চাঁদনী,পূর্ব মেদিনীপুর: ইংরেজিতে প্যারোট ফিশ। মাছটি দেখলে মনে হবে কোনও চিত্রশিল্পী হয়তো একে ধরে ইচ্ছেমতো রঙ মেখে দিয়েছেন। এর এ সৌন্দর্য তোতাপাখির চেয়ে কোনো দিক দিয়েই কম নয়। সেজন্যই সম্ভবত এর নাম তোতামাছ বা প্যারোট ফিশ হয়েছে। সোমবার মাছটি দিঘা মোহনায় মৎস্যজীবীদের জালে উঠেছে।
সৌন্দর্যের সাথে সাথে তোতামাছের কিছু মজাদার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর প্রধান খাবার শৈবাল। এ শৈবাল এরা প্রবাল থেকে টেনে বের করে। অনেক সময় এরা শৈবালসমৃদ্ধ পলিপ (প্রবালের অংশ) সংগ্রহ করার জন্য প্রবাল চূর্ণ করে। এ কাজে এরা এদের পেষণ দাঁত ব্যবহার করে। দাঁত দিয়ে এরা অনেক ছোট ছোট উদ্ভিদও উপড়ে ফেলতে পারে।
পুরুষ তোতামাছ একটি হারেম গঠন করে। হারেমে কয়েকটি স্ত্রী-মাছ থাকে। অবাক করা বিষয় হলো, পুরুষটি মারা গেলে যেকোনো একটি স্ত্রী-মাছ তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে, রঙ পরিবর্তন করে এবং এটি প্রভাব বিস্তারকারী পুরুষে পরিণত হয়।
তোতামাছের আরেকটি মজার বিষয় হলো, এরা নিজেদেরকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখে। প্রতি রাতে এরা এদের মাথার একটি অংশ থেকে নিঃসৃত মিউকাস দিয়ে দেহকে আবৃত করে রাখে। এটা অনেকটা রেশমগুটির মতোই। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এরা এভাবে এদের দেহের ঘ্রাণকে আড়াল করে রাখে, যাতে নিশাচর শিকারি প্রাণী আক্রমণ করতে না পারে।
তোতামাছ এক থেকে চার ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এদের সুখাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পলিনেশিয়ায় এদেরকে কাঁচা খাওয়া হয়। একসময় এ দেশে তোতামাছকে রাজকীয় খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। শুধু রাজাই খেতেন এ মাছ।

No comments:
Post a Comment