সর্বস্তরে বাসের ভাড়া ১ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ট্যাক্সি ও জলপথেও যাত্রীভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাস মালিকদের সংগঠন ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। তারপরেই আজ বাসের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। একদিকে, ভাড়া বৃদ্ধির জন্য রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা দায়ী করেছেন রাজ্য সরকারকেই। তাদের মতে, রাজ্য সরকার যদি পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর কর বা সেস কমাত তাহলেই বাসভাড়া বাড়ানোর দরকার পড়ত না।
বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "এটা খুবই খারাপ। এটা রাজ্য সরকারের অপদার্থতা। শুধু লোকের ঘাড়ে বোঝা চাপানোর প্রচেষ্টা। বামফ্রন্টের মতো তেলের দামের উপর বাড়তি কর তুলে নিলেই পারত। তাহলে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে বোঝা চাপত না।"
বাসভাড়া বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বলেন, "পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বাড়লে বাসের ভাড়া তো বাড়াতে হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির ফলে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। পেট্রল, ডিজ়েলের দাম কেন্দ্রীয় সরকার অস্বাভাবিকভাবে বাড়াচ্ছে, তার উপর রাজ্য সরকার আবার অস্বাভাবিকভাবে কর চাপিয়েছে। ফলে অগ্নিমূল্য হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। রাজ্য যদি পেট্রোল ও ডিজ়েলের দামের উপর চাপানো বর্ধিত করগুলি মকুব করে দিত তাহলে আর বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হত না। রাজ্য সরকার সবটাই কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেবে, এটা নিন্দনীয়।"
অন্যদিকে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “রাজ্য যদি পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর থেকে সেস কমিয়ে দিত তাহলে তেলের দাম কমত। এরাজ্যে তেলের দামের উপরে সেস সবচেয়ে বেশি। ওঁনার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাজস্ব আদায় নাকি হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে। তেলের দামের উপর রাজ্যের তরফে চাপানো বাড়তি কর ছেড়ে দিলেই তো হত। তাহলে তো বাসের ভাড়া বাড়াতে হত না। ভাড়া বাড়ানো নিয়ে রাজ্য সরকার কোনওভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

No comments:
Post a Comment