পোল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে সেনেগাল। আর কলম্বিয়াকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সূচনা করে জাপান। এ ম্যাচে যে দল জিতত, সেই দলই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেত।
তবে সেই আশা কারও পূরণ হলো না। জাপান-সেনেগালের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ফলে দুই দলেরই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার অপেক্ষা বাড়ল।
ইয়েকাতেরিনবুর্গ স্টেডিয়ামে জাপান-সেনেগাল ম্যাচটি শুরু হয় রাত ৯টায়। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই ১-১ গোলের সমতায় ছিল। ম্যাচের ১১ মিনিটের মাথায় প্রথম লিড নেয় সেনেগাল। মুসা ওয়াগুইয়ের দারুণ শট রুখে দিয়েছিলেন জাপানের গোলরক্ষক ইজি কাওয়াসিমা। তবে, বল নিজের গ্লাভসবন্দি না করার মাশুল দিতে হয়েছিল। তার সামনেই থাকা লিভারপুলের তারকা সাদিও মানের পায়ে লেগে বল জালে জড়ায়। ১-০ তে লিড নেয় সেনেগাল।
ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে সমতায় ফেরে এশিয়ার দেশ জাপান। স্প্যানিশ ক্লাব এইবারে খেলা ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার তাকাশি ইনুই গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এই স্কোরেই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচের ৭১ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয়বার লিড নেয় আফ্রিকান দেশ সেনেগাল। ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ডের হয়ে খেলা ২৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মুসা ওয়াগুই দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন। দ্বিতীয়বার সমতায় ফিরতে দেরি হয়নি জাপানের। ৩২ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কেইসুকি হোন্ডা সমতাসূচক গোলটি করেন (২-২)। বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।
এর আগে এই গ্রুপের প্রথম ম্যাচের তিন মিনিটেই কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার কার্লোস সানচেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সেই ম্যাচে ১০ জনের কলম্বিয়া দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়েছিল জাপান। সেই জয়ে দারুণ এক রেকর্ড গড়ে জাপান। দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের সঙ্গে বিশ্বকাপে এশিয়ার কোনো দেশের সেটাই ছিল প্রথম জয়। সেই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের স্বপ্নটাও পূরণ করেছিলেন জাপান স্ট্রাইকার ইউয়া ওসাকো।
আট বছর আগেও এশিয়ার তো বটেই, বিশ্বকাপেও সমীহ জাগানো শক্তি ছিল জাপান। তার কিছুটা এখনো আছে। তবে গত বিশ্বকাপেও যারা ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন, সেই শিনজি ওকাজাকি, কেইসুকে হোন্ডা, শিনজি কাগাওয়া আগের মতো ফর্মে নেই। নীল সামুরাইদের এবার বড় কিছু আশা করতে হলে প্রার্থনাই করতে হবে। তার চেয়েও বড় সংকট, বিশ্বকাপের মাত্র মাস দুয়েক আগে দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন কোচ। ১৯৯৮ সালে প্রথম অংশগ্রহণের পর বিশ্বকাপে ৫ বার অংশ নিয়ে জাপানের সেরা অর্জন ২য় রাউন্ড (২০০২, ২০১০)।
আর ২০০২ সালে বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়ে সেবারই বাজিমাত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল সেনেগাল। এবারের শুরুটা হয়েছে বেশ জমজমাট। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফেভারিট পোল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় ২০০২ বিশ্বকাপের অধিনায়ক থাকা আর এবারের বিশ্বকাপে কোচ ভূমিকায় থাকা অ্যালিও সিসের ছাত্ররা। এবারের বিশ্বকাপে তাই বড় কিছুর আশা দেখতেই পারে ৪২ বছর বয়সী কোচ অ্যালিও সিসের সেনেগাল। আক্রমণে সাদিও মানে নিজের সেরা সময় কাটাচ্ছেন লিভারপুলে, তুলনা করা হচ্ছে এল হাজি জিওফের সঙ্গে। সাখো, কোয়েটারাও প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলছেন। রক্ষণে নাপোলির কাইদু কুলিবালি এই মুহূর্তে ইউরোপের সেরাদের একজন। এখন সেনেগালের পরের ম্যাচে কলম্বিয়া কতটুকু কী করতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। জাপানের প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড। ২৮ জুন সময় রাত সাড়ে ৭ টায় মাঠে নামবে এই চার দল।

No comments:
Post a Comment