ওষুধ ছাড়াই তুকতাক ঝাড়ফুকে রোগ সেরে যাচ্ছে। মন্ত্রপূত তেল ও জল দিয়ে বাতের ব্যাথা বেদনা থেকে পেটের অসুখ। সব কিছুই সাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে চলছে বুজরুকি। প্রায় দেড়
মাস ধরে এহেন বুজরুকি দেখিয়ে ভালই প্রসার জমিয়েছিল এক দম্পতি। শনিবার ভদ্রেশ্বর থানার বিঘাটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এক পাশে প্রার্থনা শিবির খুলে জাকিয়ে বসে ছিল এই কারবার। সৌজন্যে স্বামী ও স্ত্রী, সুসীম
কোটাল ও তার স্ত্রী রীনা কোটাল। সরকারি
স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কুঃসংস্কার ও বুজরুকির খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়ে চড়ে
বসে প্রশাসন। জেলা মূখ্য
স্বাস্থ্য আধিকর্তার নির্দেশে ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ সেখানে যেতেই পাততাড়ি গুটিয়ে কেটে পরে তারা। পরে সেখানে হাজির হয় পশ্চিমবঙ্গ বিঞ্জান মঞ্চের সদস্যরা। তারা সাফ জানিয়েছেন, কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে হাতিয়ার করে লোক ঠকাচ্ছিলেন স্বামী ও স্ত্রী। এর পিছনে কোন চিকিৎসা বিঞ্জান নেই।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিঘাটির উপস্বস্থ্য কেন্দ্রে মাস দেড়েক ধরে
ধর্মীয় শিবির করছেন স্বামী ও স্ত্রী। ধর্মীয় উপাসনার পরে তেল ও জল মন্ত্রপূত করে অসুস্থদের শরীরে মাখিয়ে দিতেই
তাদের ব্যথা বেদনা সাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে প্রচার করছিলেন একাংশের মানুষজন। সেই
সঙ্গে চলছিল ধর্মীয় লিফলেট বিলি। গ্রামের
একাংশের মানুষের অন্ধ বিশ্বাস আর কুঃসংস্কার কে কাজে লাগিয়ে ওই দম্পতি সপ্তাহে
একদিন করে শিবির করছিলেন। সেখানে
মানুষজনেরা গিয়ে নিজেদের মতো অর্থ দান করছিল। অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের কোন নির্দেশ ছাড়াই উপস্বাস্থ্য
কেন্দ্রের ভিতরে এভাবেই চলছিল কারবার। এদিন প্রশাসন খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে। গোটা ঘটনাটি নিয়ে
ভদ্রেশ্বর থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করছে।

No comments:
Post a Comment