সময় এ সমস্যার কথা সব বলা হয়েছিল ৷ তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন বিষয়টি দেখবেন বলে ৷ তবে ভোটের ফলাফল বেরানোর পরে তিনি এখনো গ্রামমুখো হননি ৷ এখন তাদের রমজান মাস চলছে ৷ অবিলম্বে জল চুরি বন্ধ করে যাতে গ্রামে পানীয় জল সরবরাহ করা যায়,সেই ব্যবস্থার দাবিতে গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে তারা স্মারকলিপি জমা করবেন বিডিওর কাছে" ৷
পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে এলাকার বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,"সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে ছটি জল ট্যাঙ্ক তৈরী হলেও,বাম আমলে এ বিষয়ে কিছুই কাজ করা যায়নি ৷ তবে পরিবর্তনের সরকারের আমলে তিনটি নতুন জল প্রকল্পের কাজ হয়েছে দাসকেয়ারি দেন্দুড়ি ও নুনি অঞ্চলে ৷ এছাড়া ডালমিয়া মল্লাডি ও মাজিয়াড়াতে জল প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে ৷ এগুলি হয়েগেলে কিছুটা সুরাহা হবে ৷ তাছাড়া সাবমার্শাল পাম্প লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে ৷ ইতিমধ্যেই বিষয়টি এডিডিএ (আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলাপমেন্ট অথারিটি)ও পাপ এর নজরে আনা হয়েছে ৷খুব শিগগিরি সমস্যার সমাধান হবে ৷পাশাপাশি নিকটবর্তী পাওয়ার প্ল্যান্ট আইসিএমএলকে সি এস আর প্রকল্পে জল সরবরাহ করতে বলা হয়েছে ৷ তবে রমজান মাসকে সামনে রেখে পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে গ্রামগুলিতে ট্যাঙ্কের মাধ্যমে জল সরবরাহ শুরু হয়েছে ৷"



No comments:
Post a Comment