অরিন্দম হরি : প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সঙ্গে দারিদ্রতা এই উভয় সংকট অতিক্রম করে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৪৩ নম্বর ছিনিয়ে মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করে সন্দেশখালির রাজবাড়ি গ্রামের দীপ্তি পাত্র। সন্দেশখালির শিমূলআটি ফুলমনি আদর্শ বিদ্যামন্দির এর সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী দীপ্তি পাত্রই ব্লকের সম্ভাব্য প্রথম। প্রাপ্ত নম্বর ৮৮ শতাংশ যা দেখে উচ্ছসিত গ্রামবাসী থেকে আত্মীয় মহল।
টালির চালে ছাওয়া মাটির বাড়িতেই দীর্ঘ পড়াশুনার পথ অতিক্রম করে সাফল্য ছিনিয়েছে দীপ্তি। বাবা কর্মসূত্রে খেতমজুর, যতসামান্য আয়ে চলে সংসার। এই সাফল্যের কারিগর হিসাবে দীপ্তি বেশি কৃতিত্ব দিয়েছে গৃহ শিক্ষকদের। যানা যায় তিনজন গৃহ শিক্ষকের সহায়তায় এই ফলাফল, এদের মধ্যে কেউ বিনা পারিশ্রমিকেই শিক্ষা দান করেছে মাসের পর মাস । একদা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত গান শিখেছে, কিন্তু সংসারের অভাবের তাড়নায় আজ সেসব অতিত। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে আজ আবার স্বপ্ন দেখছে দীপ্তি, ভবিষ্যতে গান নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে কিন্তু বাদ সাজছে সেই দারিদ্রতা। বর্তমানে গান নিয়েই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার চর্চা করার ইচ্ছা যানায় সে। এখন দেখার আর্থিক সংকট ভেদ করে দীপ্তির ব্যাপ্তি কতদূর যেতে পারে।


No comments:
Post a Comment