বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সফর শেষ হতেই পুরুলিয়ায় তেড়েফুঁড়ে লাগল তৃণমূল। লাগদা গ্রামে যে পরিবারগুলির সঙ্গে বৃহস্পতিবার অমিত শাহ কথা বলেছিলেন, রাত থেকেই তাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন তৃণমূল নেতারা। রাতেই এক পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায়।শুক্রবার সকালে এই খবর নিশ্চিত করেন লাগদার তৃণমূল নেতা তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি মানিকমণি মুখার্জি।
তিনি জানান, চারজন তাঁদের সঙ্গে কলকাতায় গেছেন- গোবিন্দ রাজভর ও তাঁর মা অষ্টমী রাজোয়াড় এবং শিশুবালা রাজোয়াড় ও তাঁর ছেলে সঞ্জয়। এরা কালীঘাটে গিয়ে আপাতত বসে রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেবেন। এরা স্বেচ্ছায় তৃণমূলে এসেছেন বলে দাবি মানিকমণিবাবুর।
বৃহস্পতিবার লাগদা গ্রামে গিয়ে দলিত সম্প্রদায়ের এই পরিবারগুলির হাতে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্প সম্বন্ধে বাংলায় লেখা লিফলেট তুলে দেন অমিত শাহ। সেইসঙ্গে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। তাঁরা যে কোনও প্রকল্পেরই সুবিধা পাননি তা অমিত শাহকে জানিয়ে দেন দলিত এই পরিবারের সদস্যরা। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তৃণমূলের তরফে ওই পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দিলীপ রাজভরের ঘরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল নেতারা। সূত্রের খবর, সরাসরি তৃণমূল করার জন্য তাঁদের বোঝানো হয়। প্রচুর সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এরপর রাতেই পরিবারের দুই বৃদ্ধা ও দুই যুবককে সোজা কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মানিকমণিবাবু বলেন, "ওঁরা(রাজোয়াড়রা) বলছিলেন যে অমিত শাহরা ওঁদের বিভ্রান্ত করেছেন। ওঁরা জানতেন না। জেলা নেতৃত্বে(BJP-র) অমিত শাহকে নিয়ে গিয়ে ওঁদের বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন। রাজোয়াড়রা মনে করছেন, তাঁরা তৃণমূলের কাছে চিহ্নিত হয়ে যাবেন। পঞ্চায়েতের কোনও সুযোগ সুবিধা পাবেন না। তাছাড়া তাঁরা বলছেন, BJP-তে তাঁরা ছিলেন না। এখনও নেই। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ওঁদের পাশে থাকেন। তাই রাজোয়াড়রা হয়ত ভেবেছেন, আর পাত্তা পাবেন না। তাই হয়ত কিছুটা ভয় কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ওঁরা আমার কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি আমরা অভিষেককে(অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) জানাই। অভিষেক বলেছেন, নিয়ে আসুন। এরপর তৃণমূলের পতাকা ধরবেন।"
রাজোয়াড় পরিবারের অন্য সদস্যরা এনিয়ে কোনও কথা বলতে চাননি।
জেলা বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। বলেন, "ওই পরিবারের সদস্যদের হাইজ্যাক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এভাবে বিজেপি-কে আটকানো যাবে না।"
এর আগে গতবছর মে মাসে নকশালবাড়িতে এক আদিবাসী পরিবারে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন অমিত শাহ। ওই আদিবাসী দম্পতি রাজু মাহালি ও গীতা মাহালিকে দলে যোগ দেওয়ায় তৃণমূল। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি গৌতম দেব। তাঁদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

No comments:
Post a Comment