কালো টাকা অভিযান: মোদী লড়াই সুইস ব্যাঙ্কে - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 29 June 2018

কালো টাকা অভিযান: মোদী লড়াই সুইস ব্যাঙ্কে



সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের গচ্ছিত টাকার পরিমাণ বাড়ল ৫০ শতাংশ। ২০১৭ সালে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই তথ্য প্রকাশ করল সুইস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। মোদি সরকারের কালো টাকা বিরোধী অভিযানের পর ৩ বছর ধরে সুইস ব্যাঙ্কে টাকা জমানোর প্রবণতা কমে গেছিল। এবার তা ৫০ শতাংশে বেড়ে দাঁড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কালো টাকা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নের মুখে পড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দাবি করেন, সুইৎজারল্যান্ড থেকে কালো টাকা সংক্রান্ত সব তথ্য ২০১৯ অর্থবর্ষের শেষ দিকে পাওয়া যাবে।সুইস ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাঙ্কে বিদেশি গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকার পরিমাণ প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ লাখ কোটি টাকা।

যদিও কালো টাকার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অভিযান চলছে। কালো টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর নোটবাতিলের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে সরব হন বিরোধীরা। কিন্তু, এই সিদ্ধান্তের জেরে প্রচুর পরিমাণ কালো টাকা উদ্ধার হয়েছে। অন্তত এমনটাই দাবি কেন্দ্রের। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের এই অভিযান ঘিরে ফাঁপরে পড়ে কালো টাকার কারবারীরা। ৩ বছরে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের টাকা জমানোর পরিমাণও কমে যায়। ২০১৬ সালে সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে ৪৫ শতাংশ। ১৯৮৭-র পর এই হ্রাস এতটাই উল্লেখযোগ্য যে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়।

এদিকে তিন বছর ধরে সুইস ব্যাঙ্কে অর্থ জমার পরিমাণ কমে যাওয়ার পর অনেকেই বলতে শুরু করেন, যেসব ভারতীয়র ওই ব্যাঙ্কে কালো টাকা ছিল, বিপদ বুঝে তাঁরা সেখান থেকে তা সরিয়ে নিয়েছেন। সুইস ব্যাঙ্কও দাবি করে, সিঙ্গাপুর এবং হংকঙের তুলনায় সুইস ব্যাঙ্কে অল্পই সঞ্চিত অর্থ রয়েছে ভারতীয়দের। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্র কালো টাকা নিয়ে প্রমাণ জোগাড় করতে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম(SIT) করেছে। সুইৎজ়ারল্যান্ড সহ বিদেশে সঞ্চিত টাকা নিয়েও তারা তদন্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের টাকা জমার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে।

তবে কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “আমরা সব তথ্য পেয়ে যাব। যদি কাউকে দোষী পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন কারও দেশের বাইরে টাকা জমানোর ক্ষমতা নেই। এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের কঠোর পরিশ্রমের কারণে।” শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, “২০১৮-র ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯-এর ৩১ মার্চের মধ্যে সব তথ্য নিয়ে ভারত ও সুইৎজ়ারল্যান্ডের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। তাই কেন এটাকে(নতুন তথ্য বা রিপোর্ট) কালো টাকা বা বেআইনি লেনদেন ভাবা হচ্ছে?” 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad