মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: অভাবকে হার মানিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে সেরা। ইচ্ছা কলেজে শিক্ষকতা করার। কিন্তু সেখানেও বাধা সেই অভাবের।নাম এন্তাজ আলি মোল্লা। বাড়ি ক্যানিং থানার উত্তর অঙ্গদবেড়িয়া এলাকায়।এন্তাজের প্রাপ্ত নম্বর ৪৩৬।এহেন স্টার ছাত্রের কলেজে ভর্তিহয়ে পড়া চালাতে এখন ভরসা অন্যের সাহায্য। অন্যের সাহায্য না পেলে তারপক্ষে সম্ভব নয় উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার। এহেন কৃতি ছাত্র বুঝতে পারছেন না আদৌ কলেজে ভর্তি হতে পারবেন কিনা।
মাটির খড়ের চালের ভাঙ্গা বাড়ি। আর্থিক অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরায়।বাবা এলাকা থেকে ধানের তুঁষ কিনে বাজারে বিক্রি করেন।তাতে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে অভাবের সংসার।বাবা ইয়াকুব মোল্লার এক বিঘা বসত বাড়ি তাতেই থাকেন ছয় ছেলে। তবে সকলের আলাদা সংসার। শেষ দুই ছেলে নিয়ে এক সাথে থাকেন ইয়াকুব। কোনও মতে অভাবের সংসারে ছেলে কে পড়াচ্ছেন অন্যের সাহায্য নিয়ে।স্কুলের অবসর সময়ে পাড়া থেকে তুঁষ - গুঁড়ো কিনে বাবাকে সাহায্য করেন।তাছাড়া পড়াশুনোর খরচ চালাতে কখনো কখনো বসেন সেলাই মেশিনে। রাত জেগে জামা সেলাইয়ের কাজ করেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ডেভিড সেশুন হাইস্কুলের থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন এন্তাজ আলি মোল্লা। সে বাংলায় পেয়েছে ৮১, ইংরেজিতে ৮০,ভূগোলে ৯১,ইতিহাসে ৯১ ও দর্শনে ৯৩। এবিষয়ে এন্তাজ আলি মোল্লা বলেন, ভালো করে পড়াশুনার জন্য সময় দিতে পারতাম না।বাবার কাজে সাহায্য করতাম।তা ছাড়া একটি টিউশনির খরচ জোগাড় করতে রেডিমেড শার্ট তৈরির কাজ করতাম।সেলাই কার্টিং যেমন কাজ হতো তা করে আয় করে নিজের খরচ ও সংসার খরচ যোগাড় করতে হতো।এখন বুঝতে পারছি না এতদিন যেভাবে পড়ার খরচ চালিয়েছি আগামী দিনে তা পারবো কিনা।ভূগোল নিয়ে পড়াশুনা করতে গেলে কলেজে সময় দিতে হবে।কলেজে যেতে হবে। তাই কোনোও সহৃদয় ব্যাক্তির আর্থিক সাহায্য পেলে পড়া চালানো সম্ভব। না হলে কলেজের আগেই পড়াশুনো ছেড়ে দিতে হবে।
এন্তাজের বাবা মা দুজন ই নিরক্ষর। ছেলে কোন ক্লাসে পড়ছে, কি পরীক্ষা দিয়েছে তাও ভালো করে জানেন না তারা। শুধুই চান ছেলের ইচ্ছা পুরন হোক।ভালো পড়াশুনা করে ছেলে আরো বড় হোক।কিন্তু ছেলে কে পড়ানোর মত ক্ষমতা তাদের নেই। এবিষয়ে বাবা ইয়াকুব মোল্লা বলেন, ছেলেকে পড়ানোর মত আর্থিক ক্ষমতা আমাদের নেই।এলাকার মানুষের সাহায্য আর নিজের প্রচেষ্টাতে ওর এই সাফল্য। আমি তো পড়াতে পারবো না ছেলে জানে।কোনও সহৃদয় মানুষ এগিয়ে আসলে তবেই ও পড়তে পারবে।

No comments:
Post a Comment