প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরহিত্যে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। রাষ্ট্রপতি ভবনে বৈঠকটি হয়। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গভর্নিং কাউন্সিল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে পারে।”
শুরুতেই উঠে আসে বন্যাবিধ্বস্ত রাজ্যগুলির প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী মোদি আশ্বস্ত করেন, কেন্দ্রীয় সরকার বন্যাবিধ্বস্ত রাজ্যগুলিকে সবরকম সাহায্য করবে। ত্রিপুরা, অসম, মিজোরাম, মণিপুর - উত্তর পূর্বের এই চার রাজ্য বন্যার জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রধানমন্ত্রী তাদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের যে জটিল সমস্যাগুলি রয়েছে তার সমাধানে একসঙ্গে “টিম ইন্ডিয়া” হিসেবে কাজ করে চলেছে নীতি আয়োগ। গণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো মেনে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। আমরা একসঙ্গে কাজ করিও।” প্রমাণস্বরূপ তিনি গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত মিশন, ডিজিটাল ট্রানজাকশন, স্কিল ডেভেলপমেন্টের মতো বিষয়ে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।”
দেশের অর্থনৈতিক হাল যে ফিরছে সেদিকেও ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে আর্থিক অগ্রগতির হার ৭.৭ শতাংশ। আমাদের এই হারকে ডবল ডিজিটে নিয়ে যেতে হবে। এরজন্য, আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের ক্ষমতা, শক্তি ও সম্পদ কোনওটাই কম নেই। ঠিকমতো প্রয়োগ জরুরি। তাহলেই হবে।” তিনি আরও বলেন, “চলতি আর্থিক বর্ষে রাজ্যগুলিকে মোট ১১ লাখ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।” এই পরিমাণ UPA সরকারের থেকে অনেকটাই বেশি। ওই সরকার বিগত সময়ে ৬ লাখ কোটি টাকা প্রদান করেছিল।
নীতি আয়োগের বৈঠকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু তুলে ধরেন স্পেশাল ক্যাটেগরি স্ট্যাটাসের (SCS) প্রসঙ্গ। তিনি রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যগুলিকে জনসংখ্যার অনুপাতে অর্থ বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্ল্যানিং কমিশন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে রাজ্যের জনসংখ্যা যত বেশি, বরাদ্দও তত বেশি হবে। আজ নীতি আয়োগের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেশের জনসংখ্যা কমানোর জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। জনসংখ্যা কমানোর জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ায় সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেকটাই কমেছে। কিন্তু প্ল্যানিং কমিশনের সিদ্ধান্তে কম জনসংখ্যার রাজ্যগুলিতে অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর জেরে রাজ্যের উন্নয়ন ধাক্কা খাচ্ছে। এভাবে রাজ্যগুলিকে ভালো কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।” তাঁর এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এছাড়া, বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশের স্পেশাল ক্যাটেগরি স্টেটাসের (SCS) দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। পাশাপাশি বিহারের জন্যও SCS-এর দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি SCS-এর স্বপক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

No comments:
Post a Comment