এবার দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার। ফের সংশোধনাগারের মধ্যে মাদক পাচারের চেষ্টা। এবার জেলবন্দী প্রেমিককে হেরোইন সরবরাহ করতে গিয়ে ধরে পড়ল কলেজ-ছাত্রী। নাম সুস্মিতা মালাকার। তাকে গ্রেপ্তার করেছে দমদম থানার পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে কয়েক লাখ টাকার হেরোইন। আজ অভিযুক্তকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে। পুলিশ নিজেদের হেপাজতে চাইবে।
আমডাঙা এলাকায় বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ভগীরথ সরদার। সে অনেকদিন ধরেই জেলবন্দী। গতকাল ভগীরথের সঙ্গে দেখা করতে আসে সুস্মিতা। সঙ্গে ছিল পাউডারের বক্স। তার মধ্যে ছিল হেরোইন। বক্স নিয়ে ঢুকতে গেলে কারারক্ষীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা তা আটকান। তদন্ত করে দেখা যায়, বক্সে আছে হেরোইন। এরপর বমাল সুস্মিতাকে গ্রেপ্তার করে দমদম পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হয় ২৮০ গ্রাম হেরোইন।
সুস্মিতা বারাসতের ন’পাড়ার বাসিন্দা। কলকাতার একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার সঙ্গে ভগীরথ সরদারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ভগীরথ আমডাঙা এলাকার দুষ্কৃতী। তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ছটি মামলা রয়েছে। সূত্রের খবর, ভগীরথের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করত সুস্মিতা। ভগীরথের সঙ্গে একটি খুনের মামলায় নাম জড়িয়ে ছিল তারও। কিন্তু, নাগাল পেয়েও তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। বীজপুর থানায় একটি মামলাতেও ফেরার সুস্মিতা। কখনও বোরখা পরে আবার কখনও “লুক চেঞ্জ” করে বারবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েছে সে। কিন্তু, গতরাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়।
সুস্মিতার বাবা সঞ্জয় মালাকার বলেন, “কাল কলেজের নাম করে মেয়ে সকাল ১০টা নাগাদ বেরিয়েছিল। বিকেল থেকে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। বলেছিল, প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরবে। আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়ি আসে। ঢুকছে না দেখে আমরা খোঁজখবর শুরু করি। রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে দত্তপুকুর থানায় মিসিং ডায়েরি করতে যাই। ১২টা নাগাদ দমদম থানা থেকে আমাকে ফোন করা হয়। বলা হয়, মেয়ে নাকি মাদক সরবরাহ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। বিশ্বাস করুন, আমার মেয়ের কোনও বদনাম নেই। কোনও সমস্যা নেই। পড়াশোনা করে ঠিকঠাক। মনে হচ্ছে, কেউ ওকে ফাঁসিয়েছে।” সঞ্জয়বাবু ভগীরথের নাম আগে কখনও শোনেননি বলে জানান। তিনি বলেন, “আগে নাম শুনিনি। কালকের ঘটনা ঘটার পর...শোনার পর থেকে আমরা নাম জানলাম।”

No comments:
Post a Comment