১৯৫৮ এর পর ২০১৮। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পর্বেই এভাবে লজ্জার হারের শিকার হল আর্জেন্টিনা। নিজেদের দেশে -বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফ্যানের স্বপ্নকে একেবারে দুঃস্বপ্নে পরিণত করে দিলেন মেসি-আ্যগুয়েরো-হিগুয়েনরা।
কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পরই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নেন তিনি। বিশ্বকাপের যোগ্যাত অর্জন পর্বের ডু অর ডাই ম্যাচে মেসি ম্যাজিকেই মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল তারা।
তবে যোগ্যতা অর্জন পর্বের সেই নড়বড়ে পারফরম্যান্সই যে মূল পর্বেও থেকেও যাবে তা ভাবেননি বোধহয় অতিবড় আর্জেন্টিনা বিদ্বেষীও। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে দুঃস্বপ্ন উপহার দিলেন মেসিরা। নড়বড়ে ডিফেন্স, প্রপার কনভার্টারের অভাব ভোগালো দলকে আর যার ফল স্বরূপ ৬০ বছর বাদে বিশ্বকাপের মঞ্চে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরে গেল তারা। এর আগে ১৯৫৮ সালে তদানীন্তন চেকোশ্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে ৫-১ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা ৷
এদিকে বিশ্বকাপের বিদায় ঘণ্টা কার্যত বেজে গেছে এই অবস্থায় মেসির আরও একবার অবসর নেওয়ার কথা সর্বত্র। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাক্তন ফুটবলার সকলেরই মত বিশ্বকাপ শেষেই হয়তো নিজের জাতীয় দলের জার্সিতে ইতি টানবেন মেসি।
বিশ্বকাপের অন্যতম সর্বকালীন সেরা মেসির জাতীয় দলের জার্সিতে হাত ফাঁকা রেখেই হয়তো কেরিয়ারে ইতি টানতে হবে। মেসিকে বারংবারই মারাদোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। ১৯৮৬ তে কার্যত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ তুলে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। আর মেসির শেষটা যদি এভাবে হয় তাহলেও কিন্তু তার বড় কষ্টের ম্যাজিশিয়ানের নিজের জন্য, আর তার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ফ্যানেদের জন্য।

No comments:
Post a Comment